ওপার বাংলার প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা অতনু ঘোষ এপার বাংলার ছোট পর্দার জনপ্রিয় নায়িকা তাসনিয়া ফারিণ প্রসঙ্গে বলেছিলেন, ‘ফারিণকে দেখেই মনে হলো, এই মেয়েটিকেই আমার ১০ নম্বর ছবির জন্য খুঁজছিলাম। কথা বলার ধরন, শরীরী ভাষা, সব ঠিকঠাক মিলে যাচ্ছে।’ ২০২২ সালে ফারিণের বড় পর্দায় অভিষেক হয় এই নির্মাতার ‘আরও এক পৃথিবী’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। এতে ফারিণকে দেখা যায় প্রতীক্ষা চরিত্রে। এস কে মুভিজের প্রযোজনায় তৈরি হয় এই চলচ্চিত্রটি। ছোট পর্দার নায়িকা জয়া আহসান, বাঁধনসহ আরও কয়েকজন এর আগে বড় পর্দার লাল গালিচায় পা রেখে সফল হয়েছিলেন। সেই পথে হেঁটে প্রথম ওপার বাংলার ছবিতে অভিনয় করে ফারিণ জিতে নিয়েছিলেন ‘আরো এক পৃথিবী’ ছবির জন্য সেরা নবাগত অভিনেত্রী হিসেবে ফিল্মফেয়ার বাংলা পুরস্কার।
অভিনয়ে ফারিণের আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল ২০১৭ সালে ‘আমরা আবার ফিরবো কবে’ ছোট পর্দার নাটকের মাধ্যমে। নাটকে সফলতাকে সঙ্গী করে হাঁটতে হাঁটতে একসময় ওয়েব সিরিজের সিঁড়িতে পা রাখেন তিনি। ২০২১ সালে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘লেডিস অ্যান্ড জেন্টলম্যান’ শিরোনামের ওয়েব ধারাবাহিকে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করে দক্ষতা দেখান। একই বছর মিজানুর রহমান আরিয়ানের ‘নেটওয়ার্কের বাইরে’ ওয়েব ফিল্মের ‘কথা’ চরিত্রে অভিনয় করেন। এখানেও তাঁর সাফল্য সঙ্গী ছিল। ‘লেডিস অ্যান্ড জেন্টলম্যান’-এ অভিনয় করে তিনি অভিনেত্রী ও শ্রেষ্ঠ উদীয়মান নারী অভিনয়শিল্পী বিভাগে চ্যানেল আই ডিজিটাল মিডিয়া পুরস্কার লাভ করেন। একই বছর ‘তিথির অসুখ’ নামক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্যও পুরস্কৃত হন। ২০২১ থেকে ২০২২ পর্যন্ত যেসব ওয়েব ফিল্মে ফারিণ অভিনয় করেন তার মধ্যে রয়েছে ট্রল, নেটওয়ার্কের বাইরে, তিথির অসুখ, কারাগার, সিন্ডিকেট, নিঃশ্বাস প্রভৃতি। তা ছাড়া তার টিভি নাটকের সংখ্যাও দেড় শর ঘর পেরিয়েছে। এসব কাজে শুধু দেশে নয়, বিদেশের শোবিজ জগতেরও নজরে আসেন ফারিণ। এতে আসে ২০২২ সালের সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ওপার বাংলা থেকে ডাক পেলেন অতনু ঘোষের ‘আরো এক পৃথিবী’ ছবিতে। এরপর আর কে পায় ফারিণের নাগাল। ওয়েব ফিল্ম, ওয়েব সিরিজ, ছোট ও বড় পর্দার অভিনয়, গান নিয়ে তরতর করে এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। ২০২৪ সালে আবারও কলকাতার একটি ছবিতে নাম লিখিয়েছিলেন ফারিণ। ছবির নাম ছিল ‘প্রতীক্ষা’। এতে ওপারের নায়ক দেবের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু দেশে তখন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ও সরকার পতনের পর ভারতে যাওয়ার ভিসা বন্ধ থাকায় ছবিটিতে কাজ করা নিয়ে অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় এর কাজ ছেড়ে দেন তিনি। এর আগে ‘পাত্রী চাই’ নামে কলকাতার আরেকটি ছবিতে কাজের কথা ছিল ফারিণের। সেটিও গত বছর একই কারণে বাতিল হয়। পরপর দুটি ছবির কাজ বাতিল হওয়া প্রসঙ্গে ফারিণ বলেন, ‘এটা কাকতালীয়। কী আর করার।’ এদিকে গত বছর তাসনিয়া ফারিণ দেশের বড় পর্দায় প্রথম হাজির হয়েছিলেন ছয় বছর আগে তার ক্যারিয়ারে প্রথম নাম লিখানো ছবি ‘ফাতিমা’ নিয়ে। ছবিটি দিয়ে ৪২তম ফজর আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অসাধারণ অভিনয়ের জন্য ক্রিস্টাল সিমোর্গ অ্যাওয়ার্ড জিতেন ফারিণ। ‘ফাতিমা’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করেন ফারিণ।
‘ফাতিমা’ সিনেমার পরিচালক ধ্রুব হাসান। সিনেমাটি বেশ কিছু উৎসব থেকে সম্মাননা ও প্রশংসা পেয়েছে। বর্তমানে বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিণ। নাটক, ওটিটির পাশাপাশি সিনেমা তো আছেই, তা ছাড়া গান দিয়েও মানুষের মন কেড়ে নিচ্ছেন এই অভিনেত্রী। ফারিণ বলেন, অভিনয়ের পাশাপাশি গানটাকেও নিয়মিত রাখতে চাই। সব অঙ্গনে নিজের দ্যুতি ছড়াতে চাই। নতুন খবর হলো, এবার শরীফুল রাজের বিপরীতে ছবিতে নায়িকা হিসেবে দেখা যাবে তাসনিয়া ফারিণকে। নির্মাতা সঞ্জয় সমদ্দার। ছবির নাম ‘ইনকিলাব’ এবং ‘ইনসাফ’ ওয়ার্কিং টাইটেল হিসেবে রয়েছে। এর মধ্যে যে কোনো একটি চূড়ান্ত হবে। এ সিনেমার মাধ্যমেই ঢাকাই চলচ্চিত্রের পুরোপুরি কমার্শিয়াল ছবির নায়িকা হিসেবে অভিষেক হচ্ছে ফারিণের। ছবিটি প্রযোজনা করছে তিতাস কথাচিত্র। চলচ্চিত্রের মানুষ ও দর্শকের কথায়, এবার বাণিজ্যিক ছবিতেও চমক দেখাবেন ফারিণ, তা নির্দ্বিধায় বলা যায়।