গাজী আশরাফ হোসেন লিপুর নির্বাচক প্যানেলের সঙ্গে একবার নয়, দু-দুবার বৈঠক করেছেন তামিম ইকবাল। প্রথমবার বৈঠকের পর চলে আসেন। দ্বিতীয়বার বৈঠক করেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের নিয়ে। দীর্ঘ সময়ের আলোচনায় নির্বাচক প্যানেল বারবার সাবেক অধিনায়ক ও ওপেনার তামিমকে বুঝিয়েছেন, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাংলাদেশ দলে তার প্রয়োজনীয়তা। অধিনায়ক নাজমুলও চেয়েছেন সাবেক অধিনায়ককে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলবেন কি না, সে বিষয়ে সরাসরি হ্যাঁ, কিংবা না বলেননি বাঁ হাতি ওপেনার। বৈঠকে সময় চেয়েছেন দেশের পক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলবেন কি না? ১২ জানুয়ারির মধ্যে স্কোয়াডের নাম পাঠাতে হবে আইসিসির কাছে। তামিমের সঙ্গে বৈঠক শেষে প্রধান নির্বাচক লিপু বলেন, ‘আলোচনার সঙ্গে সঙ্গে ফল আসে না। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।’
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের নতুন বছর শুরু হচ্ছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি দিয়ে। ৮ জাতির চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মূল আয়োজক পাকিস্তান। শুধু ভারতের খেলাগুলো হবে দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। করোনা ও নানাবিদ সমস্যায় গত ৮ বছর মাঠে গড়ায়নি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর সবচেয়ে আকর্ষণীয় টুর্নামেন্টটি মাঠে গড়াচ্ছে ২০১৭ সালের পর। দলগুলোও টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলে। অবশ্য আইসিসি দলগুলোকে তাদের স্কোয়াড দেওয়ার জন্য একটি সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। ১২ জানুয়ারির মধ্যে ১৫ সদস্যের স্কোয়াড আইসিসির কাছে জমা দিতে হবে। বিসিবিও দল গুছানোর কাজ করছে। প্রথম নির্বাচক গাজী আশরাফ লিপু, আবদুর রাজ্জাক রাজ ও হান্নান সরকার-নির্বাচক প্যানেল গতকাল কথা বলেছেন তামিমের সঙ্গে। ফরচুন বরিশালের অধিনায়ক হয়ে বিপিএল খেলছেন দেশসেরা ওপেনার। আরেক দেশসেরা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান দেশের বাইরে। তিনি দুবার মাদ্রাজে বোলিং অ্যাকশনের পরীক্ষা দিয়েছেন। এখন কথা হচ্ছে, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাংলাদেশের ১৫ সদস্যের স্কোয়াডে দুই দেশসেরা ক্রিকেটার কি থাকবেন? দুই দেশসেরা ক্রিকেটারকে নিয়ে কি নির্বাচক প্যানেল দল চূড়ান্ত করবেন?
বিসিবি সূত্র জানিয়েছে, বিসিবি স্কোয়াড চূড়ান্ত করেছে। অধিনায়কের আগ্রহে সাকিব ও তামিমকে রেখেই স্কোয়াড চূড়ান্ত করেছে। যদি কোনো কারণে দুজনের সুযোগ না হয়, সেই স্কোয়াডও চূড়ান্ত করে রেখেছে নির্বাচক প্যানেল। আওয়ামী সরকারের সংসদ সদস্য থাকায় জুলাই আন্দোলনের পর বাংলাদেশের পক্ষে খেলা হচ্ছে না সাকিবের। তার ওপর কাউন্টি ক্রিকেটের এক ম্যাচে তার বোলিং অ্যাকশন নিয়ে সন্দেহ পোষণ করে অ্যাম্পায়ার রিপোর্ট জমা হয়। তার ভিত্তিতে সাকিব এখন শুধু ব্যাটিং করছেন। বোলিং করতে পারছেন না। বোলিং অ্যাকশন ত্রুটিমুক্ত করতে সাকিব ২১ ডিসেম্বর সর্বশেষ পরীক্ষা দেন মাদ্রাজে। যদিও তার পরীক্ষার ফল জানেনি বিসিবি। অন্যদিকে শহীদ আফ্রিদি, শাহীন আফ্রিদি, মোহাম্মদ নবীদের সঙ্গে এক ঘরোয়া আড্ডায় তামিম জানান, তিনি আর জাতীয় দলে খেলবেন না। যদিও ওয়ানডে থেকে অবসরের ঘোষণা দেননি। সেজন্য নির্বাচক প্যানেল কিছুটা বিব্রতকর অবস্থায় রয়েছে। কারণ, বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ কিছুদিন আগে জানান, যদি অবসর না নেয় কোনো ক্রিকেটার, তাহলে সব সময়ই জাতীয় দলের খেলার দুয়ার তার জন্য উন্মুক্ত। তামিম জাতীয় দলে খেলবেন কি না, সেটা জানতেই গতকাল ফরচুন বরিশালের টিম হোটেলে সাবেক অধিনায়ক ও বাঁ হাতি ওপেনারের সঙ্গে কথা বলেছে নির্বাচক প্যানেল। যদি দুই সাবেক অধিনায়ক চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলার সুযোগ পান, তাহলে দল কেমন হতে পারে? তামিম স্বাভাবিকভাবেই ওপেন করবেন। বিপিএলে ভালো ব্যাটিংও করছেন তিনি। বাঁ হাতি ওপেনার ৪ ম্যাচে এক হাফ সেঞ্চুরিতে ১২১ রান করেছেন। তার সঙ্গে ওপেন করবেন ছন্দে থাকা সৌম্য সরকার। যিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে আঙুলে ব্যথা পেয়ে এখন খেলার বাইরে। এ ছাড়াও রয়েছেন লিটন দাস, তানজিদ তামিম। ছন্দে নেই লিটন। ৪ ম্যাচে ৪২ রান করেছেন। সাকিব ফিরলে মিডল অর্ডারে খেলবেন একজন অলরাউন্ডার হিসেবে। স্কোয়াডে অটো চয়েজ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত, মেহেদি হাসান মিরাজ, রিশাদ হোসেন, জাকের আলী অনিক, তাওহিদ হৃদয়, পেসার নাহিদ রানা, তাসকিন আহমেদ, হাসান মাহমুদ ও তানজিম সাকিব।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাংলাদেশ খেলবে ‘এ’ গ্রুপে। বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ২০ ফেব্রুয়ারি, দুবাইয়ে প্রতিপক্ষ ভারত। ২৪ ফেব্রুয়ারি নিউজিল্যান্ড এবং ২৭ জানুয়ারি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলা। নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তানের ম্যাচ দুটির ভেন্যু রাওয়ালপিন্ডি। ফাইনাল ৯ মার্চ দুবাই কিংবা লাহোরে।