মার্কিন শুল্কনীতির বিরুদ্ধে এবার বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (ডব্লিউটিও) নালিশ করল কানাডা। দেশটির পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এরপর কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, মার্কিন পণ্যের ওপরও ‘পাল্টা’ ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। এই পারস্পরিক শুল্ক বিতর্কের মাঝেই আমেরিকার বিরুদ্ধে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় অভিযোগ জানাল কানাডা।
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত শুল্ক সংক্রান্ত বিষয়ে মঙ্গলবার কানাডার পক্ষ থেকে তারা একটি অভিযোগ পেয়েছেন।
মার্কিন শুল্কনীতি নিয়ে এই বিতর্কের প্রেক্ষিতে বুধবার ফের এক দফা আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পারস্পরিক শুল্ক নিয়ে সংঘাতের আবহে আলোচনায় বসতে পারেন ট্রাম্প এবং ট্রুডো। যদিও হোয়াইট হাউস থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কিছু জানানো হয়নি।
বস্তুত আমেরিকার শুল্কনীতি ঘিরে পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, সেদিকে নজর রাখছে গোটা বিশ্বের কূটনৈতিক মহল। গত ৪ মার্চও ট্রাম্প কানাডার ওপর আরও বেশি পরিমাণ শুল্ক চাপানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। একই সঙ্গে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোকে ‘গর্ভনর’ বলেও কটাক্ষ করেন তিনি। ট্রাম্পের বক্তব্য, মার্কিন পণ্যের ওপর ‘প্রতিশোধমূলক শুল্ক’ আরোপ করা হলে, বাড়বে ‘পারস্পরিক শুল্ক’-এর পরিমাণ!
কানাডার ওপর ট্রাম্পের শুল্ক চাপানোর নেপথ্যে অন্যতম বড় কারণ ছিল ফেন্টানিল। এই মাদকটি ব্যথার উপশমের ক্ষেত্রে মরফিনের তুলনায় বহু গুণ শক্তিশালী। ট্রাম্পের অভিযোগ ছিল, কানাডা হয়ে এই মাদক যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করছে। ট্রুডো যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন। তার বক্তব্য ছিল, আমেরিকায় যত ফেন্টানিল রয়েছে, তার মাত্র এক শতাংশই কানাডা থেকে গিয়েছে। ফেন্টানিল নিয়ে ট্রুডো এবং ট্রাম্পের কথাও হয়েছিল এর আগে। ওই আলোচনার পরে কানাডার পণ্যের ওপর শুল্ক চাপানোর সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখেছিলেন ট্রাম্প। এবার ফের শুল্কযুদ্ধের পরিস্থিতিতে দুই দেশের রাষ্ট্রনেতা আলোচনায় বসার সম্ভাবনা রয়েছে। সূত্র: রয়টার্স
বিডি প্রতিদিন/একেএ