রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) স্থানীয় সিহাব নামের এক যুবকের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। প্রক্টরিয়াল বডি বলছে, মেয়ে সহপাঠীসহ পালাতে গিয়ে বাইক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়েছে। তবে এটা দুর্ঘটনা নাকি হত্যা এ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বৃহস্পতিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, ছিনতাই রোধসহ সার্বিক নিরাপত্তা রাতে প্রক্টরিয়াল বডি নিয়মিত টহলে বের হয়েছিল। স্থানীয় ওই যুবক মেয়ে সহপাঠীসহ তৃতীয় বিজ্ঞান ভবনের পিছনে বসে ছিলেন। প্রক্টরিয়াল বডির গাড়ি দেখে পালানোর চেষ্টা করেন তিনি। ভবনের সামনের সড়ক মেরামতের কাজ চলছিল। বাইক নিয়ে দ্রুতগতিতে রাস্তা পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনায় পড়েন তারা। ছেলেটি অচেতন হয়ে পড়লে এ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেয়া হয়। তাকে কেউ শারীরিকভাবে আঘাত করেনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২৩ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. কুদরত-এ-খুদা ও স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু একাডেমিক ভবনের পিছনে মেয়ে সহপাঠীর সঙ্গে বসে ছিলেন সিহাব। নিয়মিত টহলের উদ্দেশ্য প্রক্টরিয়াল বডির গাড়ি সেদিকে যায়। তখন গাড়ি দেখে বাইক নিয়ে দ্রুত বেগে অন্যত্র চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন ওই যুবক-যুবতী। তবে জগদীশ চন্দ্র বসু ভবনের সামনে সড়ক মেরামতের কাজ চলছিল। ফলে রাস্তায় রড বিছানো হয়েছে। এই অবস্থায় দ্রুতগতিতে বাইক চালিয়ে যেতে গিয়ে ভবনের সামনে দুর্ঘটনার শিকার হন ওই যুবক-যুবতী। যুবকটি অচেতন হয়ে পড়লে এ্যাম্বুলেন্সে করে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল এবং পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে তাকে মৃত্যু ঘোষণা করা হয়। দুর্ঘটনায় বাইকে থাকা নারী সুস্থ আছেন। ফলে সামগ্রিক ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
মৃত্যুর কারণ জানতে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ডা. শংকর কে বিশ্বাসের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সিহাব রাজশাহী কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন পশ্চিম বুথপাড়ার জামালের ছেলে। মৃত যুবকের চাচাতো ভাই বাপ্পি জানান, মরদেহ রাজশাহী মেডিকেলের মর্গে আছে। ময়নাতদন্তের পর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
নগরীর মতিহার থানার ওসি আব্দুল মালেক জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোন মামলা হয়নি। মামলা করলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে। যুবকের সঙ্গে থাকা মেয়েটি থানায় পুলিশ হেফাজতে আছে। তার পরিবারের কেউ যোগাযোগ না করায় এখানে রাখা হয়েছে।
বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ