বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি যাদের সামর্থ্য আছে, তারা যদি এগিয়ে আসে, তাহলে অতিদরিদ্র আর অসহায়দের স্বাবলম্বী করা সহজতর হবে। অসহায় দুস্থদের জন্য সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারিভাবে সহায়তা করলে সামাজিকভাবে তাদের প্রতিষ্ঠিত হতে ব্যাপক সহায়ক হবে ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। ২০ জন দরিদ্র মহিলাকে বিনা মূল্যে সেলাই প্রশিক্ষণ ও মেশিন বিতরণ তাঁদের স্বাবলম্বী করার উদ্যোগের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। বসুন্ধরা গ্রুপের এই উদ্যোগ অনেক মহতী এবং অনুপ্রেরণাদায়ক।
তাদের এই সহযোগিতার ফলে ২০টি পরিবার নতুন করে ভালোভাবে বেঁচে থাকার স্বপ্ন খুঁজে পেল। এই মেশিন চালিয়ে তারা স্বাবলম্বী হবে। মহিলারা নিজেদের সংসারে ভূমিকা রাখবেন। যাঁরা স্বাবলম্বী হবেন, তাঁরা দেশের অর্থনীতির উন্নয়নেও ভূমিকা রাখবেন।
এতে আরো মানুষ অনুপ্রেরণা পাবে। সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারিভাবে এ ধরনের উদ্যোগ যত বেশি গ্রহণ করা হবে, দেশ তত সমৃদ্ধ আর উন্নত হবে। এ ছাড়া আমরা জেনেছি, বসুন্ধরা গ্রুপ শিক্ষার্থীদের বৃত্তিসহ নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকে। এটি খুবই ভালো উদ্যোগ।
‘শুভ কাজে সবার পাশে’—এই স্লোগানে তারা কাজ করে থাকে। বিশেষ করে তাদের সঙ্গে সব সময় নতুন প্রজন্মের ছাত্র-ছাত্রীরা জড়িত থাকে। এটি দুই দিক থেকে অনুপ্রেরণাদায়ক। একটি হচ্ছে, যারা বর্তমানে শিক্ষার্থী, তাদের মধ্যে একটি ভালো কাজের স্পিরিট তৈরি হচ্ছে। তারা যখন ভবিষ্যতে কর্মজীবনে যাবে, সব সময় সামাজিক কার্যক্রমের সঙ্গে থাকবে।
পাশাপাশি আজকে যারা দুস্থ গ্রামীণ জীবনে থাকে, যাদের বড় কোনো স্থানে গিয়ে প্রশিক্ষণ বা উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ নেই, তাদের প্রশিক্ষিত করে জীবনে স্বাবলম্বী হওয়ার একটি সুযোগ হাতে তুলে দিচ্ছে। যদি কেউ সেলাইয়ের কাজে ফুলটাইম ব্যয় করেন, তবে তিনি সংসারের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি দেশের জিডিপিতে একটি ভালো ভূমিকা রাখবেন। বসুন্ধরা শুভসংঘকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।