চট্টগ্রাম নগরীর অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র স্বাধীনতা কমপ্লেক্স প্রায় ছয় মাস ধরে বন্ধ। ফলে পড়ন্ত বিকালে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা এখন আর সেখানে প্রবেশ করতে পারছেন না। গত ৫ আগস্টের পর কমপ্লেক্সটি বন্ধ আছে।
কালুরঘাট স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র-সংলগ্ন ১৬ দশমিক ৩৭ একর জায়গায় গড়ে ওঠা কমপ্লেক্সটির মালিক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। বন্ধ থাকা কমপ্লেক্সটি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) পরিচালনার জন্য বরাদ্দ চেয়ে গত ২১ নভেম্বর মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছে। তবে মন্ত্রণালয় থেকে এ ব্যাপারে কোনো উত্তর আসেনি। এর আগেও চসিক এটি পরিচালনা করেছিল।
জানা যায়, ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাঁচ বছরের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে। চুক্তি মতে, বছরে আড়াই কোটি টাকা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার কথা। বন্ধ হওয়ার আগে দৈনিক ৭০০-৮০০ এবং শুক্র ও শনিবার ১ হাজার থেকে ১২০০ পর্যন্ত দর্শনার্থী প্রবেশ করতেন। এটি নগরের অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র।
চসিকের রাজস্ব বিভাগের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, চসিককে ইজারা দেওয়ার জন্য যে আবেদন করা হয়েছিল সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে এখনো কোনো উত্তর আসেনি।
স্বাধীনতা কমপ্লেক্সের পরিচালক মো. মাকসুদ আলী বলেন, গত প্রায় ছয় মাস ধরে পার্কটি বন্ধ। ফলে দর্শনার্থীরা এখানে প্রবেশ করতে পারছেন না। এ ব্যাপারে আমরা মন্ত্রণালয়ে অবহিত করেছি। আশা করি, মন্ত্রণালয় থেকে এ ব্যাপারে একটি নির্দেশনা দেওয়া হবে।
জানা যায়, এখানে আছে দেশের প্রায় সব ঐতিহাসিক স্থাপনার মিনি সংস্করণ বা রেপ্লিকা। পার্কটিতে জাতীয় সংসদ ভবন, জাতীয় স্মৃতিসৌধ, সোনা মসজিদ, আহসান মঞ্জিল, কার্জন হল, লালবাগ কেল্লা, শহীদ মিনার, কান্তজির মন্দির, বড় কুঠি, ছোট কুঠি, দরবার হল, সেন্ট নিকোলাস চার্চ, হাই কোর্ট, পাহাড়পুর বিহার, চিরন্তন পল্লীসহ উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থানগুলোর আদলে তৈরি করা হয়েছে মিনি স্থাপনা। এ ছাড়া পার্কটিতে আছে- চাকমা, মারমা, ত্রিপুরাসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিসত্তা এবং বিভিন্ন জেলার ইতিহাস-ঐতিহ্যনির্ভর রেপ্লিকা ইত্যাদি তৈরি করা হয়েছে। আছে ২৪তলা বিশিষ্ট ঘূর্ণায়মান হোটেলের সঙ্গে ওয়াচ টাওয়ার ও অ্যামিউজমেন্ট রাউড, প্যাডেল বোট, ফ্যামিলি কোস্টার, বেবি ক্যাসেল, বেলুন হুইল। ৫ আগস্টের পর এখানে ভাঙচুর হয়। এখন রাইডার, এসি, ফ্যানসহ অনেক কিছু নষ্ট পড়ে আছে।