রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল এবং ক্লিনিকে সেবা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বর্জ্যও বাড়ছে। কিন্তু সমস্যা দেখা দিয়েছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে। এর অভাবে জনস্বাস্থ্যে ঝুঁকি বাড়ছে।
জানা গেছে, রাজশাহী বিভাগের সদরসহ বিভিন্ন জেলায় স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোর নিজস্ব কোনো ট্রিটমেন্ট প্লান্ট নেই। ফলে মেডিকেল বর্জ্যগুলো সঠিকভাবে ধ্বংস বা নিষ্কাশন না হওয়ায় পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি বাড়ছে ভাইরাসজনিত সংক্রমণ রোগের ঝুঁকি।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটি ১২০০ শয্যার। প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার রোগীকে সেবা প্রদান করে। ব্যবহৃত সিরিঞ্জ, রক্ত, পুঁজ, ব্যান্ডেজ, ক্যাথিটার, এমনকি কেটে ফেলা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গসহ অন্যান্য বর্জ্য সংগ্রহ করে একটি নির্দিষ্ট কক্ষে রাখা হয়। কিন্তু অনেক সময় এসব বর্জ্য হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে পড়ে থাকে।
হাসপাতালের মুখপাত্র শঙ্কর কে বিশ্বাস জানান, তিনটি ক্যাটাগরিতে বর্জ্য অপসারণ করা হলেও চুল্লিতে পোড়ানোর ব্যবস্থা সীমিত। তিনি জানান, রাজশাহীর প্রায় দেড় শ বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকেও নেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কোনো নিজস্ব ব্যবস্থা।
তবে ২০২০ সাল থেকে একটি বেসরকারি সংস্থা, প্রিজম বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন, রাজশাহী বিভাগের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর বর্জ্য সংগ্রহ করে তা সংক্রমণ মুক্ত করার পর সিটি হাটের পূর্ব পাশের ভাগাড়ে ফেলে। কিছু বর্জ্য আবারও ব্যবহারযোগ্য উপকরণ হিসেবে রিসাইকেল করে।
রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বিভাগের আট জেলার সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে প্রতিদিন প্রায় ১২ টন মেডিকেল বর্জ্য উৎপন্ন হয়। এর মধ্যে অর্ধেক ধ্বংস করা হলেও বাকিগুলো হাসপাতালের আনাচে-কানাচে পড়ে থাকে। ফলে বাড়ছে সংক্রমণ ও পরিবেশ দূষণের ঝুঁকি।
রাজশাহীর ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মাহবুবা খাতুন জানান, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় উদ্যোগ আছে। অন্য হাসপাতালের বর্জ্যগুলো যাতে পরিকল্পনা নিয়ে ট্রিটমেন্ট করা যায়, সে বিষয়ে ভাবা হচ্ছে।
প্রিজম বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের রাজশাহী জেলা সমন্বয়কারী নাকিবুল কায়েস জানান, রাজশাহী জেলা ও মহানগরে প্রতিদিন গড়ে দেড় থেকে দুই টন মেডিকেল বর্জ্য উৎপাদন হচ্ছে। এগুলো সংগ্রহ করে ধ্বংস করা হয়। যেগুলো পচনশীল সেগুলো মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়।
সূত্র আরও জানিয়েছে, বগুড়ায় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রতিদিন প্রায় দুই টন বর্জ্য জমা হয়। তবে অব্যবস্থাপনার কারণে অনেক বর্জ্য আবার বিভিন্ন স্থানে পড়ে থাকে, যা এইচআইভি, হেপাটাইটিস, টিটেনাসসহ নানা রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
নাটোর সদর হাসপাতালসহ ১৮৬টি ক্লিনিকের বর্জ্য প্রিজমের মাধ্যমে অপসারণ করা হলেও ট্রিটমেন্ট প্লান্টের অভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তবে সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ মুক্তাদির আরেফিন জানিয়েছেন, সরকার দ্রুত ট্রিটমেন্ট প্লান্ট তৈরির উদ্যোগ নিচ্ছে। সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল ও অন্যান্য স্থানে বর্জ্য সঠিকভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে না।