নড়াইলের ঐতিহ্যের ধারক খেজুরগাছের রস থেকে তৈরি নলেন গুড় দিয়ে তৈরি করা বিশেষ মিষ্টিকে বলা হয়, ‘নলেন গুড়ের সন্দেশ’। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে এ খাবারের গুণের কথা পৌঁছে যাচ্ছে ইংল্যান্ড, আমেরিকা, ফ্রান্স, ইতালিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, সৌদি-আরব, দুবাইসহ মধ্যপ্রাচ্যের প্রভৃতি দেশে। এই অঞ্চলের প্রবাসীদের কাছে সরবরাহ হয়ে থাকেন এ গুড়ের সন্দেশ। জানা গেছে, শীত মৌসুমের শুরুতে খেজুরগাছিদের কাছ থেকে দোকানদাররা খাঁটি নলেন রস সংগ্রহ করে থাকেন।
সেই রস থেকেই বিশেষ নলেন গুড় তৈরি হয়। আর এই গুড় থেকেই তৈরি হয় সন্দেশ। তাই একে বলা হয় ‘নলেন গুড়ের সন্দেশ’। প্রতি কেজি সন্দেশ ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গড়ে প্রতিদিন কোনো কোনো দোকানে ৩-৪ মণ সন্দেশ বিক্রি হয়ে থাকে। আর স্থানীয় বিয়ে, নববর্ষসহ বিভিন্ন উৎসবে এই মিষ্টির দেখা মিলবেই। এ ছাড়াও জেলার বাইরে থেকে আসা বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়রা এলেও একবার এ মিষ্টির স্বাদ যেন নিতেই হয়। বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান ছাড়াও, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার ফলাফলের দিন ওইসব দোকানে রীতিমতো মিষ্টি কেনার হিড়িক পড়ে যায়। এ ছাড়া সন্দেশ খেতে চলে আসে ঢাকাসহ আশপাশের জেলার ভোজনবিলাসী মানুষজন। এ সন্দেশ বিদেশেও সমাদৃত হচ্ছে। প্রবাসীদের কাছে চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। নড়াইল সদরের রূপগঞ্জ বাজারের কার্তিক কুণ্ডু মিষ্টান্ন ভান্ডার ও পরিতোষ মিষ্টান্ন ভান্ডার, লক্ষ্মীপাশা পুরাতন খেয়াঘাট সংলগ্ন শাহ সুইটস এবং লোহাগড়া বাজারের সুরেন্দ্র সুইটসসহ জেলার বেশ কয়েকটি মিষ্টির দোকানে দেদার বিক্রি হচ্ছে নলেন গুড়ের সন্দেশ। ‘নলেন গুড়ের সন্দেশ’ কিনতে আসা মো. শামীমুল ইসলাম জানান, তিনি পেশায় একজন মেরিন ইঞ্জিনিয়ার, থাকেন চট্টগ্রামে। ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে যাওয়ারকালে কিনতে এসেছেন ‘নলেন গুড়ের সন্দেশ’। মূলত ছোটবেলা থেকেই নড়াইলের রূপগঞ্জ বাজারের নলেন গুড়ের সন্দেশ খাচ্ছেন তিনি। ফয়সাল মোল্যা নামের আরেক ক্রেতা জানান, তার ভাইদের পরিবার থাকেন ফ্রান্সে। তাদের কাছে পাঠানোর জন্য এ মিষ্টি কিনতে এসেছেন। এ প্রসঙ্গে সাহা সুইটসের স্বত্বাধিকারী অভিজিৎ সাহা বলেন, ‘বংশপরম্পরায় ৫০ বছরেরও অধিক বেশি সময় ধরে এই ঐতিহ্য ধরে রেখেছি আমরা। অতুলনীয় স্বাদ ও গুণগত মানের কারণে এই মিষ্টি ধরে রেখেছে তার ঐতিহ্য।’