বরিশালে বাড়ছে মব জাস্টিস। গত কয়েক দিনে বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। পিটিয়ে হত্যার ঘটনাও রয়েছে। মব জাস্টিস প্রতিরোধে সমাজসচেতনতা যেমন প্রয়োজন, তেমন আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিত বাহিনী কঠোর না হলে এসব প্রতিরোধ করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্টজনেরা।
১৪ মার্চ বরিশালের গৌরনদীতে এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় এক ছাত্রশিবির নেতাকে আটক করেন স্থানীয়রা। দুজনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। এর পরদিন বরিশাল নগরীর ধান গবেষণা রোডে ধর্ষণের অভিযোগে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করে এলাকাবাসী। হিজলা উপজেলায় মেঘনা নদীতে পণ্যবাহী নৌযান থেকে চাঁদা উত্তোলনের অভিযোগে এক জেলেকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আগৈলঝাড়া উপজেলায় ৩০ মার্চ ধর্ষণের অভিযোগে এক যুবককে গাছের সফঙ্গ বেঁধে নির্যাতন করা হয়। ১ এপ্রিল উজিরপুরে পরকীয়ায় জড়িত থাকার অভিযোগে প্রবাসীর স্ত্রী ও এক যুবককে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে বেধড়ক মারধর করা হয়। আগৈলঝাড়ায় এক আইসক্রিম ফ্যাক্টরি থেকে ৭০ হাজার টাকা চুরির অভিযোগে কর্মচারী লিমন পাইক ও তার বন্ধু ইমন মোল্লাকে ধরে এনে চুল কেটে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করা হয়। এ ছাড়া তাদের চোর ও পরিচয় লিখে প্ল্যাকার্ড গলায় ঝুলিয়ে বাজারে ঘোরানো হয়। কেউ অপরাধ করলে তার বিচার করার জন্য আইন-আদালত রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে তাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে সোপর্দ করা যায়। কিন্তু তা না করে এভাবে নির্যাতন করা মোটেও সমর্থনযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন সিনিয়র সিটিজেন ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আইনের শাসন ও সঠিক বিচারের অভাব রয়েছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা না করা পর্যন্ত এটা বন্ধ হবে না। নিময়তান্ত্রিক পন্থার বিকল্প নেই। নিয়ম না মেনে কোনো কিছু করলেই মানুষের মধ্যে একটা শূন্যতা তৈরি হয়।
এ ছাড়া কিছু সুযোগসন্ধানী রয়েছে। তদন্ত করলে দেখা যাবে তারা মব জাস্টিসের জন্য দায়ী। এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আস্থা ফিরিয়ে আনারও বিকল্প নেই।’ সচেতন নাগরিক কমিটির সাবেক সভাপতি ও বরিশাল মহিলা পরিষদের সভানেত্রী শাহ সাজেদা বলেন, ‘আইন অমান্য করে বিচার নিজেদের হাতে নেওয়া সভ্য সমাজের কাজ নয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর ও সতর্ক হতে হবে। যেখানে মব জাস্টিস ঘটেছে, যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।’ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিত্ব ও বয়োজ্যেষ্ঠদেরও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যেখানে এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে, সেখানে তাদের এগিয়ে গিয়ে অপ্রীতিকর ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।’
এ বিষয়ে বরিশাল মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নগরীতে একটি ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ মামলা নিয়ে প্রধান অভিযুক্তকে আইনের আওতায় নিয়ে এসেছে। অন্যদেরও ধরতে কাজ করছে। মব জাস্টিসে জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে এলেই এটা কমে যাবে। আমরা সে কাজটিই করেছি। মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ মব জাস্টিস বন্ধে কাজ করছে। কোনো ঘটনা তাদের নজরে এলেই সেখানে পুলিশ গিয়ে প্রতিরোধে ভূমিকা রাখছে।’