দীর্ঘদিন থেকে শেরপুরের পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের নদী খননের সরকারি বালু লোপাট হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই বালু লোপাট দৃবৃত্তকারীদের দমাতে পারছে না।
গত শনিবার দিবাগত রাতে সদর উপজেলার চরপক্ষিমারি ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র নদের পুরাতন ঘাট সংলগ্ন ব্যাঙের মোড়ে সদর সার্কেল আব্দুল করিমসহ, সদর থানা পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগ এক অভিযানে অবৈধ বালু বোঝই চারটি ট্রাকের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছে।
স্থানীয়রা বলছেন, বিশেষ একটি শক্তিশালি গোষ্ঠী সরকারি বালু লোপাটের সাথে জড়িত। কয়েকবার প্রশাসন ব্যবস্থা নিলেও থামছে না সরকারি বালু লুটপাট। সরকারের অভ্যন্তরিণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিওটিএ) নদী খনন করে নির্ধারিত তিনটি পয়েন্টে বালু রাখছে। এসব বালু নিলাম হওয়ার কথা। কিন্তু রহস্যজনক কারণে নিলাম হচ্ছে না। আর এই নদী খননের লাখ লাখ ঘনসেন্টিমিটার বালু হাওয়া হয়ে যাচ্ছে। দিনেদুপুরে ও সারারাত বেক্যু ও ট্রাক ব্যবহার করে বালু বিক্রির রমরমা এই বাণিজ্য চলছে।
ট্রাফিক সার্জেন্ট শুভ্র জানায়, শনিবার রাতে এক অভিযানে শেরপুর-জামালপুর মহাসড়কে অবৈধ যানবাহন এবং অভার লোডিং বালু বোঝাই ট্রাক আটক করে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। তবে আইনগত সীমাবদ্ধতার কারণে পুলিশ অবৈধ বালুর বিষয়ে কোনও ব্যবস্থা নিতে পারেনি।
সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, গত বছরের ২১ নভেম্বর পর্যন্ত সরকারি হিসাব মতে চরপক্ষিমারি কুলুর চর বেপারিপাড়া একটি স্তুপে বালুর পরিমান ছিল ৯৯ হাজার ৬৮৪ ঘনফুট। ওই এলাকার আরেকটি স্তুপে ছিল ৪০ লাখ ৭৭ হাজার ১৮৩.৭৬৬ ঘনফুট বালু। কামারের চর মুন্সির চরের স্তুপে ছিল ৫১ লাখ ৮৯ হাজার ৪১৮.০১ ঘনফুট বালু। এই তিন স্থানে গত ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত মোট বালুর পরিমান ছিল ৯৩ লাখ ৬৬ হাজার ২৮৬.৪৬ ঘনফুট। ১৮ নভেম্বরের পরে কি পরিমাণ বালু ওই তিনটি স্তুপে রাখা হয়েছে তা জানা যায়নি।
এ বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুবায়ের আলম জানান, অবৈধ বালুর বিষয়টি সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং জেলা ও উপজেলা প্রশাসন দেখভাল করেন। পুলিশ ওভারলোডিং এবং কাগজপত্র সঠিক না থাকায় চারটি ট্রাক থেকে জরিমানা আদায় করেন।
বিআইডব্লিওটিএ' নির্বাহী প্রকৌশলি মহসিন মিয়া জানিয়েছেন, বালু রাখার স্থান ও রক্ষণাবেক্ষনের দায়িত্ব প্রশাসনের। এখানে খননের সাথে জড়িতরা প্রাণ ভয়ে থাকে। বালু নিলামের জন্য একটি কমিটি রয়েছে। কমিটির সমন্বয় হচ্ছে না। সুতারাং বালু নিলাম করা যাচ্ছে না।
এদিকে, সরকারি বালু লোপাটের বিষয়ে জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান বলেন, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ খনন করছেন বিআইডব্লিউটিএ। আমরা শুধু নদী খননের বালু ডাম্পিংয়ের জন্য স্থান নির্ধারণ করে দিয়েছি। জমিয়ে রাখার বালুর রক্ষনাবেক্ষনের দায়িত্ব শুধু জেলা প্রশাসনের নয়। বিআইডব্লিউটিএ আমাদেরকে এখনও কি পরিমান বালু রয়েছে তা বুঝিয়ে দেয়নি। বালু লুটপাটের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ