মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পের ধাক্কায় আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে বিশ্বের ইতিহাসে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ভূমিকম্পগুলোর কথা।
শুক্রবার (২৮ মার্চ) দুপুরে মিয়ানমারে পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ১৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছে ৭৩০ জন। থাইল্যান্ডেও প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর এসেছে। প্রযুক্তি উন্নত হলেও এখনো ভূমিকম্পের আগাম পূর্বাভাস দেওয়া কঠিন। ফলে ইতিহাসের পাতা জুড়ে রয়েছে ভয়াবহ সব ভূমিকম্পের ঘটনা, যার মধ্যে কিছু ভূমিকম্প লাখো মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) রিখটার স্কেলে গত ১০০ বছরে আঘাত হানা ১০টি ভয়াবহ ভূমিকম্পের তথ্য প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে একটি ভূমিকম্পেই প্রাণ গেছে প্রায় ৩ লাখ মানুষের।
ভয়াবহ ১০টি ভূমিকম্প:
১. চিলি (১৯৬০) - ৯.৫ মাত্রা
বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে চিলিতে, ১৯৬০ সালে। এতে মৃত্যু হয় ১,৬৫৫ জনের এবং ২০ লাখ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়ে। ভূমিকম্পটি স্থায়িত্ব ছিল ১০ মিনিট।
২. দক্ষিণ আলাস্কা, যুক্তরাষ্ট্র (১৯৬৪) - ৯.২ মাত্রা
এই ভূমিকম্পে মৃত্যু হয় ১৩১ জনের, ক্ষতি হয় প্রায় ২৩০ কোটি ডলার। স্থায়িত্ব ছিল ৪.৫ মিনিট।
৩. সুমাত্রা-আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ, ইন্দোনেশিয়া (২০০৪) - ৯.১ মাত্রা
বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভূমিকম্পের একটি। এতে ১৪টি দেশে ভয়াবহ সুনামি হয়। প্রাণ হারায় ২,৮৩,১০০ জন। ভূমিকম্পটি স্থায়ী ছিল ১৯ মিনিট।
৪. তুহুকু, জাপান (২০১১) - ৯.১ মাত্রা
জাপানে ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃত্যু হয় ১৫,৭০৩ জনের। ধসে পড়ে ৩ লাখ ৩২ হাজারের বেশি ভবন।
৫. পেট্রোপাভলভস্ক-কামচাটস্কি, রাশিয়া (১৯৫২) - ৯.০ মাত্রা
অবাক করা বিষয়, এই শক্তিশালী ভূমিকম্পে কোনো প্রাণহানি হয়নি! তবে প্রায় ১০ লাখ ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়।
৬. চিলি (২০১০) - ৮.৮ মাত্রা
এই ভূমিকম্পে মৃত্যু হয় ৫২৩ জনের, আহত হয় ১২ হাজার। প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়। ৮ লাখ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়ে।
৭. ইকুয়েডর-কলম্বিয়া (১৯০৬) - ৮.৮ মাত্রা
এই ভূমিকম্পে মৃত্যু হয় প্রায় ১,৫০০ মানুষের।
৮. ইদোর দ্বীপপুঞ্জ, আলাস্কা (১৯৬৫) - ৮.৭ মাত্রা
এই ভূমিকম্পের পর ৩৫ ফুট উঁচু সুনামি হয়েছিল।
৯. আসাম-তিব্বত (১৯৫০) - ৮.৬ মাত্রা
এই ভূমিকম্পে ১,৫২৬ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়।
১০. নিয়াস, ইন্দোনেশিয়া (২০০৫) - ৮.৬ মাত্রা
ভূমিকম্পে ১,৩১৪ জনের প্রাণহানি ঘটে।
সূত্র: মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা, এপি, বিবিসি, স্কাই নিউজ, আনাদোলু
বিডি প্রতিদিন/আশিক