ভাঙ্গা উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের কুমারখালী গ্রামের দুই যুবক ইতালি যেতে গিয়ে দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার বিকালে ঐ দুই যুবকের অভিভাবকরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের সন্তানের গুলিবিদ্ধ লাশ দেখতে পান। এরপর দুই বাড়িতে শোকের মাতম চলছে। স্থানীয় শত শত লোক দুই বাড়িতে ভিড় করেছে। এই দুই যুবক হলেন কুমারখালি গ্রামের মিন্টু হাওলাদারের ছেলে হৃদয় হাওলাদার (২২) ও মজিবর হাওলাদারের ছেলে আকাশ হাওলাদার (২২)।
মজিবর হাওলাদার ও মিন্টু হাওলাদার জানান, গত দুই মাস আগে তাদের দুই সন্তান দালাল চক্রের মাধ্যমে ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে রওনা হয়। প্রথমে ঢাকা থেকে দুবাই যায়। এরপর দুবাই থেকে মিশর হয়ে লিবিয়া যায়। এরপর লিবিয়া হয়ে ইতালির উদ্দেশ্যে তারা রওনা হয়েছে বলে গত ২৪ জানুয়ারি দালাল চক্র আমাদেরকে জানায়। লিবিয়া থেকে ইতালি যাবে বলেও জানায়। গত ২৪ জানুয়ারির পরে আমরা আমাদের ছেলেদের সাথে আর যোগাযোগ করতে পারিনি। গত ২/৩ দিন ধরে দালাল চক্র আমাদেরকে জানায় ওরা হাসপাতালে, আবার কখনও জানায় ওরা পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে। শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) বিকালে আমাদের ফোনে ছবি আসে। ছবিতে একটি সাগরপাড়ে ওদের গুলিবিদ্ধ লাশ দেখতে পাই। দালাল চক্র আমাদের নিকট থেকে মোট ৩৩ লাখ টাকা নিয়েছে। এই চক্রই আমাদের ছেলেদেরকে হত্যা করেছে।
তারা আরও অভিযোগ করেন, দালাল চক্রের মধ্যে রয়েছে কুমারখালি গ্রামের আনোয়ার মাতুব্বর, আবু তারা মাতুব্বর, মাদারীপুরের শ্রীরামপুর গ্রামের জুলহাস, যশোরের ঝিকরগাছা গ্রামের আজাদসহ আরও কয়েকজন রয়েছে।
এ ব্যাপারে কুমারখালী গ্রামের আনোয়ার মাতুব্বর ও আবু তারা মাতুব্বরের সাথে চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। মজিবর হাওলাদার বলেন, আমরা এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নিব।
এ ব্যাপারে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মোকছেদুর রহমান বলেন, এখনও কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিডি প্রতিদিন/এএ