রাজধানীর মিরপুরে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে ‘গরিব-পথশিশুদের ডাক্তার’ হিসেবে পরিচিত দন্ত চিকিৎসক আহমেদ মাহি বুলবুল হত্যার তিন বছর পার হলেও এখনো শেষ হয়নি বিচার। কবে নাগাদ শেষ হবে তা-ও বলতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা। আদালত সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে মামলাটি ঢাকার ১৩তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ কুদরত-এ-এলাহীর আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। সর্বশেষ ২৬ জানুয়ারি মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে ওইদিন কোনো সাক্ষী আদালতে হাজির হননি। এজন্য আদালত আগামী ১৬ এপ্রিল সাক্ষ্যগ্রহণের পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ জানান, ‘এ পর্যন্ত পাঁচজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। আশা করি দ্রুত বিচার শেষ হবে।’
নিহত ডা. বুলবুলের স্ত্রী শাম্মী আক্তার বলেন, ‘বর্তমানে দুই ছেলেমেয়ে নিয়ে বাবার বাড়ি দিনাজপুরে আছি। বড় ছেলে ক্লাস ফোর ও মেয়ে প্লেতে পড়ালেখা করে।’
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২৭ মার্চ ভোর সোয়া ৫টার দিকে নোয়াখালীর উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বেরিয়ে শেওড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ড যাওয়ার জন্য রিকশাযোগে রওনা হন বুলবুল। সাড়ে ৫টার দিকে পশ্চিম কাজীপাড়ার নাভানা ফার্নিচার শোরুমের সামনে মেইন রাস্তার ওপর পৌঁছালে আসামি রিপন ও রাসেল রিকশার গতি রোধ করে বুলবুলকে যা আছে দিয়ে দিতে বলেন। নইলে সঙ্গে থাকা ছুরি দিয়ে আঘাত করার ভয় দেখান। বুলবুল মোবাইল ফোন দিতে না চাওয়ায় রিপন তাঁর ঊরুতে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করেন এবং মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যান। বুলবুল গুরুতর জখম অবস্থায় রাস্তায় পড়ে যান। তাকে উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। একই বছরের অক্টোবরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন পাঁচ ছিনতাইকারীর নামসহ আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
পরের বছর ২৫ মে আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। মামলার আসামি মো. রায়হান ওরফে সোহেল আপন, রাসেল হোসেন হাওলাদার, আরিয়ান খান হৃদয়, সোলায়মান ও রিপন। তারা সবাই কারাগারে আছেন।