মহাবিশ্বের বিবর্তন নিয়ে প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন এক বিশাল সর্পিল ছায়াপথ। মহাকাশ গবেষণায় এটা নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। ভারতীয় ক্রাইস্ট ইউনিভার্সিটি-এর নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণা অনুযায়ী, সম্প্রতি রয়েল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি-তে প্রকাশিত এক গবেষণায় এই ছায়াপথের সন্ধান পাওয়া গেছে।
প্রায় এক বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত 2MASX J23453268−0449256 নামের এই ছায়াপথটি আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির চেয়ে অন্তত তিন গুণ বড়। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এটি একটি সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোলের অধিকারী, যা ছয় মিলিয়ন আলোকবর্ষ দীর্ঘ রেডিও জেট তৈরি করছে। সাধারণত, এমন শক্তিশালী জেট কেবল উপবৃত্তাকার (Elliptical) ছায়াপথে দেখা যায়। কিন্তু একটি সর্পিল গ্যালাক্সিতে এটি বিরল এক ঘটনা।
গবেষণার প্রধান লেখক অধ্যাপক জয়দীপ বাগচি বলেন, এটি শুধুই একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা নয়, বরং আমাদের ছায়াপথের বিবর্তন এবং ব্ল্যাক হোলের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। এত শক্তিশালী জেট নির্গত হওয়ার পরও ছায়াপথটির গঠন অক্ষুণ্ণ রয়েছে। এর সুস্পষ্ট সর্পিল বাহু, উজ্জ্বল কেন্দ্রীয় বার এবং একটি স্থিতিশীল নক্ষত্রমণ্ডল রয়েছে, যা এটিকে এক আশ্চর্য মহাজাগতিক বস্তুতে পরিণত করেছে।
গবেষণায় আরও জানা যায়, এই ছায়াপথটি একটি গরম গ্যাসের বলয়ে আবৃত, যা নতুন নক্ষত্র গঠনে বাধা সৃষ্টি করছে। ফলে এটি মহাবিশ্বের অন্যান্য ছায়াপথের ভবিষ্যৎ সম্পর্কেও নতুন প্রশ্ন তুলছে।
আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্রে অবস্থিত সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোল (Sagittarius A) বর্তমানে সুপ্ত থাকলেও ভবিষ্যতে Tidal Disruption Event (TDE) ঘটলে এটি ধ্বংসাত্মক জেট তৈরি করতে পারে। গবেষকরা আশঙ্কা করছেন, এমন একটি ঘটনা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে, ডিএনএ-তে মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে, এমনকি প্রাণের বিবর্তনেও প্রভাব ফেলতে পারে।
গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, এই নতুন ছায়াপথে মিল্কিওয়ের তুলনায় ১০ গুণ বেশি ডার্ক ম্যাটার (Dark Matter) রয়েছে, যা এটি দীর্ঘস্থায়ী ও স্থিতিশীল থাকার মূল কারণ হতে পারে।
গবেষণা দলের সদস্য শংকর রায় বলেন, এ ধরনের বিরল ছায়াপথের বিশ্লেষণ আমাদের মহাবিশ্বের অদেখা শক্তি, অন্ধকার বস্তু এবং গ্যালাক্সির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিতে পারে।
বিডিপ্রতিদিন/কবিরুল