সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সহকারী ও মাগুরা-১ আসনের সাবেক এমপি সাইফুজ্জামান শিখর ও তার স্ত্রী সীমা রহমানের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ ছাড়া জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গাইবান্ধা-৪ আসনের সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করেছে সংস্থাটি। গতকাল রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব জানান সংস্থাটির মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন। উল্লেখ্য, সাইফুজ্জামান শিখরের বিরুদ্ধে ২ কোটি ৯৫ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ ও ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১১ কোটি টাকার সন্দেহভাজন লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
দুদক মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন বলেন, প্রথম মামলায় সাইফুজ্জামান শিখরের বিরুদ্ধে সরকারের দায়িত্বশীল পদে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধ উপায়ে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ১ কোটি ৭৯ লাখ ৬২ হাজার ৫২১ টাকার সম্পদ অর্জন করার অভিযোগ আনা হয়েছে। একই সঙ্গে এ সম্পদ ভোগদখলে রাখা এবং নিজ নামীয় ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক ৭টি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে মোট ১০ কোটি ৯৮ লাখ ৮২ হাজার ৩১৫ টাকার সন্দেহজনক ও অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য মিলেছে। দ্বিতীয় মামলায় শিখরের স্ত্রী সীমা রহমানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধ উপায়ে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ১ কোটি ১৬ লাখ ১ হাজার ৩৩২ টাকার সম্পদের প্রমাণ মিলেছে। এ মামলায় সাইফুজ্জামান শিখরকেও আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় মামলা হয়েছে।
এর আগে ২৮ আগস্ট শিখরের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। এরপর ১৫ অক্টোবর শিখর ও তার স্ত্রী সীমা রহমানের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত।