দরজায় কড়া নাড়ছে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। তাই দর্জিপাড়ায় নতুন কেনা পোশাক ফিটিং এবং তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। ঈদ উৎসবের সাজ ও পোশাকের জন্য এখন দিন-রাতে ব্যস্ততা বগুড়ার দর্জিপাড়ায়। দর্জি শ্রমিক নেতারা বলছেন, জেলায় এবার প্রায় দুই হাজার কারিগরের হাতে তৈরি হচ্ছে ঈদের নানা ধরনের পোশাক।
জানা যায়, ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে মেশিনে বসে সমান তালে কাজ করছেন কারখানাগুলোর কারিগররা। সময় আর আধুনিকতা এসবের সঙ্গে তাল মিলিয়েই নিত্য নতুন পোশাক তৈরিতেই এখন তাদের মনোযোগ। কখনো প্যান্ট-শার্ট, সালোয়ার-কামিজ আবার কখনো পাঞ্জাবি তৈরিতে মেশিনে অবিরত চলছে খরখর শব্দ।
কারিগররা বলছেন, পছন্দের এসব পোশাক চাঁদ রাতের আগেই ক্রেতাসাধারণকে ডেলিভারির স্লিপ দেখে বুঝিয়ে দিতে হবে। তবেই স্বস্তি। নইলে মালিকের বকুনি আর ক্রেতার ধমকানিতে মাটি হয়ে যাবে তাদের ঈদ। তাই রাত-দিন একাকার করে কাজ করে যাচ্ছেন তারা।
ঈদ উৎসব ঘিরে শুধু নামিদামি টেইলার্স হাউসগুলোই যে ব্যস্ত সময় পার করছে তা নয়। ঈদকে সামনে রেখে পাড়া-মহল্লার ছোট ছোট দর্জি দোকানগুলোতে এখন চলছে রাত-দিনের ব্যস্ততা। গ্রামেও বিভিন্ন দর্জি দোকান ঘুরে দেখা গেছে একই চিত্র। প্রতিটি দোকানে সেলাই কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন দর্জিরা। তারা প্রতিদিন তৈরি করছেন অর্ডার নেওয়া পোশাক।
বগুড়া শহরের গালাপট্টি মন্ডল মার্কেটের পোশাক তৈরির কারিগর মো. তারেক জানান, রোজার শুরু থেকেই কারিগরদের কর্মব্যস্ততা বেশি। দম ফেলানোর সময় নেই। সময়মতো ডেলিভারি দিতে হবে। এজন্য দিন-রাত কাজ করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, একটি প্যান্ট তৈরি করে মজুরি পাওয়া য়ায় ২০৪ টাকা। আর শার্ট তৈরির মজুরি পাওয়া যায় ১৫৭ টাকা। দিনে ৬ থেকে ৭টি প্যান্ট-শার্ট তৈরি করা যায়। এতে একজন শ্রমিক দিনে-রাতে মজুরি পান প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত।