আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, তার স্ত্রী নুরান ফাতেমা, মেয়ে নাফিসা জুমাইনা মাহমুদসহ তাদের পাঁচ প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা ব্যাংক হিসাবে জমাকৃত ২৪ কোটি টাকাসহ ৭৭টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ জাকির হোসেন গালিব এ আদেশ দেন।
দুদকের আদালত পরিদর্শক আমির হোসেন বলেন, দুদকের উপপরিচালক কমলেশ মন্ডল এসব হিসাব অবরুদ্ধের জন্য আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করে আদেশ দেন।
এর মধ্যে হাসান মাহমুদের ৮টি, নুরান ফাতেমার ১৪টি, নাফিসা জুমাইনা মাহমুদের ৬টি, হাছান মাহমুদ ও স্ত্রীর জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট ৩টি, বিসমিল্লাহ মেরিন সার্ভিসের ৩৪টি, বিসমিল্লাহ মেরিন সার্ভিসেস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড হোল্ডিংসের ৬টি, অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ সোলার পাওয়ার লিমিটেডের ৩টি, সুখী বাংলা ফাউন্ডেশনের ২টি ও বিসমিল্লাহ মেরিন সার্ভিস জেএএস লিমিটেডের ১টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়, দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধানকালে জানা যায় যে, মোহাম্মদ হাছান মাহমুদ, তার স্ত্রী নুরান ফাতেমা, নাফিসা জুমাইনা মাহমুদ এবং তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নামীয় ব্যাংক হিসাবে সন্দেহজনকভাবে ৭৫৩ কোটি ৩০ লাখ ২৭ হাজার ৫৫৯ টাকা লেনদেন হয়েছে। উক্ত লেনদেনগুলো সন্দেহজনক লেনদেন, কারণ লেনদেনগুলো অভিযোগ সংশ্লিষ্ট মোহাম্মদ হাছান মাহমুদ প্রতিমন্ত্রী ও মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সংগঠিত হয়েছে। যেখানে মানি লন্ডারিং উপাদান থাকার সম্ভাবনা অনেক বেশি। এ ছাড়াও বর্তমানে উক্ত হিসাবগুলোতে ২৪ কোটি ৬৬ লাখ ৪১ হাজার ৯৫৮ টাকা রয়েছে।
আবেদনে আরও বলা হয়, দুর্নীতি দমন কমিশন কর্তৃক অনুসন্ধান শুরুর পর থেকে অভিযোগ সংশ্লিষ্টরা তাদের ব্যাংকে রক্ষিত টাকা উত্তোলনের চেষ্টা করছেন বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়। অপরাধলব্ধ আয়ের মাধ্যমে অর্জিত বর্ণিত সম্পদের বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে তা বেহাত হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ১৭ ধারা মতে রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা সম্ভব হবে না বিধায় রাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অপরাধলব্ধ আয়ের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ মানি লন্ডারিং আইনের ১৪ ধারামতে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট মোহাম্মদ হাছান মাহমুদ এবং তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে অর্জিত অস্থাবর সম্পত্তি উত্তোলন, হস্তান্তর বা মালিকানাস্বত্ব¡ বদল রোধের জন্য উক্ত অস্থাবর সম্পত্তি অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন।