প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য তাকে (শেখ হাসিনা) বাংলাদেশে এনে সশরীরে বিচার করা। জাতিসংঘের প্রতিবেদনের পর তাকে ফেরত পাঠাতে চাপ তৈরি হচ্ছে।’ গতকাল রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ব্রিফিংয়ে ‘ভারত যদি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত না দেয় তাহলে তার অনুপস্থিতিতে বিচার’-সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় উপ প্রেস সচিব আবুল কালাম মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।
প্রেস সচিব বলেন, কিছুদিন আগে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের যে রিপোর্ট হয়েছে, তাতে স্পষ্ট শেখ হাসিনা কী ধরনের অপরাধ করেছেন।
তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এটা বড় ধরনের অপরাধ। জাতিসংঘ ও কিছু কিছু মানবাধিকার কমিশনের রিপোর্টের পর অনেক চাপ তৈরি হয়েছে। এই চাপের একটা নমুনা দেখেছেন যে ইন্ডিয়া টুডে একটা জরিপ করেছে, সেখানে দেখা গেছে ৫৫ শতাংশ মানুষ চায় শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে। কিছু অংশ চাচ্ছে তাকে অন্য দেশে দিতে। মাত্র ১৬-১৭ শতাংশ মানুষ চায় শেখ হাসিনাকে ভারতে রাখতে।
প্রেস সচিব বলেন, ‘আমরা তো আমাদের মতো প্রত্যর্পণ চেয়ে ভারতকে জানিয়েছি। আমাদের চাপ অব্যাহত থাকবে। আমরা চাইব সশরীরে হাজির করে তার ট্রায়ালটা হতে। বাংলাদেশের মানুষ তার ট্রায়াল দেখতে চায়। তাকে আইনের আওতায় আনা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তার জন্য যত কাজ করা প্রয়োজন, তার সবগুলো আমরা করছি।’
আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিয়ে সরকারের ভাবনা কী, জানতে চাইলে শফিকুল আলম বলেন, ‘আমাদের একটাই কথা আওয়ামী লীগের যেসব নেতা-কর্মী ও সমর্থক জুলাই গণহত্যার সঙ্গে জড়িত, গুম-খুনে জড়িত, দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত; তাদের সবার বিচার হবে। এরপর দেশের মানুষ ও রাজনৈতিক দলগুলো আওয়ামী লীগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।’
প্রধান উপদেষ্টার দুবাই সফরের প্রসঙ্গ টেনে শফিকুল আলম বলেন, ‘দুবাইয়ে বাংলাদেশি শ্রমিক নিষেধাজ্ঞায় রয়েছে। এ নিয়ে ড. ইউনূস সেখানকার পাঁচ থেকে ছয়জন মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। আশা করছি, এই নিষেধাজ্ঞা দ্রুত উঠে যাবে।’