মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভকারীদের দমনের লক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র অন্তত ৩০০ বিদেশি শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল করেছে। রুবিও গায়ানা সফরের সময় সাংবাদিকদের আরও বলেন, এ মুহূর্তে সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে। আমরা এটা প্রতিদিন করছি। যখনই এরকম একজন উন্মাদকে খুঁজে পাই, তখনই তার ভিসা বাতিল করি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যেসব বক্তব্য প্রশাসন ইসরায়েলবিরোধী মনে করছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের অংশ হিসেবে কত শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল করা হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে রুবিও এ কথা বলেন।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থাগুলোর খবর, সম্প্রতি তুরস্কের এক পিএইচডি শিক্ষার্থী রুমেইসা ওজতুর্কের ভিসা বাতিল করা হয়েছে। তিনি বোস্টনের টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছিলেন। তার আইনজীবীর দাবি, ইফতারের সময় তাকে আটক করে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। মাস্ক ও সাদা পোশাক পরা কর্মকর্তারা তাকে জোর করে গাড়িতে তুলে নেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এটি নিয়ে অনলাইনে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটেই রুবিওর কাছে জানতে চাওয়া হয়, ওই তুর্কি শিক্ষার্থীর ভিসা কেন বাতিল করা হয়েছে। উত্তরে রুবিও বলেন, কারণটা খুব পরিষ্কার। আমি সব জায়গায় বলেছি, আবারও বলছি। যদি কেউ যুক্তরাষ্ট্রে আসার জন্য শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন করে এবং বলে যে সে শুধু পড়াশোনা করতে নয় বরং এমন আন্দোলনে অংশ নিতে চায়, যা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাঙচুর চালায়, শিক্ষার্থীদের হয়রানি করে, ভবন দখল এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে- তাহলে আমরা তাকে সেই ভিসা দেব না।
রুবিও ৩০ বছর বয়সি ওজতুর্কের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ জানাননি। তিনি ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন এবং গত বছর টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পত্রিকায় সহ-লেখক হিসেবে একটি মতামত প্রকাশ করেছিলেন। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়কে ইসরায়েল-সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে বিনিয়োগ প্রত্যাহার করতে এবং ‘ফিলিস্তিনিদের গণহত্যা’ স্বীকার করার আহ্বান জানানো হয়েছিল।