বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমান মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গতকাল সকাল ৬টার দিকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। এর আগে ভোরে রাজধানীর ধানমন্ডির বাসায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন আবদুল্লাহ আল নোমান। দ্রুত রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। শুক্রবার বাদ আসর চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার গহিরা গ্রামে তাঁর সর্বশেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্থানে তাঁর দাফনকার্য সম্পন্ন হবে। বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদের মৃত্যুতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ সরকারের উপদেষ্টাবৃন্দ, বিএনপি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দসহ পেশাজীবীরা শোক জানিয়েছেন।
এ ছাড়াও আবদুল্লাহ আল নোমানের মৃত্যুতে শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, সদ্য পদত্যাগকারী তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী আমির শাহজাহান চৌধুরী, মহানগরী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন, বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের আহ্বায়ক প্রফেসর ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সদস্যসচিব কাদের গণি চৌধুরী প্রমুখ।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের রাজনৈতিক জীবন ছিল বর্ণাঢ্য। নোমান চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ও দলটির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার গহিরা গ্রামের সন্তান নোমান একসময় বাম রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। ষাটের দশকের শুরুতে হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে তিনি ছাত্র ইউনিয়নে যোগ দেন। মেননপন্থি ছাত্র ইউনিয়নের চট্টগ্রাম মহানগরীর সাধারণ সম্পাদক, বৃহত্তর চট্টগ্রামের সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন তিনি। ছাত্রজীবন শেষে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর হাত ধরে নোমান যোগ দেন শ্রমিক রাজনীতিতে। পূর্ব বাংলা শ্রমিক ফেডারেশনের সহসভাপতি ছিলেন তিনি। গোপনে ভাসানীপন্থি ন্যাপের রাজনীতির সঙ্গেও জড়িত হন। ১৯৭০ সালে ন্যাপের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হন। ১৯৭১ সালে তিনি সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। যুদ্ধ শেষে ন্যাপের রাজনীতিতে তাঁর পথ চলা। এরপর ১৯৮১ সালে যোগ দেন বিএনপিতে। ১৯৯১ ও ২০০১ সালে চট্টগ্রাম-৯ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন নোমান। খালেদা জিয়ার দুই সরকারের আমলে মৎস্য ও পশুসম্পদ, শ্রম ও কর্মসংস্থান, বন ও পরিবেশ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন এই মুক্তিযোদ্ধা।