একদা এক সুন্দর ময়ূর ছিল। সে এক বৃষ্টির দিনে নাচচ্ছিল। সে যখন নিজের পুচ্ছের প্রশংসায় ব্যস্ত, তখন তার রুক্ষ স্বর তাকে তার নিজের ত্রুটিগুলোর কথা মনে করিয়ে দেয়, তার মনের সব আনন্দ ম্লান হয়ে গেল, সে কাঁদতে লাগল। হঠাৎ সে একটি নাইট অ্যাঙ্গেলের ডাক শুনতে পেল।
নাইট অ্যাঙ্গেলের মধুর কণ্ঠ শুনে সে তার নিজের ত্রুটি আরও স্পষ্টভাবে বুঝতে পারল। সে ভাবতে শুরু করল কেন তাকে এমন দুর্ভাগ্য দিয়ে জন্ম দেওয়া হয়েছে? সেই মুহূর্তে, ঈশ্বরদের দলপতি জুনো উপস্থিত হয়ে ময়ূরের উদ্দেশে সম্বোধন করলেন। ‘তোমার মন খারাপ কেন?’ জুনো ময়ূরকে জিজ্ঞাসা করলেন।
ময়ূর তার রুক্ষ স্বর সম্পর্কে অভিযোগ করল এবং সে ভারাক্রান্ত মনে বলল, ‘নাইট অ্যাঙ্গেলের এমন সুন্দর কণ্ঠস্বর রয়েছে। আমার কেন নেই?’
ময়ূরের কথা শোনার পরে জুনো ব্যাখ্যা করলেন- ‘প্রতিটি জীব তার নিজস্ব পদ্ধতিতে বিশেষ হয়। যা বৃহত্তর উদ্দেশ্যে কাজ করে। হ্যাঁ, নাইট অ্যাঙ্গেলের একটি সুন্দর কণ্ঠ অবশ্যই আশীর্বাদ, তবে তুমিও আশীর্বাদপ্রাপ্ত। এমন একটি সুন্দর এবং ঝলমলে পুচ্ছ দিয়ে! আসল কৌশলটি হলো গ্রহণযোগ্যতা এবং তোমার কাছে যা রয়েছে তার সব থেকে ভালোটা উপার্জন করা।’
ময়ূর বুঝতে পারল যে, নিজেকে অন্যের সঙ্গে তুলনা করে এবং নিজের পাওয়া সৌভাগ্যকে বুঝতে পারেনি। সে সেদিন বুঝতে পারল, প্রত্যেকেই কোনো না কোনোভাবে অনন্য।
গল্পের শিক্ষা
গ্রহণযোগ্যতাই হলো সুখের প্রথম পদক্ষেপ। আপনি যা পারেন না বা আপনার যা নেই তা নিয়ে অসন্তুষ্ট হওয়ার চেয়ে আপনার যা আছে তার সেরাটিকে নিয়ে নিজেকে তৈরি করুন।