যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ মস্কো পৌঁছেছেন। রাশিয়ার রাজধানীতে যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য মার্কিন প্রতিনিধিরা এসেছেন বলে জানিয়েছে রুশ সংবাদ সংস্থা তাস।
এর আগে, ক্রেমলিন জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের আলোচকরা রাশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন এবং তাদের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, রুশ প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ একদিন আগেই যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইক ওয়াল্টজের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন।
শান্তি আলোচনার অগ্রগতি
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সৌদি আরবের জেদ্দায় ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসে মার্কিন কর্মকর্তারা। সেখানে ৩০ দিনের জন্য সাময়িক যুদ্ধবিরতির বিষয়ে সম্মত হয় কিয়েভ। এরপরই মার্কিন কূটনীতিকরা রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য মস্কোয় যান।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এ বিষয়ে বলেন, ‘বল এখন পুরোপুরি রাশিয়ার কোর্টে।’ তিনি আরও বলেন, শান্তি আলোচনার মাধ্যমেই কেবলমাত্র এই যুদ্ধের অবসান সম্ভব।
অন্যদিকে, ক্রেমলিন জানিয়েছে, তারা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব খতিয়ে দেখছে এবং এ বিষয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যে ফোনালাপ হতে পারে।
ইউক্রেন যুদ্ধ : মস্কো-ওয়াশিংটনের উত্তপ্ত আলোচনা
জেদ্দার বৈঠকের পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, যুদ্ধবিরতির ইতিবাচক প্রস্তাব নিয়ে রাশিয়াকে রাজি করানোর দায়িত্ব এখন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর।
এদিকে, হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে ইতিবাচক বার্তা পেয়েছেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এই ইতিবাচক বার্তাই সবকিছু নয়। এটি একটি গুরুতর পরিস্থিতি।
এ সপ্তাহের শুরুতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির মধ্যে একটি উত্তপ্ত বাগ্বিতণ্ডা হয়। সেই সময় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সও আলোচনার অংশ ছিলেন। এর জেরে ট্রাম্প ইউক্রেনকে সব ধরনের সামরিক সহায়তা বন্ধের নির্দেশ দেন এবং গোয়েন্দা তথ্যের আদান-প্রদানও স্থগিত করেন।
রাশিয়ার পাল্টা অবস্থান: পুতিনের কুরস্ক সফর
যুদ্ধবিরতি আলোচনা চলাকালেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন কুরস্ক অঞ্চলে সফর করেছেন। এই অঞ্চলে রুশ বাহিনী ইউক্রেনের সেনাদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অগ্রগতি অর্জন করেছে এবং ইতোমধ্যে পাঁচটি গ্রাম দখল করেছে বলে দাবি করেছে মস্কো।
ক্রেমলিন জানিয়েছে, কুরস্কের একটি সামরিক কমান্ড পোস্ট পরিদর্শন করেছেন প্রেসিডেন্ট পুতিন। রুশ সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সফরকালে তিনি সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন কুরস্ক অঞ্চলকে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত করা হয়।
যদিও যুদ্ধবিরতির বিষয়ে রাশিয়ার আনুষ্ঠানিক অবস্থান এখনো পরিষ্কার নয়, তবে পশ্চিমা কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এই আলোচনা একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিতে পারে।
বিডিপ্রতিদিন/কবিরুল