হঠাৎ করেই ফুটবল উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। আর তা নারী ফুটবলারদের ঘিরে। একাধিক ঘটনা ঘটায় ক্রীড়ামোদিরা উদ্বিগ্ন। বাংলাদেশের ফুটবলে পুরুষরা ব্যর্থতার বৃত্তে বন্দি থাকলেও নারীদের জয়-জয়কার। বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্ট ছাড়াও নারী জাতীয় দল সাফল্যে ভাসছে। ২০২২ ও ২০২৪ সালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে সাবিনা খাতুনরা টানা দুবার চ্যাম্পিয়ন হয়ে ইতিহাস গড়েছেন। তাদের সাফল্য দেশ উৎসবে ভেসেছে। আর বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টে মেয়েদের শিরোপা জেতাটা যেন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এরপরও নারী ফুটবলে তো সমস্যা থাকার কথা নয়। এটা ঠিক বেতনের বৈষম্য থেকেই যাচ্ছে। তারপর আবার নিয়মিত বেতন মিলছে না। অক্টোবর থেকেই নাকি বেতন বাকি।
বেতনের বিষয়টি নতুন নয়। মাঝে মধ্যে বাফুফে মেয়েদের সঙ্গে আলাপ করে তা সমাধানও করছে। সত্যি বলতে কী এমন সাফল্যের পরও মেয়েরা ফেডারেশন থেকে তেমন সুযোগ-সুবিধা পান না। কাজী সালাউদ্দিন সভাপতি থাকা অবস্থায় শুধু আশ্বাসই দিয়ে গেছেন। বাস্তবে তার দেখা মেলেনি। দীর্ঘদিন ধরে নারী ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকলেও মাহফুজা আক্তার কিরণও মেয়েদের ভালো-মন্দ দিকটা খেয়াল রাখেননি। বরং বিতর্ক ছড়িয়েছেন। সব মিলিয়ে নারী ফুটবলাররা সমস্যার খাঁচায় বন্দি। এতদিনে তাদের আবাসিক ব্যবস্থারও উন্নয়ন ঘটেনি। বাফুফে ভবনেই গাদাগাদি করে থাকছেন ফুটবলাররা। বাফুফের নতুন সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর তাবিথ আউয়াল মেয়েদের কথা দিয়েছেন, সময় দিন সব সমস্যারই সমাধান হবে। এরপরও নারী ফুটবল ঘিরে হচ্ছেটা কী? কেউ কি ষড়যন্ত্রের জাল ফেলেছেন?
সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর সাবিনারা তিন মাস খেলার বাইরে। ২০২২ সালে চ্যাম্পিয়নের পর তো ৯ মাস ছিল মাঠের বাইরে। এখানে কিরণেরই ব্যর্থতা ফুটে উঠেছে। যাই হোক আগামী মাসে আরব আমিরাতের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের শিডিউল ঘোষণা হয়েছে। এজন্য দরকার অনুশীলন। কিন্তু মেয়েরা বেঁকে বসেছেন। তাদের কথা পিটার বাটলার কোচ থাকলে অনুশীলনে নামবেন না। জিমেও যাবেন না। প্রয়োজনে তারা গণ অবসরের ঘোষণা দেবেন। এ কেমন আচরণ? তাদের সমস্যার কথা স্বয়ং বাফুফের সভাপতি ও সিনিয়র সহসভাপতি তো সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। এরপরও অনুশীলন বর্জন কেন? এতে তো নিজেদের ক্ষতি, ফুটবল ও দেশের ক্ষতি। কেন তারা বাটলারকে পছন্দ করছেন না? সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ চলা অবস্থায় মেয়েরা সমস্যা তৈরি করেছিল। বাটলার পেশাদারি বলে নীরবে সহ্য করেছেন এবং দলকে শিরোপা উপহার দিয়েছেন।
মানসম্পন্ন কোচ বলেই তো বাফুফে বাটলারের সঙ্গে ফের চুক্তি করেছে। মেয়েরা তো আর তাঁকে বয়কট করতে পারেন না। কোচ ঠিক করবেন দেশের ফুটবলের নীতি-নির্ধারকরা। খেলোয়াড়দের ইচ্ছার ওপর তো তা নির্ভর করবে না। কম বা বেশি হোক তারা বেতনভুক্ত বাফুফের ফুটবলার। নির্দেশ মানতে বাধ্য। তা ছাড়া খেলোয়াড়রা কী কারণে বাটলারের ওপর নাখোশ কর্তৃপক্ষকে জানাক।গতকাল নারী জাতীয় দলের অধিনায়ক বলেছেন, ‘বাইলারের বিষয়ে আমরা আগেই ফেডারেশনকে জানিয়েছি। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিনিয়র খেলোয়াড়দের একাদশের বাইরে রেখেছিলেন। এতে আমরা হারতে বসেছিলাম। শেষ পর্যন্ত কোনোক্রমে ড্র করে হার এড়ায়। কোচের নানা উৎপীড়নে আমরা বিরক্ত। কোনো অবস্থায় বাটলার থাকলে অনুশীলনে যাব না। এ নিয়ে সভাপতির সঙ্গে কথা বলব। তিনি যদি বাটলারকে রেখেও দেন আমরা মানব না। গণ অবসরের সিদ্ধান্তে যাব।’
সাবিনারা অভিমান বা কষ্টে যা-ই বলুক না কেন তাঁরা দেশের অহংকার। যদি গণ অবসরের সিদ্ধান্তে যান তা দেশের ক্ষতি না লাভ ভেবে দেখবেন। হুট করে কোনো সিদ্ধান্তে যাওয়া ঠিক হবে না। সমস্যা তৈরি হয়েছে, এর সমাধানও রয়েছে। এ নিয়ে কেউ যেন ষড়যন্ত্র না করে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
করে উত্তপ্ত পরিবেশ তৈরি করবে তা তো মানা যায় না। ভালো খেলছেন বলেই তারা দেশবাসীর মন জয় করেছেন। পুরুষ ফুটবলারদের চেয়ে এখন নারী ফুটবলারদের সবাই চেনে। এমন কিছু করা হবে না যাতে নিজেরাই না বিপদে পড়ে যান। গণ অবসরের কথা শোনা যাচ্ছে। এতে কি তারা বাহবা পাবেন। মোটেই না বরং ধিক্কারে পরিণত হবেন।