মেহজাবীন চৌধুরী ও আফরান নিশো। দুজনই টিভি নাটকের জনপ্রিয় তারকা। ছোটপর্দায় দর্শক-মন জয় করার পর আরও অনেকের মতো তারাও তরী ভিড়িয়েছেন বড় পর্দায়। দেখা গেছে, ছোট পর্দার অনেক তারকা বড় পর্দায় এসে হালে পানি পাননি। কিন্তু এ দুই তারকার ক্ষেত্রে তা হয়নি। দুজনই বড় পর্দায় অভিনয় দিয়ে বেশ আলোচনায় এসেছেন। দেশে-বিদেশে তাঁদের অভিনীত ছবিগুলো পুরস্কার এবং প্রশংসাও কুড়িয়েছে।
কিন্তু কীভাবে সফলতা তাদের কাছে এত সহজে ধরা দিল। আসলে দুজনই মানসম্মত নাটকের মতো ছবি নির্বাচনের ক্ষেত্রেও মানকে গুরুত্ব দিয়েছেন এবং তাতে জয়ী হয়েছেন। প্রথমে মেহজাবীনের কথায় আসি, একের পর এক ভিন্নধর্মী গল্প আর চরিত্র বাছাই করে কাজ করার কারণে প্রতিনিয়ত দর্শকের নজর কেড়েছেন মেহজাবীন। সে সব সিনেমা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন নানা দেশে।
প্রথম সিনেমা ‘সাবা’ নিয়ে গত বছর টরন্টো হয়ে কোরিয়ার বুসান উৎসব থেকে ফিরলেন মেহজাবীন। সেই রেশ না কাটতেই নতুন সিনেমা ‘প্রিয় মালতী’ নিয়ে মিসরে যাত্রা তাঁর। মিসরের ‘কায়রো ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’-এর ৪৫তম আসর উৎসবে বিশ্বের নামিদামি নির্মাতা, প্রযোজক-শিল্পীর সঙ্গে ‘প্রিয় মালতী’ নিয়ে অংশ নেন মেহজাবীন। উৎসবটির ওয়ার্ল্ড সিনেমা বিভাগে অফিশিয়ালি চূড়ান্ত হয় সিনেমাটি। মেহজাবীন বলেন, আমার প্রথম সিনেমা ‘সাবা’র জন্য দেশে মুক্তির আগেই দেশের বাইরে থেকে যে অভূতপূর্ব সাড়া পেয়েছি, তাতে মুগ্ধ আমি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ‘সাবা’র প্রতিটি সফলতার পদক্ষেপের সঙ্গে ছিলাম। ‘সাবা’র জন্য দর্শকের মুগ্ধতা নিজ চোখে উপভোগ করেছি। এই মুগ্ধতার ব্যাখ্যা হয় না। এটা যে একজন শিল্পীর জন্য কত বড় প্রাপ্তি, তা আসলে ব্যাখ্যা করে বোঝানো যায় না। এরপর আমরা কখনো ভাবিনি, বাংলাদেশের ওপর ভিত্তি করে তৈরি গল্প ‘প্রিয়মালতী’ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এতটা প্রাসঙ্গিক হবে। এটা সত্যিই আমাদের পুরো টিম এবং বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য একটি বিশাল সাফল্য। ‘প্রিয়মালতী’ নির্মাণ করেছেন শঙ্খ দাসগুপ্ত।
অন্যদিকে, কানাডার টরন্টো ও কোরিয়ার বুসানে ‘সাবা’ নিয়ে মেহজাবীনের আন্তর্জাতিক উৎসবে অংশগ্রহণ নিঃসন্দেহে এই অভিনেত্রীর বড় প্রাপ্তি।
‘সাবা’ নিয়ে আনন্দের রেশ থাকতেই আরও এক সাফল্যের মুকুট উঠল মেহজাবীনের মাথায়। বিশ্বসেরা তারকাদের তালিকায় উঠে এসেছে মেহজাবীনের নাম। ফেসবুকে সক্রিয় ভক্তসংখ্যার তালিকায় সেরা ২৫-এর মাঝে ২৪তম স্থানে অবস্থান মেহজাবীনের। তার তালিকায় আশপাশে রয়েছেন হিউ জ্যাকম্যান, ডোয়াইন জনসন ও প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার মতো তারকা।
এদিকে, ‘প্রিয় মালতী’তে মালতী চরিত্রে অভিনয় করা মেহজাবীনের কথায়, ‘গল্পে অন্যরকম একটি প্লট থাকায় এই সিনেমায় কাজ করেছি। তা ছাড়া ইউনিট খুবই দারুণ ছিল। তাই সহজেই সফলতার সাক্ষাৎ পেয়েছি।’ অন্যদিকে এই অভিনেত্রীর ভিন্ন গল্প ও চরিত্রের সিনেমা ‘সাবা’ ইন্দোনেশিয়ার অল্টারনেটিভা ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডস অ্যান্ড ফেস্টিভ্যালে ও সৌদি আরবের রেড সি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের প্রতিযোগিতা বিভাগেও অংশ নিয়ে প্রশংসিত ও সম্মানিত হয়। গত ১৯ জানুয়ারি পর্দা নেমেছে ‘ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব’র। এতে সেরা সিনেমা নির্বাচিত হয়েছে মেহজাবীনের ‘প্রিয় মালতী’।
এর আগে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রশংসা কুড়ানোর পর এবার দেশের সবচেয়ে বড় চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা সিনেমার পুরস্কার লাভ করে সিনেমাটি।
গত বছরের ২০ ডিসেম্বর মেহজাবীন অভিনীত ‘প্রিয় মালতি’ মুক্তি পায়। মেহজাবীন বলেন, ‘আগামীতেও গল্প ও চরিত্রের ভিন্নতা দিয়ে বড় পর্দার সফলতা বয়ে আনব।’
এবার আসা যাক, সাম্প্রতিক সময়ে বড় পর্দায় আলোচনায় আসা ছোট পর্দার আরেক তারকা আফরান নিশোর কথায়। সিনেমা ‘সুড়ঙ্গ’ দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেকেই বাজিমাৎ নিশোর। এই সাফল্যের রহস্য সম্পর্কে নিশো বলেন, ‘আমরা প্রতিটি সেক্টর থেকেই কোনো কম্প্রোমাইজ না করে কাজটি করেছি। শুটিং করেছিলাম ৪০ দিনের ওপরে। ছবি দর্শকনন্দিত হওয়ার আগে আমাদের নিজের কাছে কাজ নন্দিত হয়েছি কি না, সেটি একটা ব্যাপার। সেটি আমরা ছবিটি করে ফিল করতে পেরেছি। আমরা এটি বিশ্বাস করেছি। এরপর দর্শকের কাছে পৌঁছেছে কাজটি।’ নিশোর ভাষ্যে, ছবিটির বেলায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো, ছবির সঙ্গে জড়িত পরিচালক, শিল্পী-কলাকুশলী, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান, সবই পরীক্ষিত ছিল। ফলে দেশের নানা প্রান্তে, নানা শ্রেণির মানুষের কাছে ছড়িয়ে যাওয়ার শক্তি পেয়েছে ছবিটি। ‘সুড়ঙ্গ’ ছবিটি নির্মাণ করেন রায়হান রাফি।
এদিকে গত বছরের ৮ ডিসেম্বর ছিল এ অভিনেতার জন্মদিন। জন্মদিনে তার ভক্তদের নিজের নতুন সিনেমার কথা জানালেন তিনি। এবার শিহাব শাহীনের পরিচালনায় ‘দাগী’ নিয়ে আসছেন নিশো।
নতুন সিনেমার ঘোষণা দিয়ে এক ভিডিওবার্তায় নিশো বলেন, ‘এত দিন নাকি অনেক খুঁজতেছিলা? এত সহজে খুঁজে পাইলে কি আর দাগী হয়? ক্যালেন্ডারে দাগ কাইটা রাখো, এই দাগীর সঙ্গে দেখা হবে ঈদে। একটা কথা মনে রাখবা, তোমাদের সঙ্গে দেখা হবে সিনেমা হলে, ক্লিয়ার।’
নির্মাতা শিহাব শাহীন জানান, ‘দাগী’ একটি গল্পনির্ভর সিনেমা এবং এর হিরো এর গল্প। তিনি বলেন, ‘মুক্তি আর প্রায়শ্চিত্তর গল্প এটি। নতুন কিছুই দর্শক দেখতে পাবে। গত দুই বছর ধরে গল্পটি নিয়ে কাজ করছি।’
সবশেষে বলতে হয়, বড় পর্দায় শিল্পী সংকটের এই সময়ে ছোট পর্দার তারকা মেহজাবীন ও নিশো শুরুতেই চলচ্চিত্রে যেভাবে জ্বলে উঠেছেন সেই সাফল্যের আলো আগামীতেও জ্বালিয়ে যেতে পারবেন- এমন প্রত্যাশা চলচ্চিত্রকার ও দর্শকদের।