আমার এক ছোট ভাই বলল, ‘আমার আছে জল’ সিনেমাটা যতবার দেখি, ততবারই মনে হয়, এ ধরনের একটা সিনেমা আমিও বানাতে পারি। নাম কী দেব জানেন? নাম দেব ‘আমার আছে ইস্যু’। ভালো হবে না? মানুষ দেখবে না? আমি বললাম, না, দেখবে না। কেন দেখবে? যদি শুধু তোর কাছে ইস্যু থাকত আর কারও কাছে না থাকত, তাহলে হয়তো দেখত। এখন তো সবার কাছেই ইস্যু আছে। এত ইস্যুর ভিড়ে তোর ইস্যুর বাড়তি কোনো ভ্যালু আছে? ছোট ভাই এবার হতাশ হয়ে বলল, আমাদের চারপাশে এত ইস্যু কেন? আমি বললাম, একটা সময় আমরা গর্ব করে বলতাম, আমাদের পূর্বপুরুষদের গোলাভরা ধান ছিল, পুকুর ভরা মাছ ছিল। কিন্তু সবই তো ছিল আর ছিল। মানে সবই অতীত। তাহলে বর্তমানে কি কিছুই নেই? আছে। সেটা হচ্ছে ইস্যু। অতএব আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম গর্ব করে বলতে পারবে, আমাদের পূর্বপুরুষদের গোলাভরা ইস্যু ছিল, পুকুরভরা ইস্যু ছিল। কি বলতে পারবে না? ছোট ভাই আমার প্রশ্নে খানিকটা বিরক্ত হলো। তাই বলে প্রশ্ন করা বন্ধ করল না। বলল, চীন বলেন, জাপান বলেন, আমেরিকা বলেন, এরা হচ্ছে প্রযুক্তিপ্রধান দেশ। আর বাংলাদেশ একসময় ছিল কৃষিপ্রধান দেশ। অথচ এখন... আমি ছোট ভাইকে কথা শেষ করার সুযোগ না দিয়ে বললাম, মনে হচ্ছে ইস্যু প্রধান দেশ। যদিও এসব ইস্যুর কোনো বাজারমূল্য নেই। এই একটা সমস্যা। ছোট ভাই বলল, এ সমস্যার সমাধান দরকার। কারণ, এই যে ইস্যুর পর ইস্যু আসছে, আমরা সেই ইস্যু নিয়ে বিস্তর মাতামাতি করছি, ক্ষেত্রবিশেষে হাতাহাতি করছি, এ যন্ত্রণা আর মানা যাচ্ছে না। একটা সুরাহা দরকার। আমি বললাম, এখন যদি ইস্যু সামনে আসা বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে এটা হয়ে যাবে নতুন একটা ইস্যু। অর্থাৎ ইস্যু কেন আসছে না, এই টেনশনে সবাই বিস্তর আলোচনা করবে। তখন এটাই হয়ে যাবে গরম ইস্যু। মোটকথা, ইস্যু থাকলে তো কোনো কথাই নেই, ইস্যু না থাকলেও সেখানে একটা ইস্যু গজিয়ে যাবে ব্যাঙের ছাতার মতো। ছোট ভাই বলল, একটা গল্প মনে পড়ে গেল। এক চোর নাকি এমনিতে সারা এলাকায় চুরি করে বেড়ায়। কিন্তু হঠাৎ করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার হয়ে যাওয়ায় তার চুরি বন্ধ হয়ে গেল। কিন্তু এত বছরের পুরনো অভ্যাস কি আর দূর করা যায়? সে তখন করল কী, নিজের ঘরেই শুরু করল চুরি। এক ঘরের জিনিস আরেক ঘরে নেয়, আরেক ঘরের জিনিস আরেক ঘরে। এখন এ অবস্থার ভিতর আছি। ইস্যু না থাকলেও আমরা এখানকার ইস্যু সেখানে নিই, সেখানকার ইস্যু এখানে আনি। তারপর মোটামুটি নতুন একটা ইস্যু দাঁড় করিয়ে ফেলি। আমি বললাম, তুই উদাহরণ দিতে গিয়ে যে গল্পটা বললি, সেটা খুবই পুরনো। নতুন কিছু থাকলে বল। ছোট ভাই পুনরায় হতাশ এবং বিরক্ত হলো। আমি তার হতাশা এবং বিরক্তি বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য বললাম, ফেসবুকটা বন্ধ করে দিতে হবে। ফেসবুকটা বন্ধ করে দিলে হবে কী, ইস্যু উৎপাদনটা বন্ধ থাকবে। ছোট ভাই বলল, মাথা কোথায় রেখে ঘুমান ভাই? বালিশের ওপরে নাকি নিচে? আমি অবাক হয়ে বললাম, কেন? ছোট ভাই বলল, এখন যদি ফেসবুক বন্ধ করে দেওয়া হয়, তাহলে সব মিডিয়ায়, সব জায়গায় হেডলাইন হয়ে যাবে ‘হঠাৎ ফেসবুক বন্ধ’। তার মানে নতুন ইস্যু। আমি চিন্তা করে দেখলাম, কথা ঠিক। আর বললাম, তাহলে উপায়? ছোট ভাই বলল, বিষে বিষক্ষয়। যদি একটা ইস্যুকে ধামাচাপা দিতে চান, তাহলে আরেকটা ইস্যু খোঁজেন। দ্রুত খুঁজতে হবে কিন্তু।
শিরোনাম
- রড ও কাঠ দিয়ে স্ত্রীকে বেধড়ক মারধর, স্বামী গ্রেফতার
- দিনাজপুর জিলা স্কুল এক্স-স্টুডেন্ট সোসাইটির যাত্রা শুরু
- যমুনার চরাঞ্চলে আগুনে পুড়ল ৩ দোকান
- ঈদের ছুটিতেও সেবা দিল বগুড়ার মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র
- বনদস্যু আতঙ্কের মাঝেই সুন্দরবনে শুরু মধু আহরণ মৌসুম
- প্রতিশোধ নিল চীন, মার্কিন পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ৩৪% শুল্ক আরোপ
- দেশীয় শিল্পীদের মূল্যায়ন করতেই ‘স্বাধীনতা কনসার্ট’র আয়োজন : টুকু
- দুই দিন ধরে তুর্কি বিমানবন্দরে আটকা ২৫০ যাত্রী
- অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি কুয়াকাটা, ভ্রমণ গাইড
- মার্চ মাসেও বৃষ্টির দেখা মেলেনি রংপুরে
- প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ
- প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিমসটেক মহাসচিবের সাক্ষাৎ
- ফেরিঘাট দিয়ে কর্মস্থলে ফিরছে মানুষ
- তুচ্ছ ঘটনায় বন্ধুকে ছুরিকাঘাত
- গ্রিনল্যান্ডকে এভাবে সংযুক্ত করা যায় না : যুক্তরাষ্ট্রকে ডেনমার্ক
- অভ্যুত্থানের সময় গ্রেফতার, সৌদিতে জেল খেটে দেশে ফিরলেন ১০ প্রবাসী
- ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের ভিড়ে খাগড়াছড়ির হোটেল-মোটেলগুলোতে রুম সংকট
- রাখাইনে আরও বাস্তুচ্যুতি বন্ধে মানবিক চ্যানেল স্থাপনের আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার
- ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান উপদেষ্টার দ্বিপাক্ষিক বৈঠক
- সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিস: যা মনে রাখা জরুরি
আজকাল ইস্যুসমগ্র
ইকবাল খন্দকার
প্রিন্ট ভার্সন
