ব্যাগের ভাড়ে যেনো নুইয়ে পড়ছে শিশুর কাঁধ। স্কুল থেকে কোচিং তারপর আবার হোম টিউটর। বিনোদন বলতে শুধু ইলেকট্রনিকস ডিভাইস। শারীরিক চর্চার সময়টাও নেই ওদের। এভাবেই কাটছে শিশুদের শৈশব। গ্রাম বাংলার সেই হারানো দিনের খেলা তাদের কাছে অচেনা।
চিবুড়ি, কানামাছি, গোল্লাছুট, ব্যাঙ লাফ, মোরগ লড়াই, সোলাসি, ডাংগুলি, চাড়া খেলা, লুডু, কড়ি খেলার পরিবর্তে শিশুরা মেতে আছে মোবাইলে গেম খেলে, ডিজিটাল প্লাটফর্মে বা ইউটিউবে অলস সময় কাটানোয়। এখন আর তাই শিশুদের মাঝে যেন নেই গ্রাম বাংলার কোলাহল, প্রাণের স্পন্দন। শারীরিক বৃদ্ধি, শিশুর মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্থ হচ্ছে আজকের ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারে। শিশুরা হচ্ছে বিকলঙ্গ। আর তাই বাপদাদার যুগের হারানো দিনের খেলার সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে নড়াইলের লোহাগড়ায় আয়োজন করা হয় "চল ফিরে যাই হারানো দিনের খেলাধুলায়, পরিচিত হই গ্রাম বাংলার সেই ঐতিহ্যের সাথে।"
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার শালনগর ইউনিয়নের পারশালনগর গ্রামে শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিদ্যাবিথী একাডেমি চত্বরে হারানো দিনের এ খেলার আয়োজন করা হয়। বসুন্ধরা শুভসংঘ'র আয়োজনে মঙ্গলবার (৪ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় এ গ্রামীণ খেলাধূলা অনুষ্ঠিত হয়। খেলা শেষে আলেচনা সভা ও বিজয়ীসহ সকল শিশুদের মাঝে পুরস্কার স্বরুপ শিক্ষা সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়।
বসুন্ধরা শুভসংঘ লোহাগড়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক লোহাগড়া পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র রাজিয়া সুলতানা বিউটির সভাপতিত্বে পুরস্কার বিতরণী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন লোহাগড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি বিশিষ্ট সমাজসেবক মো. আহাদুজ্জামান বাটু।
এসময় বক্তব্য রাখেন লোহাগড়া প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক মো. সেলিম জাহাঙ্গীর, সিনিয়র সাংবাদিক সরদার রইচ উদ্দিন টিপু, বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও বসুন্ধরা শুভ সংঘের সদস্য মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, প্রধান শিক্ষক এসমত আরা তুলি, শুভ সংঘের সদস্য কাজী আল মামুন, মো. সাহেব আলী। সভা পরিচালনা করেন বসুন্ধরা শুভসংঘের লোহাগড়া উপজেলা শাখার উপদেষ্টা এসকে, এমডি ইকবাল হাসান শিমুল।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আহাদুজ্জামান বাটু তার বক্তব্যে বলেন, বর্তমান প্রজন্মের শিশুরা মোবাইলে আসক্ত হয়ে পড়ছে। বাড়ছে সামাজিক অবক্ষয়। আজকের এই শিশুর সুস্থ মানসিক বিকাশ ঘটাতে প্রয়োজন খেলাধূলায় তাদেরকে সম্পৃক্ত করা। বাপদাদার আমলের হারানো দিনের সেই গ্রামীণ খেলাগুলির সাথে শিশুদের পরিচিত করতে হবে। আগেকার খেলাধুলায় ছিলো প্রাণ। শিশুদের মাঝে পুরনো দিনের খেলা ফিরিয়ে দিতে উদ্যোগ নিতে হবে।
তিনি অভিভাবকদের উদ্যেশ্যে আরো বলেন, সন্তানকে খুশি করবার জন্য মোবাইল হাতে তুলে দেবেন না। খাবার খাওয়ার সময় শিশুকে মোবাইল হাতে দিলে ওই শিশু খাবারের স্বাদ না পেয়ে মোবাইলের স্বাদই পাবে। শিশুর মানসিক বৃদ্ধি সংকুচিত হবে। শিশুকে হারানো দিনের খেলায় ফিরিয়ে আনুন। এতে শিশুর প্রাণ স্পন্দন বাড়বে। বিপথে যাবে না। বসুন্ধরা শুভসংঘের এমন আয়োজনকে তিনি স্বাগত জানান।
অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করেন স্কুলের শিক্ষক শারমিন খানম, মৌমিতা খানম, ও তৃষ্ণা রাণী।
বিডি প্রতিদিন/হিমেল