মিয়ানমারের রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য নতুন করে আরও ৭৩ কোটি ডলার দেবে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ট্যামি ব্রুস সমাজমাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছেন। ট্যামি ব্রুস বলেছেন, ১০ লাখ রোহিঙ্গার খাদ্য ও পুষ্টিসহায়তা হিসেবে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির মাধ্যমে এই সহায়তা দেওয়া হবে। ডব্লিউএফপির মাধ্যমে এই সহায়তা ১০ লাখের বেশি মানুষকে খুবই প্রয়োজনীয় খাদ্য ও পুষ্টিসহায়তা দেবে। আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে জীবন রক্ষাকারী সহায়তা ভাগ করে নেওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ। এখন পর্যন্ত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সবচেয়ে বেশি সহায়তাকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্রই। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, ২০১৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত তারা রোহিঙ্গাদের সহায়তায় প্রায় ২৪০ কোটি ডলার দিয়েছে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর বিদেশে মার্কিন সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বে থাকা ইউএসএআইডির ৮০ শতাংশের বেশি কর্মসূচি বাতিল করা হয়। অবশ্য তার আগেই রুবিও ২৪ জানুয়ারি রোহিঙ্গা শরণার্থী ও লেবাননে খাদ্যসহায়তার ক্ষেত্রে এই স্থগিতাদেশে ছাড় দিয়েছিলেন। তারও চার দিন পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ছাড়ের তালিকায় আসে সব জীবন রক্ষাকারী ওষুধ, চিকিৎসাসেবা, খাদ্য ও আশ্রয়সহায়তা।’
এদিকে বাংলাদেশের আশ্রয় শিবিরে বাস করা রোহিঙ্গাদের জন্য খাদ্যসহায়তা কমানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি-ডব্লিউএফপি। এবারে কক্সবাজারের উপকূলে বিভিন্ন ক্যাম্পের বাসিন্দাদের জনপ্রতি মাসিক বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে ১২ ডলার করে; যা আগে ছিল সাড়ে ১২ ডলার। শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ডব্লিউএফপি এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে, এটি আগামী ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে। ভাসানচরে যেসব রোহিঙ্গা বসবাস করছে তারা পাবেন ১৩ ডলার করে। ৫ মার্চ বাংলাদেশের শরণার্থী কমিশনের কাছে খাদ্যসহায়তা কমানো সংক্রান্ত চিঠি এসেছিল। চিঠিতে ডব্লিউএফপি তহবিলসংকটের কারণে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য এপ্রিল থেকে মাসিক খাবারের বরাদ্দ সাড়ে ১২ ডলার থেকে কমিয়ে জনপ্রতি ছয় ডলারে নামানোর কথা জানায়।