জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘আমরা ৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান দেখেছি, সংস্কারের কথা বললেও নির্বাচিত সরকার সেই কথা রাখেনি। আমরা চাই না এবার আর জনগণের সঙ্গে কেউ প্রতারণার সুযোগ পাক। তাই, আমরা জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষ থেকে বিচার, সংস্কার ও গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সংবিধানের কথা বলেছি।’
আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় সিরাজগঞ্জ শহরের বাজার স্টেশন বিজয় সৌধ চত্বরে এনসিপি আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
জুলাই বিপ্লবে শহীদ পরিবার, আহত, বিভিন্ন রাজনীতিবীদ, নাগরিক সমাজ ও পেশাজীবীদের সম্মানে এ ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
এতে যুক্ত হয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘গত ১৫ বছরে যে ধরনের অন্যায়, নিপীড়ন ও নির্যাতন চলেছে, জুলাই আন্দোলনে যে হত্যাকাণ্ড চলেছে, এর যদি বিচার ছাড়াই আমরা একটি নির্বাচনের দিকে আগাই, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিচার প্রক্রিয়া চলমান থাকবে - এর কোনো নিশ্চয়তা নাই। তাই আমরা চাইব দ্রুত সময়ের মধ্যে বিচার কার্যক্রম করে তারপরে সামনে আগানো। আমরা ইতোমধ্যে দেখতে পাচ্ছি সংস্কারের আলাপকে পাশ কাটিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সংস্কারে অনাগ্রহ দেখানো হচ্ছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষে থেকে বলতে চাই, সংস্কারের প্রতি আমরা সকলেই ঐক্যবদ্ধ হই।’
তিনি বলেন, ‘আমরা বলেছি রাষ্ট্রের সংস্কার হতে হবে, মৌলিক পরিবর্তন হতে হবে। কারণ, পরিবর্তনের জন্যই গণঅভ্যুত্থান। যদি পরিবর্তনই না হয়, তাহলে কেন এত মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছিল, কেন রক্ত দিয়েছিল! সেই পরিবর্তনের লক্ষ্যে আমাদের কাজ করতে হবে। সরকারকে সংস্কারের কাজ এগিয়ে নিতে হবে। আমরা দেখেছি, আগে বিভিন্ন সময় পরিবর্তনের কথা বললে, সংস্কারের কথা বলেও নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এসে কথা রাখেনি।’
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘আমরা গণপরিষদের মাধ্যমে নতুন সংবিধানের কথা বলেছি। একটি নতুন সংবিধান হলে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সেটি আবার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। জাতীয় নাগরিক পার্টি তরুণদের উদ্যোগে নতুন অধ্যায় সৃষ্টি করতে চেয়েছে। বাংলাদেশে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে এক নতুন সম্ভাবনার তৈরি হয়েছে। নতুন আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্ন তৈরি হয়েছে, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরা কাজ করতে চাই। আমরা বৈষম্যহীন সমাজের কথা বলতে এসেছি, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদার কথা বলেছি। মানুষের অধিকার যাতে প্রতিষ্ঠিত হয় সেই কথা বলছি। মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসার অধিকার, চাকরির সুবিধা যাতে পায় সেই উদ্দেশ্য নিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’
জুলাই আন্দোলনে সিরাজগঞ্জের ভূমিকার কথা স্মরণ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে যেভাবে ভূমিকা রেখেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির সাংগঠনিক কার্যক্রমেও সিরাজগঞ্জ সেভাবেই ভূমিকা রাখবে বলে আশা করি। সিরাজগঞ্জ জাতীয় নাগরিক পার্টির অন্যতম ভিত্তি ও অন্যতম ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হবে।’
স্থানীয় নেতৃবৃন্দের প্রতি ঐক্যবদ্ধ থেকে মানুষের কাছে গিয়ে মানুষের কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জনগণের পাশে দাঁড়ানোই জাতীয় নাগরিক পার্টির মূলমন্ত্র।’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সিরাজগঞ্জের মুখপাত্র টি এম মুশফিক সাদের সঞ্চালনায় ইফতার মাহফিলে আরও বক্তব্য রাখেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব মাহিন সরকার, এস এম সাইফ মুস্তাফিজ, উত্তরাঞ্চলীয় সংগঠক জুঁথি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সিরাজগঞ্জের আহ্বায়ক সজীব সরকার, শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে ফজল হোসেন ও আহত মহসিন রেজা প্রমুখ।
ইফতার মাহফিলে জুলাই বিপ্লবে শহীদের পরিবার ও আহতরা ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ