হঠাৎই ছন্দপতন কানাডায়। দেশটির প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধানের পদ থেকে জাস্টিন ট্রুডো গত পরশু পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। এর পর থেকে দেশটির ভবিষ্যৎ রাজনীতি কেমন হতে পারে সেটিই সম্ভবত বর্তমান সময়ের অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এদিকে ট্রুডোর পদত্যাগ ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি হাস্যকর মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘কানাডার জনগণ নিজের দেশকে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য হিসেবে দেখতে চায়। আর এ বিষয়টি বুঝতে পেরেই পদত্যাগ করেছেন ট্রুডো।’ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার একীভূত হয়ে দেশটির ৫১তম অঙ্গরাজ্যে পরিণত হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করে নিজের সমাজমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্টও করেছেন ট্রাম্প।
লিবারেল পার্টিকে ১২ বছর নেতৃত্ব দেওয়ার পর ট্রুডো পদত্যাগের ঘোষণা দেন। পদত্যাগের পর তাঁর উত্তরাধিকার নির্বাচনের লড়াইয়ের সূচনা হয়েছে। কানাডার রাজনৈতিক ব্যবস্থায় হাউস অব কমন্সের সবচেয়ে বড় দল হিসেবে যিনি লিবারেল পার্টির প্রধান হবেন, দেশটির প্রধানমন্ত্রীও হবেন তিনিই।
লিবারেলদের পরবর্তী নেতা কে
পার্লামেন্ট অধিবেশন স্থগিত থাকা অবস্থায় আগামী ২৪ মার্চের মধ্যে কানাডার লিবারেল পার্টিকে তাদের নতুন নেতা বেছে নিতে হবে। কিন্তু কোন কোন প্রক্রিয়ায় কীভাবে দলটি নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। সাধারণত চার-পাঁচ মাসের একটি লম্বা প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দলগুলো নতুন নেতা নির্বাচন করে থাকে। এ প্রক্রিয়ার মধ্যে আনুষ্ঠানিক একটি সম্মেলনও অন্তর্ভুক্ত থাকে। কিন্তু এবার নেতা নির্বাচন করার জন্য লিবারেলরা বেশি সময় পাবেন না। তবে সোমবারের ভাষণে তার আভাস দিয়েছেন ট্রুডো। তিনি বলেছেন, দেশব্যাপী একটি ‘শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লিবারেল পার্টির নতুন নেতা নির্বাচন করা হবে।
ট্রুডোর উত্তরসূরি কে হতে যাচ্ছেন, তা এখনো পরিষ্কার নয়। তবে বেশ কয়েকজনের নাম শোনা যাচ্ছে। তাদের মধ্যে ট্রুডোর সরকারের সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড, পরিবহনমন্ত্রী অনিতা আনন্দ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা মার্ক কারনির নাম বেশ আলোচনায় রয়েছে। তবে এঁদের মধ্যে অনিতা আনন্দকে সবাই এগিয়ে রাখছেন। বলে রাখা ভালো, তিনি ভারতীয় বংশোদ্ভূত।
অনিতা আনন্দ কে
বর্তমানে তিনি সরকারের পরিবহন ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদে কর্মরত আছেন। অনিতার বয়স ৫৭ বছর। তিনি কুইন্স ইউনিভার্সিটি এবং অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে শিক্ষা লাভ করেন ও স্নাতক হন। তাঁর বাবার নাম এস ভি আনন্দ। মায়ের নাম এস ভি (অ্যান্ডি) আনন্দ, দুজনেই ছিলেন ভারতীয় চিকিৎসক। এর আগে তিনি অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সিএনএন, বিবিসি