গুরুত্বপূর্ণ ১১টি বিষয় পরিবর্তন করে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের খসড়াটি নতুন করে সাজানো হয়েছে। প্রথম খসড়ায় থাকা বিতর্কিত ও সমালোচিত সব বিষয় আপাতত বাদ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অধ্যাদেশটি আরও যুগোপযোগী করতে জনমত নেওয়ার জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অংশীজনদের মতামত নেওয়া হবে। নতুন খসড়ায় যোগ করা হয়েছে গ্লোবাল থ্রেট ইন্টেলিজেন্স ও জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা অপারেশন সেন্টার। হালনাগাদ খসড়ায় কিছু বিষয় নতুন করে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। পাশাপাশি কিছু বিষয়ে সংজ্ঞা পরিমার্জন করা হয়েছে। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে করা সাইবার নিরাপত্তা আইনের নয়টি ধারা বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চারটি ছিল ব্যাপক বিতর্কিত। যেগুলো ব্যবহার করে হয়রানি করা হতো।
নতুন খসড়া প্রসঙ্গে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ইতোমধ্যে টিআইবিসহ বিভিন্ন সাংবাদিক, গণমাধ্যমকর্মী এবং সুশীলসমাজের মতামত প্রাধান্য দিয়ে এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পরামর্শে ‘সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ’-এর খসড়া হালনাগাদ করা হয়েছে।
যেসব পরিবর্তন আনা হয়েছে : হালনাগাদ খসড়ায় যেসব পরিবর্তন আনা হয়েছে সেগুলো হচ্ছে-প্রস্তাবিত অধ্যাদেশের মোট ধারার সংখ্যা ৫১টি। আগে ছিল ৫২টি। প্রস্তাবিত খসড়ার ধারা ২-এ কয়েকটি নতুন সংজ্ঞা সংযোজন এবং উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সংজ্ঞা পরিমার্জন করা হয়েছে। যেমন গ্লোবাল থ্রেট ইন্টেলিজেন্স, জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা অপারেশন সেন্টার ইত্যাদি। গ্লোবাল থ্রেট ইন্টেলিজেন্স সম্পর্কে বলা হয়েছে-এটা এমন একটি কর্মপ্রক্রিয়া বা পদ্ধতি যার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অবকাঠামোর সাইবার নিরাপত্তা, অর্থনীতি, স্বাস্থ্য এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার খাতে বৈশ্বিক হুমকি এবং ঝুঁকির তথ্য ও লগ সংগ্রহ, বিশ্লেষণ এবং রিপোর্ট করা হয়। এর উদ্দেশ্য হলো সঠিক এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য রিপোর্ট করা, সাইবার ডিফেন্স ও কৌশল সমাধান প্রস্তাব করা যা ব্যক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এজেন্ট, প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রকে এসব হুমকির বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সহায়তা করে। অন্যদিকে জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা অপারেশন সেন্টার (এনএসওসি) সম্পর্কে বলা হয়েছে-এটি জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো যেমন বিদ্যুৎ, জ্বালানি, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যাংকিং, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সরকারি ডেটা সিস্টেমের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে। সাধারণত সাইবার হুমকি শনাক্ত, প্রতিরোধ, মোকাবিলা এবং পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য বিশ্লেষণ পরিচালনা করে।
এটি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সাইবার আক্রমণ, সাইবার সন্ত্রাসবাদ এবং ক্রিটিক্যাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার লক্ষ করে পরিচালিত আক্রমণগুলোর প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি এটি আন্তর্জাতিক সাইবার নিরাপত্তা অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করে এবং সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে সহায়তা করে। এ ছাড়া এনএসওসি একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে কাজ করতে পারে।
অন্যান্য পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে, প্রস্তাবিত খসড়া যুগোপযোগী করার প্রয়োজনে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ধারায় সংশোধন আনা হয়েছে। ধারা-১২-তে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিল পুনর্গঠন করা হয়েছে। ধারা-১৮(১) (গ) এবং ১৮(২) (গ)-এ অপরাধ ও দ নতুনভাবে যোগ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত অধ্যাদেশে অজামিনযোগ্য ধারা মোট চারটি (ধারা ১৭, ধারা ১৮(১) (গ), ধারা ১৯, ২২)। প্রস্তাবিত অধ্যাদেশের ৩০ ধারায় ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক আরোপিত জরিমানা হতে বা জরিমানার অতিরিক্ত অর্থ ক্ষতিপূরণ হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে প্রদানের সুযোগ রাখা হয়েছে। প্রস্তাবিত অধ্যাদেশে ধারা ২০-এ সাইবার স্পেসে জুয়া, ধারা ২৫-এ যৌন হয়রানি, ব্ল্যাকমেলিং বা অশ্লীল বিষয়বস্তু প্রকাশ, ধারা ২৬-এ সাইবার স্পেসে ধর্মীয় বা জাতিগত বিষয়ে ঘৃণা ও বিদ্বেষমূলক তথ্য প্রকাশ ইত্যাদিসংক্রান্ত অপরাধের বিষয়ে নতুন ধারা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধের জন্য ধারা ২৫(৩)-এ আলাদা দ সংযুক্ত করা হয়েছে। প্রস্তাবিত অধ্যাদেশে সাইবার স্পেসে সংঘটিত অপরাধকে গুরুত্ব দিয়ে সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৩-এর ধারা ২১, ২৫, ২৬, ২৯ এবং ৩১ বাদ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অধ্যাদেশের ৪৬ ধারায় আমলযোগ্য, জামিনযোগ্য এবং আপসযোগ্য অপরাধ বিবৃত করা হয়েছে।