রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) কার্যালয়ে করতোয়া কুরিয়ার সার্ভিসের কর্মীদের নেতৃত্বে লাঠিসোঁটা দিয়ে হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে ডিআরইউর ক্যান্টিনের তিন কর্মচারী গুরুতর আহত হয়েছেন। তারা হলেন- ডিআরইউ ক্যান্টিনের স্টাফ বাবুল, জহির ও রবিউল। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে শাহবাগ থানা পুলিশ। গতকাল সকালে ডিআরইউ কার্যালয়ে এ হামলার ঘটনা ঘটে। পরে আহত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে, এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ডিআরইউ, বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) এবং ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ)। গতকাল ডিআরইউ কার্যনির্বাহী কমিটির পক্ষ থেকে সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল; ক্র্যাব কার্যনির্বাহী কমিটির পক্ষ থেকে সভাপতি মির্জা মেহেদী তমাল ও সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশা এবং ইআরএফ কার্যনির্বাহী কমিটির পক্ষ থেকে সভাপতি দৌলত আকতার মালা ও সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম হামলার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তারা অনতিবিলম্বে ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
ডিআরইউর সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, করতোয়া কুরিয়ার সার্ভিসের এক কর্মচারী আবদুর রহমানের নেতৃত্বে শতাধিক দুর্বৃত্ত লাঠিসোঁটা দিয়ে ডিআরইউ স্টাফদের ওপর হামলা করে। এ সময় বাধা দিতে গেলে সিনিয়র সাংবাদিকরাও হামলার শিকার হন। কেন হামলা করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে (ডিআরইউ কার্যালয়) শুধু সাংবাদিকদের জন্য টিসিবির পণ্য ক্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে আগে থেকেই টোকেন দেওয়া হয়। এসব টোকেনের একটি কারও মাধ্যমে করতোয়া কুরিয়ার সার্ভিসের এক কর্মীর কাছে চলে গেছে। তারা এটাকে নকল করে ৫০টি টোকেন তৈরি করে টিসিবির পণ্য নিতে আসেন। সময় আমাদের একজন স্টাফ বাবুল বিষয়টি হাতেনাতে ধরে ফেলেন। পরে তাদের এখানে আর পণ্য নিতে না আসার জন্য বলা হয়। সেই ক্ষোভ থেকে আজ পল্টনে করতোয়া কুরিয়ার অফিসের সামনে ডিআরইউ স্টাফ বাবুলকে মারধর করে। পরে তারা শতাধিক মানুষ নিয়ে ডিআরইউ কার্যালয়ে এসে হামলা চালায়। হামলায় বাবুলসহ তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ডিএমপির শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ খালিদ মনসুর জানান, ডিআরইউ স্টাফদের ওপর হামলা ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।