ইয়েমেনে মার্কিন হামলার ছক সম্বলিত ফাঁস হওয়া ‘চ্যাট’ সংরক্ষণ করে রাখার নির্দেশ দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ডিসট্রিক্ট কোর্টের বিচারক জেমস বোয়াসবার্গ।
যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইয়েমেনে হামলার পরিকল্পনা করা হচ্ছিল, সেখানে নির্দিষ্ট সময়ের পর ‘চ্যাট’ বা কথোপকথন স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যায়। এই বিষয়ে উদ্বেগপ্রকাশ করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল মার্কিন প্রশাসনের দায়বদ্ধতা বিষয়ক গোষ্ঠী ‘আমেরিকান ওভারসাইট’।
ওই গোষ্ঠীটি ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। প্রশাসনিক তথ্য কেন সংরক্ষিত থাকবে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। তারপরই ওই ‘চ্যাট’ না-মুছে সংরক্ষণ করার নির্দেশ দেন বিচারক। বিচারকের নির্দেশ প্রসঙ্গে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মুখ খোলেনি হোয়াইট হাউস।
জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি গোপন গ্রুপে মার্কিন প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মধ্যে ইয়েমেন হামলার পরিকল্পনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছিল। হঠাৎ ভুল করে সেই গ্রুপচ্যাটে মার্কিন সাংবাদিক তথা ‘দ্য আটলান্টিক’-এর সম্পাদক জেফ্রি গোল্ডবার্গকে যুক্ত করেন আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইক ওয়াল্টজ! আর তাতেই ফাঁস হয়ে যায় ইয়েমেনে মার্কিন হামলার পরিকল্পনা! সম্প্রতি এমনটাই দাবি করেন ওই সাংবাদিক।
গোল্ডবার্গ এও দাবি করেন যে, গত ১৩ মার্চ আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা একটি গোপন গ্রুপে ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা করছিলেন। গ্রুপটির নাম ছিল ‘হুথি পিসি স্মল গ্রুপ’। ১৫ মার্চ ইয়েমেনে হামলা চালায় আমেরিকা। তার আগেই সেই অভিযানের পরিকল্পনা প্রকাশ্যে এসেছে বলে দাবি।
এই ঘটনার পরেই মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের ইস্তফা দাবি করেছেন বিরোধীরা। বুধবার ট্রাম্প অবশ্য প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে বলেছেন, “উনি খুব ভাল কাজ করছেন। উনি এই বিষয়ে (তথ্যফাঁস) কিছুই করেননি।”
শুধু নিজের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পাশে দাঁড়ানোই নয়, পরোক্ষভাবে এই ঘটনায় দায় তিনি ঠেলেছেন নিরাপত্তা উপদেষ্টা ওয়াল্টজের দিকেই। সূত্র: আল-জাজিরা, দ্য গার্ডিয়ান, বিবিসি
বিডি প্রতিদিন/একেএ