ধর্ষণের শিকার শিশু আছিয়ার মৃত্যুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গায়েবানা জানাজা ও প্রতীকী কফিন মিছিল করেছে শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার রাত পৌনে আটটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বরে ধর্ষণবিরোধী মঞ্চের ব্যানারে আছিয়ার গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজার নামাজ পড়ান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব তারেকুল ইসলাম। গায়েবানা জানাজায় উপস্থিত হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান বলেন, আছিয়ার মৃত্যু আমাদের নাড়িয়ে দিয়েছে। দ্রুত সময়ে এই ভয়াবহ হত্যার বিচার হবে, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। শিশুটির জন্য পুরো জাতি দোয়া করছে। তার মৃত্যু এই ক্রান্তিকালে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছে, যা এই মুহূর্তে অত্যন্ত প্রয়োজন। আর কোনো শিশু যেন হারিয়ে না যায়। আমাদের বিচারব্যবস্থা ও আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থা সুপ্রতিষ্ঠিত হোক। আছিয়ার মতো আর কোনো মেয়ের যেন এমন পরিণতি না হয়।
জানাজা শেষে শিক্ষার্থীরা একটি প্রতীকী কফিন মিছিল বের করেন। মিছিলটি রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘ফাঁসি ফাঁসি ফাঁসি চাই, ধর্ষকদের ফাঁসি চাই’, ‘আমার বোন কবরে, খুনি কেন বাহিরে’, ‘তুমি কে আমি কে, আছিয়া আছিয়া’, ‘আমার সোনার বাংলায় ধর্ষকদের ঠাঁই নাই’, ‘জাস্টিস, জাস্টিস, উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘রশি লাগলে রশি নে, ধর্ষকদের ফাঁসি দে’, ‘ধর্ষকদের কালো হাত, ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীরা। তারা বলেন, আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, আছিয়ার হত্যার ন্যায়বিচার আমরা প্রতিষ্ঠা করবো। শিশু আছিয়ার ধর্ষণ ও হত্যার বিচার মৃত্যুদণ্ড ছাড়া আর কিছু হতে পারে না। ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এবং তাদের সহযোগীদের আইন অনুযায়ী কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আগামীর বাংলাদেশে ধর্ষণকে কেবল শারীরিক শ্লীলতাহানি হিসেবে নয়, হত্যার সমপরিমাণ নিকৃষ্ট অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
বিডিপ্রতিদিন/কবিরুল