জান্নাতুল তখন এইচএসসি দেবেন আর ছোট বোন জ্যোতি আক্তার নবম শ্রেণিতে। ওই সময়েই দিনমজুর বাবা হঠাৎ করে সাফ জানিয়ে দেন, আর পড়ালেখা নয় এবার বন্ধ করতে হবে। মাস কয়েক পর দুই মেয়েকে ঢাকায় নিয়ে যাবেন। সেখানে গার্মেন্টস অথবা বাসাবাড়িতে কাজে দেবেন।
প্রচণ্ড মন খারাপ হয় দুই বোনের। কী করবে ভেবে উঠতে পারছিলেন না তাদের মা। আকাশ ভেঙে পড়েছে যেন মাথায়। এমন অবস্থায় জান্নাতুল ও জ্যোতির পাশে দাঁড়ায় বসুন্ধরা শুভসংঘ।
দুই বোন সুযোগ পায় কাছেই গড়ে ওঠা বসুন্ধরা শুভসংঘ সেলাই প্রশিক্ষণে। তিন মাস দুই বোনই কঠোর পরিশ্রম করে আয়ত্তে আনে সেলাইয়ের সব কাজ। কাজ শেখার পর দুই বোনের মধ্যে জ্যোতিকে দেওয়া হয় একটি সেলাই মেশিন। বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে একটি সেলাই মেশিন পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয় পুরো পরিবার।
এখন বাবাও আর মেয়েদের পড়ালেখা থামাতে বলেন না। দুই বোন মিলে সেলাইয়ের কাজ করতে থাকে। নানা পরিকল্পনা মাথায় নিয়েই চলে তাদের কর্মকাণ্ড। এক বোন প্রতিবেশীদের সঙ্গে সখ্য গড়ে পোশাক তৈরির কাজ নিয়ে আসে। অপরজন তা তৈরি করে সময়মতো পৌঁছে দেয়।
দ্রুত এবং কম দামে ভালো কাপড় তৈরি পেয়ে প্রতিবেশীরাও বেজায় খুশি। একদিকে অল্প খরচে প্রয়োজনীয় পোশাক তৈরি করছে; অন্যদিকে এমন একটি অসহায় পরিবারকে কিছু দিতে পেরে আত্মতৃপ্তি পাচ্ছে। প্রতিনিয়তই বাড়ছে দুই বোনের আয়। সেই সঙ্গে চলছে পড়াশোনা। জান্নাতুল পড়ছেন কিশোরগঞ্জ গুরুদয়াল সরকারি কলেজে এবং জ্যোতি পড়ছে স্থানীয় নান্দাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে। অর্থের অভাবে যখন দুই বোনের পড়ালেখা বন্ধ হতে যাচ্ছিল, ঠিক সেই সময়েই পাশে দাঁড়িয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। জ্যোতি বলে, ‘আমি যখন নবম শ্রেণিতে পড়ি, তখনই বাবার পরিষ্কার কথা, পড়ালেখা বন্ধ করতে হবে। হয় বিয়ে, অন্যথায় ঢাকায় গিয়ে কাজ করা। এই কথায় মন খারাপ হলেও করার কিছুই ছিল না। বাবার কথায়ই প্রস্তুত ছিলেন মা। অবশেষে সেই বিপদ থেকে রক্ষা করল বসুন্ধরা শুভসংঘ। তারা আমাকে ও বোনকে নতুন পথ দেখিয়েছে। এখন আমাদের খরচ আমরাই জোগাড় করি। বাবার দিকে চেয়ে থাকতে হয় না। এখন আমাদের পড়ালেখা কে থামায়।’
বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ