রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার তাহেরপুর পৌরসভার কাউন্সিলর কার্ত্তিক সাহা। আওয়ামী লীগের পুরোটা সময় ছিলেন ক্ষমতাশালী। সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদের সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। কৃষিজমি নষ্ট করে এলাকায় শতাধিক পুকুর খনন করায় তিনি পরিচিতি পান ‘পুকুর কার্ত্তিক’ নামে। ৫ আগস্টের পর প্রেক্ষাপট বদলে যাওয়ায় কার্ত্তিকও দল বদলিয়েছেন। এখন তিনি বিএনপির ছত্রছায়ায় এলাকায় আধিপত্য ধরে রেখেছেন। যা নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হয়েছেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা। কার্ত্তিক সাহা এখন পৌর বিএনপির সভাপতি আবু নঈম শামসুর রহমান মিন্টুর ছত্রছায়ায় চালিয়ে যাচ্ছেন তার কর্মকান্ড। যা তিনি স্বীকারও করেছেন।
তাহেরপুরের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক সোহেল রানা জানান, জুলাই বিপ্লবের সময় বাগমারাসহ পাশের এলাকায় ছাত্র-জনতার ওপর যে হামলা-নির্যাতন করা হয়েছে, তার অন্যতম মাস্টারমাইন্ড ছিলেন কার্ত্তিক সাহা। তার নেতৃত্বে ৫ আগস্ট আগ্নেয়াস্ত্র, দেশি অস্ত্র ও হেলমেটসহ ১০০ জনের মতো সশস্ত্র একটি দল ভবানীগঞ্জে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে। সে সময় তার সহযোদ্ধা মুনছুরসহ অনেকেই আহত হন। জুলাই বিপ্লবে হামলাকারী চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করলেও প্রশাসন এখনো কোনো অস্ত্র উদ্ধার করেনি বা এখনো তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তাহেরপুর পৌর বিএনপির সভাপতি আবু নঈম শামসুর রহমান মিন্টু জানান, কার্ত্তিক সাহা তার পরিচিত। তাকে কোনো শেল্টার দেওয়া হচ্ছে না। তিনি পুকুর খননের সঙ্গেও জড়িত নন।