শ্রেণিকক্ষ সংকট দূরীকরণসহ স্থায়ী ভবনের দাবিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা।
সোমবার বেলা ১১টার দিকে ইনস্টিটিউটের প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীরা এ অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেয়। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আশ্বাসে কর্মসূচি তুলে নেন তারা।
এসময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার ৮ বছর পরেও পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, অফিসকক্ষ, সেমিনারকক্ষ, ফিল্ম ল্যাব না থাকাসহ আমরা নানা সংকটে ভুগছি। ইনস্টিটিউটের মোট ৭টি ব্যাচের প্রায় ২৬০ জন শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে মাত্র ২টি শ্রেণিকক্ষ। শুধু তাই নয়, বারবার সংস্কারের পরও কক্ষগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। নানা সময়ে প্রশাসনকে তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও তা আমলে নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাদের। এক্ষেত্রে যাবতীয় সংকট দূরীকরণে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হলের জায়গায় নিজেদের স্থায়ী ঠিকানা চান শিক্ষার্থীরা।
তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিভাগের ৪৮ ব্যাচের শিক্ষার্থী সোহেল রানা বলেন, মাত্র দুটো ক্লাসরুম নিয়ে আমাদের ইনস্টিটিউট পরিচালিত হয়ে আসছে। তার মধ্যে একটি কক্ষ একেবারে ছোট। এরকম পরিস্থিতিতে একটা ব্যাচের ক্লাস চললে আরেকটা ব্যাচ পরীক্ষা দিতে পারে না, ক্লাস করতে পারে না। এ সংকট নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো মাথা ঘামাচ্ছে না। আমাদের দাবি, শ্রেণিকক্ষ সংকট সমাধানের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা ও রোড়ম্যাপ দিতে হবে। প্রাথমিকভাবে আমাদের পর্যাপ্ত ক্লাসরুমের ব্যবস্থা করে দিতে হবে। নইলে আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো।
চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাহারা আক্তার লিমা বলেন, ‘ইনস্টিটিউটের বয়স ৮ বছর হয়ে গেছে, এর মধ্যে ৭টি ব্যাচ এসেছে। কিন্তু আমরা মাত্র ২টি শ্রেণিকক্ষে ক্লাস করছি, যা আমাদের জন্য খুবই হতাশার। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় যখন এক ব্যাচের ক্লাস হয়, অন্য ব্যাচ আর ক্লাস করতে পারে না। ফলে আমাদের সেশনজটে পড়তে হয়। এ সংকট দিনদিন আরও বেশি ঘনীভূত হচ্ছে। তাই আমরা চাই আমাদের যেন দ্রুত নতুন ভবনে স্থানান্তর করা হয়।’
ইনস্টিটিউটের চলমান সংকট দূরীকরণে কমপক্ষে চারটি শ্রেণিকক্ষ, দুটি ল্যাব (একটি থিয়েটার ও একটি ল্যাব), একটি সেমিনার রুম, লাইব্রেরি রুম, ২৬ জন শিক্ষকের বসার স্থানসহ ৮ ধরনের চাহিদা তুলে ধরেছেন অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের দাবিগুলো আমরা শুনেছি। আগামী ২০ তারিখ আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে একটি মিটিংয়ের মাধ্যমে তাদের দাবির বিষয়ে একটি স্থায়ী ব্যবস্থা নিতে পারবো।
বিডি প্রতিদিন/এমআই