বছরের এই সময়ে কৃষি জমির ওপর যেন এক ধরনের থাবা পড়ে। এস্ককেভেটরের থাবায় ক্ষতবিক্ষত হয় হবিগঞ্জের হাওরাঞ্চলের কৃষি জমি। কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না জমির ‘টপ সয়েল’ বিক্রি। পরিবেশ আইন আমান্য করে ও প্রশাসনের প্রতি বৃদ্ধাঙুলি দেখিয়ে যে যার মতো উর্বর ফসলি জমির উপরিভাগ থেকে মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে এসব কৃষি জমি উর্বরতা হারাচ্ছে। পাশাপাশি হুমকির মুখে পড়ছে পরিবেশের ভারসাম্য। ভেঙে যাচ্ছে এলাকার রাস্তাঘাট। অভিযোগ রয়েছে, অসাধু সিন্ডিকেট কৃষকদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে এসব মাটি কিনে বিক্রি করছে ইটভাটাসহ বিভিন্ন স্থানে।
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, জেলার নবীগঞ্জ, চুনারুঘাট, শায়েস্তাগঞ্জ, আজমিরীগঞ্জ, বানিয়াচং, বাহুবল, লাখাই ও মাধবপুর ও সদর উপজেলায় দেদার চলছে কৃষি জমি থেকে মাটি বিক্রি। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত হাওরে লেগে আছে ট্রাক-ট্রাক্টরের দীর্ঘ লাইন। ফসলি এসব জমি থেকে এস্ককেভেটরের মাধ্যমে মাটি কেটে পরিবহন করা হচ্ছে ট্রাক্টরে। আর এসব মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়। এসব কাজে জড়িত রয়েছে অসাধু সিন্ডিকেট। প্রতি ট্রাক্টর মাটি তারা ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায় কৃষকদের কাছ থেকে ক্রয় করে বিক্রি করে দিচ্ছে ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকায়। কৃষি অফিসের দেওয়া তথ্যমতে, জমির উপরিভাগের ছয় থেকে ১০ ইঞ্চিতে জৈব পদার্থ বিদ্যমান থাকে। উপরিভাগ কাটার ফলে জমির ফসল উৎপাদনের ক্ষমতা হ্রাস পায়। তাই সেগুলো কাটা অথবা বিক্রি করা যাবে না। তবুও অসাধু চক্রের ফাঁদে পড়ে সামান্য কিছু টাকার জন্য জমির উপরিভাগের মাটি বিক্রি করে দিচ্ছেন সাধারণ কৃষকরা। যদিও কৃষকরা বলছেন, কিছু জমি পলি মাটি পড়ে ভরাট হয়ে গেছে। সেই সব জমি থেকে উপরিভাগের মাটি কাটতে দিচ্ছেন তারা। তাদের ভাষায়, এতে একদিকে যেমন কিছু টাকা পাওয়া যায়। একইভাবে জমিও কিছুটা নিচু হয়। এতে জমিতে বেশি সেচ দিতে হয় না। এদিকে, কৃষি জমির উপরিভাগ থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটায় মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে জেল-জরিমানা করছে উপজেলা ও জেলা প্রশাসন। তবে এই অভিযান কোনো কাজেই আসছে না। সকালে অভিযান চালিয়ে জেল-জরিমানা দিলেও বিকালেই একই জায়গা থেকে কাটা হচ্ছে মাটি। রাতে ট্রাক-ট্রাক্টরে মাটি নেওয়া হয় বিভিন্ন স্থানে। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জুল সোহেল বলেন, আমাদের এলাকার বেশির ভাগ মানুষই কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কৃষি কাজের অন্যতম উপকরণ জমি। জমির উর্বরতা না থাকলে পর্যাপ্ত পরিমাণ ফসল উৎপাদন হয় না। সামান্য কিছু টাকার জন্য প্রতারণার ফাদে পড়ে জমির উপরিভাগের মাটি বিক্রি না করার জন্য কৃষকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। মাধবপুরের ইউএনও জাহিদ বিন কাশেম বলেন, জমির উপরিভাগের মাটি কাটা প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসন তৎপর। খবর পাওয়া মাত্র অভিযান চালানো হচ্ছে। যারাই অবৈধ কর্মকান্ড করবে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। নবীগঞ্জের ইউএনও অনুপম দাস অনুপ বলেন, ইতোমধ্যে কয়েকটি অভিযান চালিয়ে জরিমানা করা হয়েছে।