রাজশাহী অঞ্চলের মহাসড়কগুলোতে তিন চাকার নসিমন, করিমন, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ভ্যানসহ হালকা যানবাহনের চলাচল আগের তুলনায় বেড়েছে। এসব যান মহাসড়কে বন্ধ না হওয়ায় বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা। গত এক বছরে এ অঞ্চলে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪৭৫ জন, আহত হয়েছেন ৬০০ জনেরও বেশি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার অভাব, যানবাহনগুলোর বেপরোয়া গতি, অদক্ষ চালক ও অসচেতনতার কারণে এসব দুর্ঘটনা ঘটছে বলে দাবি করেছেন পরিবহন মালিক ও চালকরা। তবে পুলিশ জানিয়েছে, মহাসড়কে থ্রি-হুইলার ও অবৈধ যান চলাচল বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হাইওয়ে পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে রাজশাহীতে ৫৮ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৬৮, আহত হয়েছেন প্রায় ২০০ জন। এভাবে নওগাঁয় ৪৭ দুর্ঘটনায় নিহত ৬৫, বগুড়ায় ১১৫ দুর্ঘটনায় নিহত ৯৮, নাটোর ও সিরাজগঞ্জের মহাসড়কে নিহত ২০০ জন। অধিকাংশ দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে বেপরোয়া গতি, ওভারটেকিং ও অনিয়ন্ত্রিত যান চলাচলকে দায়ী করা হচ্ছে।
রাজশাহী বাস মালিক গ্রুপের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মতিউল হক টিটো বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা একাধিক বৈঠক করেছেন। কিন্তু তিন চাকার এসব যান মহাসড়ক থেকে নামানো যায়নি। কিছুদিন বন্ধ থাকে। এরপর আবার চলাচল শুরু হয়। এখন তো দেখারও কেউ নেই। নওগাঁ জেলা বাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘আইনের সঠিক প্রয়োগ না থাকায় মহাসড়কে অবৈধ যান চলাচল বন্ধ করা যাচ্ছে না, এতে প্রতিদিনই দুর্ঘটনা বাড়ছে।’ বিভিন্ন যানবাহনের চালকরাও একই অভিযোগ করে বলেন, পুলিশি নজরদারির অভাবে মহাসড়কে এসব অবৈধ যান দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।
বগুড়া হাইওয়ে পুলিশের এসপি (অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মো. শহিদ উল্লাহ বলেন, ‘মহাসড়কের তিন চাকার যান চলাচলে মাঝে মাঝে অভিযান চালানো হয়। ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড বসানোর পাশাপাশি অবৈধ যান চলাচল বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’