চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। দুবাইতে বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে ৬ উইকেটের ব্যবধানে হারল শান্তর দল। পুরো ম্যাচে টাইগারদের প্রাপ্তি ছিল কেবল সেঞ্চুরিয়ান তাওহীদ হৃদয়ের সঙ্গে জাকের আলীর ইতিহাস গড়া জুটি। টস জিতে ব্যাটিং নিয়ে নাজমুল হোসেন শান্ত বলেছিলেন, ভালো উইকেটে বড় রান করতে চায় দল।
কিন্তু খেলা শুরুর পরপরই বাজে শটে তিনি ফিরে গেলেন ড্রেসিং রুমে। ঘণ্টা পেরোনোর আগেই বড় রানের আশাও চুরমার। তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল ব্যাটিং অর্ডার। পরে তাওহিদ হৃদয়ের সঙ্গে জাকের আলির প্রতিরোধে লড়াইয়ের পুঁজি পায় বাংলাদেশ। তবে শষ পর্যন্ত যথেষ্ট হলো না তা। ম্যাচ হারার পর শুরুর সেই বিপর্যয়কেই দায় দিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে খেলতে গিয়ে শুরুতেই মুখ থুবড়ে পড়ে বাংলাদেশ। শুরুর দশ ওভারেই মূলত ফয়সালা হয়ে যায় ম্যাচের। ওপরের ব্যাটসম্যানদের ভয়াবহ বাজে ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লের মধ্যে মাত্র ৩৫ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। পরে হৃদয় ও জাকেরের ১৫৪ রানের জুটিতে ২২৮ রান পর্যন্ত গেলেও পরাজয় এড়ানো যায়নি। শুবমান গিলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে সহজ জয় পায় ভারত।
ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী আয়োজনে বাংলাদেশ অধিনায়ক ফিরে গেলেন শুরুর সেই সময়টায়। তিনি জানান, "প্রথম পাওয়ার প্লেতে আমরা যেভাবে ব্যাটিং করেছি, তখনই ম্যাচ ছুটে গেছে। দশ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেললে নিচের সারির ব্যাটসম্যানদের জন্য খুব কঠিন হয়ে যায়। এটিই আমাদের ম্যাচটি হারিয়ে দিয়েছে।"
মাঝারি পুঁজি নিয়েও লড়াই কিছুটা করে বাংলাদেশ। ম্যাচ জিততে ৪৭ ওভার পর্যন্ত খেলতে হয় ভারতের। দেড়শ রানের আগেই ভারতের ৪ উইকেট নিয়ে খানিক সম্ভাবনাও জাগান রিশাদ হোসেন, তাসকিন আহমেদরা। এরপর লোকেশ রাহুলের ক্যাচ ছেড়ে দেন জাকের। পরে তাকে রান আউট করার সুযোগও কাজে লাগাতে পারেননি শান্ত। গিলের সঙ্গে ৮৭ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন রাহুল।
আরও ২৫-৩০ রানের আক্ষেপের পাশাপাশি তাই নিজেদের ফিল্ডিং ব্যর্থতার দিকেও আঙুল তুললেন শান্ত। তিনি জানান, "আমিও এমন (২৫-৩০ রান কম) মনে করি। তবু হৃদয় ও জাকের যেভাবে ব্যাটিং করেছে, দুর্দান্ত। ফিল্ডিংয়েও আমরা ভুল করেছি। ক্যাচ নিতে পারিনি, রান আউটের সুযোগ কাজে লাগাতে পারিনি। ক্যাচ নিতে পারলে হয়তো গল্পটা ভিন্নও হতে পারত।"
ম্যাচে দুই দলের একাদশেও ছিল ভিন্নতা। তিন পেসারের সঙ্গে দুই স্পিনার নিয়ে খেলেছে বাংলাদেশ। আর ভারতীয় দলে ছিল দুই পেসারের সঙ্গে তিন স্পিনার। পরে বাংলাদেশের হয়ে স্পিনাররাই তুলনামূলক ভালো বোলিং করেন। ১০ ওভারে ৩৮ রানে ২ উইকেট নেন রিশাদ। উইকেট না পেলেও ১০ ওভারে মাত্র ৩৭ রান দেন মেহেদী হাসান মিরাজ। বাংলাদেশ অধিনায়ক অবশ্য দাবি করলেন, বাড়তি স্পিনারের অভাব অনুভব করেননি তিনি।
পরাজয়ে যাত্রা শুরু করলেও বিপর্যয় সামলে সেঞ্চুরি করা হৃদয় ও তাকে সঙ্গ দিয়ে ৬৮ রানের ইনিংস খেলা জাকের প্রশংসা করতেও ভোলেননি শান্ত। তিনি জানান, "যেভাবে হৃদয় ও অনিক ব্যাটিং করেছেন, খুবই প্রশংসনীয়। বিশেষ করে এই ধরনের উইকেট, যেখানে স্পিনারদের বল টার্ন হচ্ছিল। তারা যেভাবে কন্ডিশনটা সামলেছে, দারুণ ছিল। আশা করি, সামনের দুই ম্যাচেও তারা এটি ধরে রাখবে।"
দুবাই পর্ব শেষে এবার পাকিস্তান চলে যাবে বাংলাদেশ। রাওয়ালপিন্ডিতে আগামী সোমবার নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে তারা। গত বছর এই মাঠেই স্বাগতিকদের টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করেছিল বাংলাদেশ। সেই সুখস্মৃতি থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা শান্তর।
বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ