আমার এক ছোট ভাই বললো- বইমেলায় আমার একটা বই বের হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে প্রকাশক একটু ঝামেলা করলো। কাজটা আসলে ঠিক করেনি। আমি বললাম- প্রকাশক যদি কথা দিয়ে থাকে বই বের করবে, তাহলে তো এমন করা উচিত হয়নি। কেন করলো এই কাজটা? ছোট ভাই বললো- এখানে সব দোষ প্রকাশকের, এটা বলা যাবে না। আমারও একটা ব্যর্থতা আছে। আর এই ব্যর্থতার কারণেই শেষ মুহূর্তে প্রকাশক সরে গেছে। আমি বললাম- তোর কী ধরনের ব্যর্থতা? ছোট ভাই বললো- আসলে হয়েছে কী, প্রকাশক বলেছিল আমি যাতে ফেসবুকে লাগাতার উল্টাপাল্টা স্ট্যাটাস দিতে থাকি, উল্টাপাল্টা ছবি আপলোড করতে থাকি। আর এতে যদি সাকসেস আসে, তাহলেই কেবল বই বের করবে। আমি বললাম- এখানে আবার ‘সাকসেস’ কীসের? ছোট ভাই কাঁচুমাচু করে বললো- না মানে ভাইরাল হওয়ার বিষয়টা আরকি। আরেকটু ক্লিয়ার করে বলি। প্রকাশক চেয়েছিল আমি যাতে যে কোনো উপায়ে ভাইরাল হই। কিন্তু আমি সেটা পারিনি। তাই প্রকাশকও বই প্রকাশের ঝুঁকি নেননি। আমি বললাম- তার মানে বই প্রকাশ করতে হলে আগে ভাইরাল হয়ে নিতে হবে? কিন্তু রবীন্দ্রনাথ নজরুল তো ভাইরাল হননি। তাদের বই কি প্রকাশ হয়নি? ছোট ভাই বললো- কিছু মনে করবেন না ভাই, রবীন্দ্রনাথ নজরুল যদি এই যুগে জন্ম নিতেন, তাহলে তারাও চিন্তা করতেন কীভাবে ভাইরাল হওয়া যায়। যদি দেখতেন নিতান্তই ভাইরাল হতে পারছেন না, তাহলে দেখা যেত পোস্ট বুস্ট করে বসে আছেন। আমি বললাম- এসব অবাস্তব কথা বলে লাভ নেই। বাস্তব কথা বল। মানে বইমেলার কী অবস্থা, সেটা বল। মানুষ বই কিনছে তো? ছোট ভাই বললো- তা কিনছে। তবে অন্য ঘটনাও ঘটছে। আমি জানতে চাইলাম অন্য কী ঘটনা। ছোট ভাই বললো- আমার পরিচিত একজন এক সেলেব্রিটির বই কিনতে গেছে। স্টলের সেলসম্যানরা বই প্যাকেটও করলো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার আর বইটা কেনা হলো না। আমি জানতে চাইলাম কেন কেনা হলো না। ছোট ভাই বললো- কেন হবে, তাই বলেন। টাকা না দিলে কি সেলসম্যানরা বই বিক্রি করবে? আমি বললাম- টাকা না দিলে মানে? টাকা দেবে না কেন? ছোট ভাই বললো- টাকা দেবে না এই জন্য, কারণ ঘামে ভিজে পকেটের সব টাকা নষ্ট হয়ে গেছে। আমি বললাম- কিন্তু এখন তো এত গরম না যে, পর্যাপ্ত ঘাম হবে আর টাকা ভিজে যাবে। ছোট ভাই বললো- আপনি তাহলে মেলার কোনো খবরই রাখেন না। ম্যালায় ম্যালা গরম। আর এই গরমের নাম সেলেব্রিটি গরম। সেলেব্রিটিদের জন্য যারা লাইন ধরে, তারা বিস্তর ঠেলাঠেলি করে তো! সুতরাং অতিরিক্ত ঘাম হতেই পারে, আর সেই ঘামে ভিজে টাকা নষ্ট হতেই পারে। অনেকটা ‘টাকা জলে গেল’ টাইপের অবস্থা। আমি বললাম- সব ঠিক আছে। তবু দিনশেষে এটা মানতেই হবে, বইমেলা আমার প্রাণের মেলা। এখানে শুধু সেলেব্রিটি হওয়ার কারণে বই বিক্রি হবে বা আমরা লাইন দেব, এটা তো ঠিক না। এই পরিস্থিতি থেকে কি বের হয়ে আসা যায় না? ছোট ভাই বললো- আপনি চাইলে বের হয়ে আসতে পারেন। কিন্তু আমি বের হয়ে আসতে চাই না। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে চাই। বের হয়ে আসলে যদি লাইনে জায়গা না পাই! যদি সেলেব্রিটির অটোগ্রাফ না পাই! আমি বললাম- এই যে সেলেব্রিটি এই যে অটোগ্রাফ এগুলো আর কত? এবার ভিন্ন কিছু করা যায় না? ছোট ভাই বললো- ভিন্ন কিছু করছি তো! সেলফি তুলছি। যেটা আজ থেকে বিশ বছর আগে তুলতো না। ঠিক কি না?
শিরোনাম
- রড ও কাঠ দিয়ে স্ত্রীকে বেধড়ক মারধর, স্বামী গ্রেফতার
- দিনাজপুর জিলা স্কুল এক্স-স্টুডেন্ট সোসাইটির যাত্রা শুরু
- যমুনার চরাঞ্চলে আগুনে পুড়ল ৩ দোকান
- ঈদের ছুটিতেও সেবা দিল বগুড়ার মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র
- বনদস্যু আতঙ্কের মাঝেই সুন্দরবনে শুরু মধু আহরণ মৌসুম
- প্রতিশোধ নিল চীন, মার্কিন পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ৩৪% শুল্ক আরোপ
- দেশীয় শিল্পীদের মূল্যায়ন করতেই ‘স্বাধীনতা কনসার্ট’র আয়োজন : টুকু
- দুই দিন ধরে তুর্কি বিমানবন্দরে আটকা ২৫০ যাত্রী
- অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি কুয়াকাটা, ভ্রমণ গাইড
- মার্চ মাসেও বৃষ্টির দেখা মেলেনি রংপুরে
- প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ
- প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিমসটেক মহাসচিবের সাক্ষাৎ
- ফেরিঘাট দিয়ে কর্মস্থলে ফিরছে মানুষ
- তুচ্ছ ঘটনায় বন্ধুকে ছুরিকাঘাত
- গ্রিনল্যান্ডকে এভাবে সংযুক্ত করা যায় না : যুক্তরাষ্ট্রকে ডেনমার্ক
- অভ্যুত্থানের সময় গ্রেফতার, সৌদিতে জেল খেটে দেশে ফিরলেন ১০ প্রবাসী
- ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের ভিড়ে খাগড়াছড়ির হোটেল-মোটেলগুলোতে রুম সংকট
- রাখাইনে আরও বাস্তুচ্যুতি বন্ধে মানবিক চ্যানেল স্থাপনের আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার
- ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান উপদেষ্টার দ্বিপাক্ষিক বৈঠক
- সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিস: যা মনে রাখা জরুরি