ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষায় হিজাব-নিকাব পরা নিয়ে বিড়ম্বনার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিভাগটির ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের এক নারী শিক্ষার্থী। এরপর গতকাল উপাচার্যের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ডিনস কমিটির সভায় হিজাব ও নিকাব পরা ছাত্রীদের পরিচয় শনাক্তকরণের বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও গোপনীয়তা বিবেচনায় রেখে নারী শিক্ষক, নারী কর্মকর্তা ও নারী কর্মচারীদের মাধ্যমে এটি করা হবে। ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ডিনস কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছাত্রীদের পরিচয় শনাক্তকরণের জন্য প্রয়োজনে নারী সহকারী প্রক্টরের সহযোগিতা নেওয়া হবে।
এ ছাড়া পরিচয় শনাক্তকরণের জন্য বায়োমেট্রিক সিস্টেম চালুর সম্ভাব্যতার বিষয়টি যথাসময়ে যাচাই করা হবে বলেও জানানো হয়।
বিড়ম্বনার শিকার ঢাবির বাংলা বিভাগের নারী শিক্ষার্থী সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষায় হিজাব-নিকাব পরা নিয়ে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। এ নিয়ে গতকাল সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। কাউকে দায়ী না করে সম্পূর্ণ সিস্টেমের বিচার চেয়ে ৩টি দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।
তার দাবিগুলো হলো- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পরীক্ষা ও ভাইভায় সনাতনী পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের চেহারা দেখে শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হবে; বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শনাক্ত করতে হবে; বায়োমেট্রিক পদ্ধতি চালু করার পূর্ব পর্যন্ত নারী শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ও ভাইভায় নারী শিক্ষিকার মাধ্যমে শনাক্ত করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে; ইতিপূর্বে নারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘটিত প্রতিটি নিপীড়ন ও হেনস্তার যথাযথ তদন্তসাপেক্ষে সব নিপীড়কের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, পরীক্ষা শুরুর পর স্যার খাতা সাইন করার সময় তার মুখ দেখতে চেয়েছিলেন এক পুরুষ শিক্ষক। পরে যদিও এক নারী শিক্ষক এসে তার মুখ দেখে পরিচয় শনাক্ত করেন, তবে ভবিষ্যতে তাকে পুরুষ শিক্ষকদের মুখ দেখানো নিয়ে আপত্তি না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। মূলত বাংলা বিভাগের পরীক্ষা ও ভাইভার নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষকরা তাকে এমন নির্দেশ দেন বলে জানান তিনি। ফলে বিভাগের পরীক্ষা ও ভাইভায় নারী শিক্ষার্থীদের পরিচয় শনাক্তকরণ নিয়মের পরিবর্তন চান তিনি।
এ বিষয়ে বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমরা তো নিয়মের বাইরে যেতে পারব না। আমি ওকে সেরকম কিছুই বলিনি। আমি শুধু বলেছি ভাইভায় তুমি কী করবে? তোমার জন্য কি শিক্ষকরা বের হয়ে যাবেন? এটা বলে আমি চলে আসি এবং আমাদের একজন নারী শিক্ষক মেয়েটির খাতায় স্বাক্ষর করেন।
এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্বাধীনতা ও গোপনীয়তা বিবেচনায় রেখে নারী শিক্ষক, নারী কর্মকর্তা ও নারী কর্মচারীদের মাধ্যমে হিজাব পরিহিত ছাত্রীদের পরিচয় শনাক্তের নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।