বগুড়ায় ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠছে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক। চিকিৎসা কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়লেও মানসম্পন্ন চিকিৎসকের অভাব থাকছে। এ কারণে ভুল ও অপচিকিৎসা হচ্ছে। গত এক বছরে ভুল চিকিৎসায় অন্তত সাতজনের মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা যায়, বগুড়া জেলায় বিভিন্ন নামে অসংখ্য বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক গড়ে উঠেছে। হাতে গোনা কয়েকটির রেজিস্ট্রেশন থাকলেও বাকি ক্লিনিকগুলো চলছে কাগজপত্র ছাড়াই। ফলে জবাবদিহিতা না থাকায় প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা।
সর্বশেষ ২৬ মার্চ বগুড়া শহরের কলোনি এলাকায় বেসরকারি সোনার দেশ ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় উজ্জ্বল হোসেন (৩০) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়। রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, সড়ক দুর্ঘটনায় পায়ে আঘাত পেয়ে আহত উজ্জ্বলকে সোনার দেশ ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছিল। কিন্তু সেখানে ক্লিনিক থেকে কী এক ইনজেকশন দেওয়ার পরপরই উজ্জ্বল ছটফট করতে করতে মারা যান। এ ঘটনার পর থেকে ক্লিনিকের অনেকেই কয়েক ঘণ্টা পালিয়েও ছিলেন। পরে টাকার বিনিময়ে বিষয়টির মীমাংসার করা হয়।
এর আগে ১ মার্চ শহরের জলেশ্বরীতলা এলাকায় এনাম ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অবহেলা ও ভুল চিকিৎসায় এক প্রসূতি মা ও তার গর্ভে থাকা সন্তানের মৃত্যুর অভিযোগ তোলে স্বজনরা।
প্রসূতির ভাই শফিউল ইসলাম জানান, তার গর্ভবতী বোন রোকসানা বেগমের প্রসব ব্যথা উঠলে ওই দিন সকাল ১১টায় এনাম ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করায়। ভর্তি হওয়ার পর ক্লিনিক থেকে জানানো হয় সিজার করতে হবে। কিন্তু ক্লিনিকে চিকিৎসক না থাকায় বিভিন্ন টালবাহানা করে সময় কাটাতে থাকে। ভর্তির প্রায় ১০ ঘণ্টা পর চিকিৎসক আসেন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে জানানো হয় ক্লিনিকে চিকিৎসা হবে না। পরে তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানকার চিকিৎসকরা জানান প্রসূতি হাসপাতালে আসার আগেই মারা গেছেন।
চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি শেরপুর উপজেলার রামচন্দ্রপুরপাড়ায় ভুল চিকিৎসায় নাওশিন নামের ১৪ মাসের এক মেয়ে শিশুর মৃত্যুর অভিযোগে ভুয়া চিকিৎসক জাবেদ ইকবাল বাবুকে পুলিশে সোপর্দ করে স্থানীয়রা। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ধুনট উপজেলায় জনসেবা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অস্ত্রোপচারের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে শ্রাবণী খাতুন (১৯) নামে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়। তার আগে জুন মাসে বগুড়ায় পল্লি চিকিৎসক জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে শিশুকে ভুল ইনজেকশন প্রয়োগে মৃত্যুর অভিযোগ তোলে স্বজনরা। গত ১৮ ডিসেম্বর বগুড়ায় ডায়াবেটিক হাসপাতালে মেরিনা বেগম (৫১) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়। হাসপাতালের স্টাফরা রক্ত পরীক্ষা করার পর সঠিক গ্রুপ নির্ণয় না করে তার শরীরে এবি পজিটিভ রক্ত দেয়। প্রকৃতপক্ষে রক্তের গ্রুপ ও পজেটিভ। এমতাবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ছাড়া ২০২৩ সালের ২৩ অক্টোবর বগুড়া শহরের সূত্রাপুর পিটিআই মোড় এলাকার আলিফ জেনারেল হাসপাতালে অপারেশন করতে গিয়ে ভুল চিকিৎসায় আয়েশা বেগম নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের ব্যাপারে বগুড়া সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. এস এম নূর ই শাদীদ জানান, সিভিল সার্জন কার্যালয়ে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। পাওয়া গেলে সে মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।