কুমিল্লায় গভীর রাতে বাড়ি থেকে যৌথ বাহিনী তৌহিদুল ইসলামকে (৪০) নির্যাতনের পরে হত্যার যে অভিযোগ উঠেছে তার লক্ষণ ভালো নয় বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ।
তিনি বলেন, মৃত বা নির্যাতনের কারণে নিহত হওয়া তৌহিদুল ইসলাম অপরাধী কিনা তা আমরা বা দেশবাসী অবহিত নয়। কিন্তু তিনি শুধু একজন রাজনৈতিক কর্মীই নয়, দেশের একজন সম্মানিত নাগরিকও। ৩ কন্যা সন্তানের জনক। বাবার কুলখানীতে যোগ দিতে আসা তৌহিদুল ইসলামকে যৌথবাহিনী কেন গভীর রাতে আটক করলো? দেশের মানুষ সরকারের কাছে তার আটকের কারণ জানতে চায়। একজন নাগরিককে যদি কোন কারণে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেই তবে তার শরীরে নির্যাতনের ক্ষতচিহ্ন কেন? থাকবে? তবে কি নির্যাতন করে হত্যার উদ্দেশ্যে ৩ কন্যা সন্তানের জনক তৌহিদুল ইসলামকে যৌথবাহিনী আটক করেছিল?
আজ শনিবার গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব এসব কথা বলেন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মহাসচিব বলেন, আমরা অতীতের ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ের ন্যায় নতুন কোন মা এর সন্তান, স্ত্রীর স্বামী ও সন্তানের বাবা হারানোর ঘটনা দেখতে ও শুনতে চাই না।
তিনি বলেন, যৌথ বাহিনী কি এখনো মানুষ হত্যায় জড়িত? নিহতের স্ত্রী ও ৩ কন্যার কাছে অন্তর্বর্তী সরকার কি জবাবদিহি করবে? দেশের জনগণ তা জানতে চায়।
তিনি বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশের মানুষকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সেবা না দিয়ে এভাবে নির্যাতন, হত্যা ও হয়রানি যদি করে তবে পরিবর্তন কি হলো?
অধ্যক্ষ ইউনুছ আহমাদ বলেন, নিহত তৌহিদুল ইসলামকে যৌথবাহিনী কর্তৃক গভীর রাতে আটকের ঘটনার কারণ অনুসন্ধান, নির্যাতন করে হত্যার ঘটনায় সম্পৃক্তদের শুধু প্রত্যাহার করলে চলবে না দোষীদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা জনগণের অন্যতম দাবি। আশা করি সরকার এ বিষয়ে তার অবস্থান স্পষ্ট করে দোষীদের বিষয়ে নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করবে।
তিনি বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রজাতন্ত্রের কোন কর্মকর্তা, কর্মচারী যাতে ভবিষ্যতে নাগরিকদের সেবার পরিবর্তে হয়রানি না করে সে বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে।
বিডি প্রতিদিন/আরাফাত