সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরে হাই কোর্টের আদেশ বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। হাই কোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ নিজেদের করা আবেদন প্রত্যাহার করে নেওয়ায় গতকাল বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন। এর ফলে মামলাটির বিচার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে চলতে আর কোনো বাধা রইল না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আরশাদুর রউফ। রিটের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার আবদুল কাইয়ুম, ব্যারিস্টার ওমর ফারুক ও ব্যারিস্টার কামরুন মাহমুদ দীপা। ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে ছাত্রলীগের কিছু নেতা-কর্মী। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামী বাদী হয়ে শাহ পরান থানায় মামলা করেন। মামলায় আটজনকে অভিযুক্ত করে একই বছরের ৩ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।
পরে ২০২২ সালের ১ আগস্ট দুই অভিযোগের বিচার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করার নির্দেশনা চেয়ে রিট করা হয়। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ১৬ আগস্ট ধর্ষণের এ মামলার বিচার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে করার নির্দেশনা কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাই কোর্ট। রুলের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে একই বছর ১৫ ডিসেম্বর মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন হাই কোর্ট। বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। পরে এই আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।