শিরোনাম
প্রকাশ: ০০:০০, বুধবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫

জনগণের জানমালের নিরাপত্তা রাষ্ট্রের দায়িত্ব

ড. মাহরুফ চৌধুরী
প্রিন্ট ভার্সন
জনগণের জানমালের নিরাপত্তা রাষ্ট্রের দায়িত্ব

রাষ্ট্রের মূল দায়িত্ব হলো জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধান, ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং নাগরিকদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা, যাতে তারা রাষ্ট্রীয় পরিমণ্ডলে সম্মানের সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারে। ইতিহাস ও বাস্তবতা সাক্ষ্য দেয়, রাষ্ট্র যখন এই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়, তখন সমাজে প্রতিক্রিয়াশীলতা বাড়ে, সংকট গভীর হয় এবং অস্থিরতা অনিবার্য হয়ে ওঠে। আর যখন রাষ্ট্র বা সমাজ অন্যায়ের প্রতিক্রিয়ায় অন্ধ প্রতিক্রিয়াশীল হয়ে পড়ে, তখন আবেগ আর উত্তেজনায় দিশাহারা হয়ে পথ হারিয়ে ফেলে। প্রতিশোধস্পৃহা, হিংসা ও রুদ্ধচিন্তা সমাজের সৃজনশীল চৈতন্যের শক্তিকে বিনষ্ট করে এবং অগ্রগতির পথ রুদ্ধ করে দেয়। তবে এই অন্ধকার থেকে মুক্তির পথও ইতিহাস আমাদের দেখিয়েছে, বিশেষ করে যেখানে শিক্ষার আলো, যুক্তির চর্চা এবং সংস্কৃতির বিকাশ সমাজকে আলোকিত করতে সক্ষম হয়েছে। একটি কল্যাণমুখী, ইতিবাচক সংস্কৃতি তখনই বিকশিত হয়, যখন জনশিক্ষা কেবল তথ্য ও প্রযুক্তির জ্ঞান দানে সীমাবদ্ধ না থেকে নাগরিকদের মূল্যবোধ, নৈতিকতা, বিশ্লেষণ ক্ষমতা এবং সুস্থ সাংস্কৃতিক বোধ গঠনের কাজে নিবেদিত হয়। বিপরীতে যখন রাষ্ট্র ও সমাজ শিক্ষাকে কেবল পেশাভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখে, তখন মানবিকতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটে এবং প্রতিক্রিয়াশীলতার অন্ধকার ঘনীভূত হয়।

ইতিহাস আমাদের প্রতিক্রিয়াশীলতার প্রতিফল সম্পর্কে শিক্ষা দিয়ে থাকে। ঐতিহাসিকভাবে দেখা গেছে, প্রতিক্রিয়াশীলতার পথে হাঁটা কোনো রাষ্ট্র বা জাতির জন্য কখনো শুভ হয়নি; বরং তা নতুন সংকট, অস্থিরতা ও সহিংসতার বীজ বপন করেছে। বিশ্ব ইতিহাসের অসংখ্য ঘটনা প্রমাণ করেছে, স্বৈরাচারের প্রতিক্রিয়ায় সৃষ্ট উগ্র আবেগ ও প্রতিহিংসার রাজনীতি কোনো জাতির জন্য দীর্ঘ মেয়াদে কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না। ফরাসি বিপ্লবের পরবর্তী সময়ের রক্তাক্ত অধ্যায় কিংবা রুশ বিপ্লবের পর স্টালিনবাদী কঠোরতার বাস্তবতা দেখিয়েছে, একটি অগণতান্ত্রিক শক্তির বিরুদ্ধে আরেকটি অগণতান্ত্রিক শক্তি প্রতিষ্ঠিত হলে, জাতি স্বাধীনতার পরিবর্তে নতুন নিপীড়নের শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়। ১৭৮৯ সালের ফরাসি বিপ্লবের উদাহরণই ধরা যাক। জনগণ রাজতন্ত্রের নিপীড়ন থেকে মুক্তির আকাঙ্ক্ষায় রাস্তায় নেমেছিল, কিন্তু সেই বিপ্লব প্রতিক্রিয়াশীলতার বশবর্তী হয়ে এক নতুন আতঙ্কের যুগ সৃষ্টি করেছিল যা গিলোটিনের রাজত্ব নামে পরিচিত। বিপ্লবীদের একাংশ নিজেদের আদর্শিক শুদ্ধতার নামে যে নিপীড়ন চালায়, তা নতুন এক সন্ত্রাস ও বিশৃঙ্খলার দিকে দেশকে ঠেলে দেয়। একইভাবে রুশ বিপ্লবের পর স্বৈরশাসনের অবসান ঘটানোর নামে স্টালিনবাদী শাসন একটি পুলিশি রাষ্ট্র তৈরি করেছিল, যেখানে স্বাধীন মতপ্রকাশের সুযোগ সীমিত হয়ে গিয়েছিল।

এসব ঐতিহাসিক ঘটনা আমাদের এক মৌলিক শিক্ষা দেয়, শুধু পুরোনো শাসনব্যবস্থা বা সংস্কৃতির বিরোধিতা করাই যথেষ্ট নয়, বরং তার স্থলে কী প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। এখানেই জনশিক্ষার ভূমিকা অনস্বীকার্য। একমাত্র সুসংগঠিত শিক্ষাব্যবস্থা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রচার ও সংস্কৃতির ইতিবাচক বিকাশের মাধ্যমে প্রতিক্রিয়াশীলতার চক্র ভাঙা সম্ভব। সঠিক শিক্ষা একটি জাতিকে শুধু অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর শক্তি দেয় না, বরং ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গঠনের দিকনির্দেশনাও দেয়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও স্বাধীনতা-উত্তরকাল থেকেই প্রতিক্রিয়াশীলতা বারবার জাতীয় অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পথ রুদ্ধ করেছে। একটি সদ্য স্বাধীন জাতি হিসেবে আমরা যে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের স্বপ্ন দেখেছিলাম, তা বাস্তবায়িত না হওয়ায় অন্যায় করে পার পেয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি ক্রমেই প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেয়। এর ফলে রাষ্ট্রযন্ত্রে দুর্বৃত্তায়ন শিকড় গেঁড়ে বসেছে, আর শাসনব্যবস্থায় জবাবদিহির অভাব বাড়তে থাকে। ফলে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকা শাসকদের দুর্নীতি, দুঃশাসন ও স্বৈরাচারী প্রবণতা আমাদের ইতিহাসের কলঙ্কিত অধ্যায় হয়ে আছে। একদলীয় শাসনের প্রবর্তন, সামরিক শাসনের উত্থান, বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ধারা- এসবই আমাদের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির বিকাশকে ব্যাহত করেছে। অথচ জাতি যে মুক্তিযুদ্ধে আত্মাহুতি দিয়েছিল, তা কেবল শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্য ছিল না; এটি ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য।

স্বৈরশাসনের অবসানের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে প্রতিক্রিয়াশীলতার পরিবর্তে আমাদের প্রয়োজন সৃষ্টিশীল পথে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর বিনির্মাণের মাধ্যমে আর্থসামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক রূপান্তর। একটি জাতির প্রকৃত উন্নতি নির্ভর করে তার কাঠামোগত শক্তির ওপর, আর সেই কাঠামো গড়ে ওঠে সুপরিকল্পিত রাষ্ট্র পরিচালনার মাধ্যমে। রাজনৈতিক প্রতিশোধ, প্রতিহিংসা ও সংকীর্ণতার শৃঙ্খল ভেঙে রাষ্ট্রকে তার মৌলিক দায়িত্বগুলোর দিকে মনোনিবেশ করতে হবে। বিশেষ করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং সমাজ সংস্কার। আজ যে শক্তি, সময় ও সম্পদ প্রতিক্রিয়াশীল উত্তেজনায় বিনষ্ট হচ্ছে, তা যদি শিক্ষার বিস্তার, সংস্কৃতির বিকাশ, গবেষণা, বিজ্ঞান ও ন্যায্য অর্থনৈতিক নীতিমালা প্রস্তুত ও বিলি বণ্টনে বিনিয়োগ করা হতো, তবে জাতির অগ্রগতি বহু দূর এগিয়ে যেত। এখানেই জনশিক্ষার গুরুত্ব অনস্বীকার্য। সঠিক শিক্ষা কেবল পেশাগত দক্ষতা বাড়ায় না, বরং এটি একটি জাতিকে সচেতন, নৈতিক ও যুক্তিবাদী করে তোলে। প্রতিক্রিয়াশীলতার মূল শিকড় হচ্ছে অজ্ঞতা, অন্ধবিশ্বাস এবং সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি, যা শুধু শিক্ষার আলোয় দূর করা সম্ভব। শিক্ষা যদি কেবল তথ্য প্রদানেই সীমাবদ্ধ থাকে, তবে তা জাতির কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে ব্যর্থ হবে। বরং শিক্ষা হতে হবে মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন, বিশ্লেষণধর্মী ও সংস্কৃতিসমৃদ্ধ, যা নাগরিকদের সংকীর্ণতা থেকে মুক্ত করে একটি ইতিবাচক, কল্যাণমুখী সমাজ গঠনে উদ্বুদ্ধ করবে।

বিশ্বসাহিত্য ও দর্শনে ন্যায়বিচারের গুরুত্ব বহুবার উঠে এসেছে, যা আমাদের দেখায় প্রতিক্রিয়াশীলতা কীভাবে সমাজকে বিপথে পরিচালিত করে। রাশিয়ান সাহিত্যিক লিও টলস্টয়ের যুদ্ধ ও শান্তি (ওয়ার অ্যান্ড পিস, ১৮৬৭) উপন্যাসে আমরা দেখি, প্রতিশোধ ও যুদ্ধের সংস্কৃতি কেবল ব্যক্তি ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতাকে বিপর্যস্ত করে, কিন্তু প্রকৃত সমাধান দেয় না। গ্রিক দার্শনিক প্লেটো তাঁর দ্য রিপাবলিক-এ ন্যায়ভিত্তিক সমাজের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, যেখানে রাষ্ট্র পরিচালিত হয় প্রজ্ঞা ও নীতির দ্বারা, প্রতিক্রিয়ার দ্বারা নয়। বাংলা সাহিত্যেও প্রতিক্রিয়াশীলতার ভয়াবহ পরিণতি প্রতিফলিত হয়েছে। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (১৯০৮-১৯৫৬) পদ্মা নদীর মাঝি উপন্যাসে আমরা দেখি, দারিদ্র্যের করাল গ্রাস থেকে মুক্তি পেতে সংঘাত নয়, বরং সহনশীলতা ও রাষ্ট্রের দায়িত্বশীলতাই একমাত্র পথ। ইংরেজ সাহিত্যিক জর্জ অরওয়েলের (১৯০৩-১৯৫০) ১৯৮৪ উপন্যাসেও দেখানো হয়েছে, কীভাবে দমনমূলক শাসনব্যবস্থা একের পর এক প্রতিক্রিয়াশীলতার জন্ম দেয় এবং জনগণের স্বাধীনতাকে সংকুচিত করে। জার্মান দার্শনিক হেগেলের (১৭৭০-১৮৩১) দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদী দর্শন অনুসারে, সমাজে যে কোনো পরিবর্তন একটি প্রাকৃতিক নিয়মের মধ্য দিয়ে এগোয়। প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি সাময়িকভাবে এই পরিবর্তনকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ইতিবাচক পরিবর্তনই টিকে থাকে। তাই শক্তি, সময় ও সম্পদ ব্যয় করা উচিত রাষ্ট্র গঠনের কল্যাণকর দিকে, প্রতিক্রিয়াশীলতার উত্তেজনায় আত্মঘাতী হওয়ার পরিবর্তে।

রাষ্ট্রের দায়িত্ব কেবল অপরাধ দমন করাই নয়, বরং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করাও। কেবল দমননীতি দিয়ে রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা ধরে রাখা সম্ভব নয়; জনগণের জীবনজীবিকার নিশ্চয়তা বিধান না করলে সমাজে অস্থিরতা বাড়তে থাকে। অপরাধীকে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের আওতায় না আনলে বিচারহীনতার সংস্কৃতি গড়ে ওঠে, যা নতুন প্রতিক্রিয়াশীলতার জন্ম দেয়। দারিদ্র্য ও বঞ্চনা মানুষকে হিংসা ও প্রতিশোধের পথে ঠেলে দেয়, যা রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করে। সুতরাং ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই প্রকৃত সমাধান। এখানে জনশিক্ষার ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা যদি কেবল তথ্যভিত্তিক বা পেশাভিত্তিক হয়, তবে তা প্রতিক্রিয়াশীলতার শৃঙ্খল ভাঙতে পারবে না। বরং প্রয়োজন এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা, যা নৈতিকতা, সহনশীলতা, বিশ্লেষণধর্মী চিন্তাশক্তি ও গণতান্ত্রিক চেতনার বিকাশ ঘটায়। ব্যক্তি যখন ন্যায় ও অন্যায়ের পার্থক্য উপলব্ধি করতে শেখে, তখন সে অন্ধ প্রতিক্রিয়া থেকে দূরে থাকে এবং সৃজনশীল পথ বেছে নেয়। একটি সুসংহত শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণের মাধ্যমেই বিভাজন নয়, বরং জাতীয় সমস্যা সমাধানের জন্য সম্মিলিত প্রচেষ্টা সম্ভব।

এখন মৌলিক প্রশ্ন হলো, রাষ্ট্রের পুনর্গঠনে স্থিতিশীলতা কেন জরুরি? রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবারের মতে, একটি আধুনিক রাষ্ট্রের মূল বৈশিষ্ট্য হলো, ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা এবং সাংবিধানিক কাঠামোর দৃঢ়তা রাষ্ট্র যদি শুধু প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে পরিচালিত হয়, তবে তা তার মৌলিক কাঠামো হারিয়ে ফেলে এবং নৈরাজ্যের দিকে ধাবিত হয়। জাতিসংঘের এক গবেষণা অনুযায়ী দেখা যায়, যেখানে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত, সেখানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ৬.১% পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়, কিন্তু যেখানে প্রতিহিংসার সংস্কৃতি বিরাজমান, সেখানে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিনিয়োগ ও উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে। অর্থাৎ টেকসই উন্নয়নের জন্য রাষ্ট্রে স্থিতিশীলতা এবং ন্যায়বিচার অপরিহার্য। তাহলে বর্তমান পরিস্থিতি থেকে আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ কী? অন্যায়, অবিচার ও দুর্নীতির প্রতিশোধ নয়, সুষ্ঠু বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্র বিনির্মাণই আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র পথ। একটি সমাজ বা রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিতে হলে অতীতের অন্যায়ের প্রতিশোধ নেওয়ার বদলে রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য সুপরিকল্পিত উন্নয়ন কৌশল গ্রহণ করতে হবে। যে সময়-শক্তি স্বৈরাচারী ও অন্যায়কারীদের বিরুদ্ধে আবেগী প্রতিক্রিয়ায় ব্যয় করা হচ্ছে, সেটি যদি শিক্ষা, কর্মসংস্থান, গণতন্ত্র ও সুশাসনের ভিত্তি মজবুত করতে কাজে লাগানো হয়, তবে একটি সুসংগঠিত ও কল্যাণমুখী দেশ গড়ে তোলা সম্ভব। এ লক্ষ্যে আমাদের নিচের বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

১. বর্তমান প্রেক্ষাপটে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা আমাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। রাষ্ট্রীয় পরিমণ্ডলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, মানুষের জানমালের নিরাপত্তা বিধান এবং ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠা করা অপরিহার্য। প্রতিশোধের চেয়ে ন্যায়বিচার ও জবাবদিহির মাধ্যমে শাস্তির নীতি গ্রহণ করতে হবে। জনসাধারণকে আইন নিজেদের হাতে তুলে নিতে নিরুৎসাহিত করতে হবে এবং প্রয়োজনে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে। অপরাধী যে-ই হোক, তাকে আইনের আওতায় এনে বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

৩. দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক শৃঙ্খলার সুরক্ষা নিশ্চিত করা দরকার। বাজারে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সবার জন্য শিক্ষা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। বাজারের সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া, চাঁদাবাজি বন্ধ করা এবং অর্থনৈতিক নীতিতে স্বচ্ছতা আনা জরুরি। আমাদের মনে রাখতে হবে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে দারিদ্র্য ও বেকারত্ব থেকেই বিশৃঙ্খলা জন্ম নেয়। তাই দক্ষতার উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের প্রসারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। গণ অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা না গেলে, তারা পুনরায় প্রতিক্রিয়াশীলতার পথে ফিরে যেতে পারে।

৪. রাষ্ট্র ও সমাজের সর্বস্তরে সুশাসন এবং অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা অত্যাবশ্যক। রাষ্ট্র ও সমাজে প্রচলিত স্বৈরাচারী নিয়মনীতির পরিবর্তন ও সুশাসনের নিশ্চয়তা বিধান অপরিহার্য। একনায়কতন্ত্র বা প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়, বরং অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্রই দেশের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারে। তাই সমাজের সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণের মাধ্যমে কল্যাণমুখী নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। গণতন্ত্র শুধু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নয়; বরং প্রতিদিনের শাসনব্যবস্থায় জনগণের মতামত ও অধিকার নিশ্চিত করাই প্রকৃত গণতন্ত্রের পরিচায়ক।

৫. জাতীয় আদর্শ বৈচিত্র্যের মাঝে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা এবং সর্বক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্তিমূলক সংস্কৃতির চর্চা ও বিকাশ সাধন করা। জাতীয় ঐক্যকে সুসংহত করার জন্য অন্তর্ভুক্তির সংস্কৃতি বিস্তৃত করতে হবে। বিভাজন নয়, বরং আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্রের সমস্যাগুলোর গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজতে হবে। কোনো বিশেষ শ্রেণি বা মতাদর্শকে প্রাধান্য দিয়ে বা বাদ দিয়ে রাষ্ট্র গঠনের প্রচেষ্টা কেবল নতুন প্রতিক্রিয়াশীলতার জন্ম দেবে। তাই সমাজের সব শ্রেণি ও সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে সবাই রাষ্ট্রের উন্নয়নের অংশীদার হতে পারে।

শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশ এসব পরিবর্তন বাস্তবায়নে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। শিক্ষা কেবল জ্ঞান অর্জনের জন্য নয়, বরং এটি যুক্তিবাদ, নৈতিকতা, সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক চেতনার বিকাশ ঘটায়। প্রতিক্রিয়াশীলতার মূল ভিত্তি হলো অজ্ঞতা, সংকীর্ণতা ও কুসংস্কার- যা কেবল শিক্ষার মাধ্যমে দূর করা সম্ভব। যদি জনশিক্ষা শুধু তথ্য প্রদানে সীমাবদ্ধ থাকে, তবে তা জাতির কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে পারবে না। বরং প্রয়োজন এমন এক শিক্ষাব্যবস্থা, যা নাগরিকদের বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা, মানবিক মূল্যবোধ ও সমাজ সংস্কারের আদর্শে গড়ে তুলবে। শুধু শক্তি প্রয়োগ করে নয়, বরং ন্যায়বিচার, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি এবং জনশিক্ষার প্রসারের মাধ্যমে একটি রাষ্ট্রকে টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। প্রতিক্রিয়াশীলতার অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আসতে হলে আমাদের মূল লক্ষ্য হতে হবে দূরদৃষ্টিসম্পন্ন রাষ্ট্রীয় নীতি ও সুসংগঠিত শিক্ষা-সংস্কৃতি গড়ে তোলা।

প্রতিক্রিয়াশীলতার ছায়াতলে কেবলই অন্ধকার। যে সমাজ প্রতিক্রিয়াশীলতার ছায়ায় পরিচালিত হয়, সেখানে স্বাধীন চিন্তা স্তব্ধ হয়, ন্যায়বিচার অবরুদ্ধ হয়, গণতন্ত্র বিপন্ন হয় এবং সংস্কৃতির বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। এ প্রতিক্রিয়াশীলতার পথে চললে সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে নেমে আসবে দুর্বিপাক। প্রতিহিংসা, প্রতিশোধ ও প্রতিক্রিয়ার বৃত্তে আবর্তিত হলে জাতি হিসেবে আমরা শুধু পিছিয়েই পড়ব না, আমাদের জাতীয় জীবনে সংকট আরও গভীর হয়ে দেখা দেবে। প্রতিক্রিয়াশীলতার জঞ্জাল সরিয়ে সত্যিকার উন্নয়নের পথ তৈরি করতে হলে শিক্ষা, সহিষ্ণুতা ও সুবিবেচনার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে জাতি প্রতিক্রিয়াশীলতার বদলে যুক্তিবাদ, গণতন্ত্র ও কল্যাণমুখী সংস্কৃতির পথে এগোয়, সেই জাতিই প্রকৃত উন্নতির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছায়। তাই রাষ্ট্রকে বর্তমান ত্রিশঙ্কু অবস্থা থেকে উত্তরণ করে সত্যিকার অর্থে এগিয়ে নিতে হলে প্রতিশোধ নয়, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও সামষ্টিক অগ্রগতির নীতিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। জাতীয় ঐক্য, গণতন্ত্র ও সুশাসনের ভিত্তিতে সবাইকে নিয়ে রাষ্ট্র বিনির্মাণই একমাত্র পথ, যাতে দেশ এগিয়ে যেতে পারে এক সমৃদ্ধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ভবিষ্যতের দিকে। বাংলাদেশও সেই পথে এগিয়ে যাবে প্রতিহিংসার নয়, ন্যায়ের পথে; প্রতিক্রিয়ার নয়, সুবিবেচনার পথে; সংকীর্ণতার নয়, উদারতার পথে। শিক্ষার আলো, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, সুশাসন ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে আমরা গড়ে তুলব এক সমৃদ্ধ, শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ যে দেশ কখনো পথ হারাবে না, বরং দুনিয়ার অন্যান্য জাতিগুলোর জন্য অগ্রগতির দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে।

লেখক : ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি, ইউনিভার্সিটি অব রোহ্যাম্পটন, যুক্তরাজ্য

Email: [email protected]

এই বিভাগের আরও খবর
সামাজিক ব্যবসা
সামাজিক ব্যবসা
রপ্তানি খাতে ধাক্কা
রপ্তানি খাতে ধাক্কা
ফিলিস্তিনের নাবলুস নগরী
ফিলিস্তিনের নাবলুস নগরী
জীবনজুড়ে রমজানের রেশ ধরে রাখুন
জীবনজুড়ে রমজানের রেশ ধরে রাখুন
ফুলচাষিদের স্বাস্থ্যঝুঁঁকি
ফুলচাষিদের স্বাস্থ্যঝুঁঁকি
রেমিট্যান্সে আশার আলো
রেমিট্যান্সে আশার আলো
ভোটের আলোচনা
ভোটের আলোচনা
বিমসটেক সম্মেলন
বিমসটেক সম্মেলন
ডিজিটাল সংস্কৃতি : ভার্চুয়াল উৎসব
ডিজিটাল সংস্কৃতি : ভার্চুয়াল উৎসব
শাওয়াল মাসের ছয় রোজার পুণ্য
শাওয়াল মাসের ছয় রোজার পুণ্য
ব্যাংককে বৈঠক, ঢাকা-দিল্লিতে গুঞ্জন
ব্যাংককে বৈঠক, ঢাকা-দিল্লিতে গুঞ্জন
এই সময়ের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ
এই সময়ের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ
সর্বশেষ খবর
আওয়ামী লীগের টাকার লোভে না পড়তে দলীয় নেতাদের হুঁশিয়ারি শামা ওবায়েদের
আওয়ামী লীগের টাকার লোভে না পড়তে দলীয় নেতাদের হুঁশিয়ারি শামা ওবায়েদের

১ ঘণ্টা আগে | রাজনীতি

প্রতিকূল পরিবেশেও খেলাপি ঋণ কমেছে
প্রতিকূল পরিবেশেও খেলাপি ঋণ কমেছে

১ ঘণ্টা আগে | বাণিজ্য

ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসনের প্রচেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না : গোলাম পরওয়ার
ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসনের প্রচেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না : গোলাম পরওয়ার

২ ঘণ্টা আগে | রাজনীতি

কালশী ফ্লাইওভারে গাড়ির সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ, দুই যুবক নিহত
কালশী ফ্লাইওভারে গাড়ির সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ, দুই যুবক নিহত

২ ঘণ্টা আগে | নগর জীবন

মিয়ানমারে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর নেতৃত্বে উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রম অব্যাহত
মিয়ানমারে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর নেতৃত্বে উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রম অব্যাহত

৩ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

মাদক নিয়ে দ্বন্দ্বে যুবককে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা
মাদক নিয়ে দ্বন্দ্বে যুবককে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা

৩ ঘণ্টা আগে | দেশগ্রাম

দেশে ফিরেছেন প্রধান উপদেষ্টা
দেশে ফিরেছেন প্রধান উপদেষ্টা

৩ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

ভালুকায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় বৃদ্ধ নিহত
ভালুকায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় বৃদ্ধ নিহত

৪ ঘণ্টা আগে | দেশগ্রাম

হাসিনার এক মন্তব্যে সংকটে মাদারগঞ্জের সমবায় সমিতি
হাসিনার এক মন্তব্যে সংকটে মাদারগঞ্জের সমবায় সমিতি

৪ ঘণ্টা আগে | দেশগ্রাম

এখনো ফাঁকা বন্দরনগরী
এখনো ফাঁকা বন্দরনগরী

৬ ঘণ্টা আগে | চট্টগ্রাম প্রতিদিন

৫ মিলিয়ন ডলারের ‘গোল্ড কার্ড’ ভিসা উন্মোচন করলেন ট্রাম্প
৫ মিলিয়ন ডলারের ‘গোল্ড কার্ড’ ভিসা উন্মোচন করলেন ট্রাম্প

৬ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

মাছ ব্যবসায়ীকে হত্যার পর গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু
মাছ ব্যবসায়ীকে হত্যার পর গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু

৬ ঘণ্টা আগে | দেশগ্রাম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদক বিরোধী মিছিল ও প্রতিবাদ সভা
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদক বিরোধী মিছিল ও প্রতিবাদ সভা

৬ ঘণ্টা আগে | দেশগ্রাম

ঐশ্বরিয়া আমার মেয়ে নয়, কেবল ছেলের বউ : জয়া বচ্চন
ঐশ্বরিয়া আমার মেয়ে নয়, কেবল ছেলের বউ : জয়া বচ্চন

৬ ঘণ্টা আগে | শোবিজ

বড় ভাইয়ের হাতে প্রাণ গেল ছোট ভাইয়ের
বড় ভাইয়ের হাতে প্রাণ গেল ছোট ভাইয়ের

৬ ঘণ্টা আগে | চট্টগ্রাম প্রতিদিন

মাদকসহ এয়ারপোর্টে আটক কানাডার অধিনায়ক
মাদকসহ এয়ারপোর্টে আটক কানাডার অধিনায়ক

৬ ঘণ্টা আগে | মাঠে ময়দানে

রাজশাহীতে মাছ ব্যবসায়ীকে হত্যার পর গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু
রাজশাহীতে মাছ ব্যবসায়ীকে হত্যার পর গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু

৬ ঘণ্টা আগে | দেশগ্রাম

ঈদের ছুটিতেও
ব্রাহ্মণবাড়িয়া মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে সেবা প্রদান
ঈদের ছুটিতেও ব্রাহ্মণবাড়িয়া মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে সেবা প্রদান

৬ ঘণ্টা আগে | দেশগ্রাম

‘প্রয়োজনে জোটগতভাবে নির্বাচন করবে এনসিপি’
‘প্রয়োজনে জোটগতভাবে নির্বাচন করবে এনসিপি’

৬ ঘণ্টা আগে | রাজনীতি

ট্রাম্পের শুল্ক বৃদ্ধিতে আইফোনের দাম হতে পারে ৩ লাখ টাকা
ট্রাম্পের শুল্ক বৃদ্ধিতে আইফোনের দাম হতে পারে ৩ লাখ টাকা

৬ ঘণ্টা আগে | টেক ওয়ার্ল্ড

খোলপেটুয়া নদীর ভেঙে যাওয়া বাঁধ মেরামত, এলাকায় স্বস্তি
খোলপেটুয়া নদীর ভেঙে যাওয়া বাঁধ মেরামত, এলাকায় স্বস্তি

৬ ঘণ্টা আগে | দেশগ্রাম

পর্দায় নয়, এবার সত্যিই বিয়ে করলেন শামীম হাসান সরকার
পর্দায় নয়, এবার সত্যিই বিয়ে করলেন শামীম হাসান সরকার

৭ ঘণ্টা আগে | শোবিজ

নিউইয়র্কে ‘বাংলাদেশের ঐতিহ্য উদযাপনী’ সমাবেশ
নিউইয়র্কে ‘বাংলাদেশের ঐতিহ্য উদযাপনী’ সমাবেশ

৭ ঘণ্টা আগে | পরবাস

ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ
ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ

৭ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

বগুড়ার কথিত মিনি জাফলং: স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে শিক্ষার্থীর প্রাণহানি
বগুড়ার কথিত মিনি জাফলং: স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে শিক্ষার্থীর প্রাণহানি

৭ ঘণ্টা আগে | দেশগ্রাম

গোপালগঞ্জে বিএনপি নেতাসহ ৪ জনকে পিটিয়ে আহত
গোপালগঞ্জে বিএনপি নেতাসহ ৪ জনকে পিটিয়ে আহত

৭ ঘণ্টা আগে | দেশগ্রাম

ড. ইউনূস-মোদি বৈঠক আশার আলো তৈরি করেছে: মির্জা ফখরুল
ড. ইউনূস-মোদি বৈঠক আশার আলো তৈরি করেছে: মির্জা ফখরুল

৭ ঘণ্টা আগে | রাজনীতি

তিন বন্ধু মোটরসাইকেলে ঘুরতে গিয়ে দুর্ঘটনা, একজন নিহত
তিন বন্ধু মোটরসাইকেলে ঘুরতে গিয়ে দুর্ঘটনা, একজন নিহত

৭ ঘণ্টা আগে | দেশগ্রাম

'জুলাই বিপ্লবের শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে জনগণ জামায়াতের প্রার্থীকে বিজয়ী করবে'
'জুলাই বিপ্লবের শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে জনগণ জামায়াতের প্রার্থীকে বিজয়ী করবে'

৭ ঘণ্টা আগে | চট্টগ্রাম প্রতিদিন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বাল্য বিয়ে বন্ধ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বাল্য বিয়ে বন্ধ

৭ ঘণ্টা আগে | দেশগ্রাম

সর্বাধিক পঠিত
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইলো বাংলাদেশ
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইলো বাংলাদেশ

১৪ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

নরেন্দ্র মোদিকে যে উপহার দিলেন প্রধান উপদেষ্টা
নরেন্দ্র মোদিকে যে উপহার দিলেন প্রধান উপদেষ্টা

১৩ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

ইরানে মার্কিন হামলার হুমকি অগ্রহণযোগ্য: রাশিয়া
ইরানে মার্কিন হামলার হুমকি অগ্রহণযোগ্য: রাশিয়া

১৮ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

প্রথম দফায় ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গা নিতে রাজি মিয়ানমার
প্রথম দফায় ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গা নিতে রাজি মিয়ানমার

৯ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

ড. ইউনূস-মোদির ৪০ মিনিটের বৈঠক, আলাপ হলো কী নিয়ে
ড. ইউনূস-মোদির ৪০ মিনিটের বৈঠক, আলাপ হলো কী নিয়ে

৮ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

ব্যাংককে ড. ইউনূস-মোদির বৈঠক
ব্যাংককে ড. ইউনূস-মোদির বৈঠক

১৫ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

ড. ইউনূস ও মোদির বৈঠক নিয়ে যা জানালেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব
ড. ইউনূস ও মোদির বৈঠক নিয়ে যা জানালেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব

৮ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ
ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ

৭ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

খুলনায় গ্রেনেড বাবুর বাড়িতে অভিযানে অস্ত্র উদ্ধার, আটক ৩
খুলনায় গ্রেনেড বাবুর বাড়িতে অভিযানে অস্ত্র উদ্ধার, আটক ৩

১৪ ঘণ্টা আগে | নগর জীবন

প্রতিশোধ নিল চীন, মার্কিন পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ৩৪% শুল্ক আরোপ
প্রতিশোধ নিল চীন, মার্কিন পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ৩৪% শুল্ক আরোপ

৯ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

পর্দায় নয়, এবার সত্যিই বিয়ে করলেন শামীম হাসান সরকার
পর্দায় নয়, এবার সত্যিই বিয়ে করলেন শামীম হাসান সরকার

৬ ঘণ্টা আগে | শোবিজ

বাংলাদেশ বিমসটেকের পরবর্তী চেয়ারম্যান
বাংলাদেশ বিমসটেকের পরবর্তী চেয়ারম্যান

১২ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

অভ্যুত্থানের সময় গ্রেফতার, সৌদিতে জেল খেটে দেশে ফিরলেন ১০ প্রবাসী
অভ্যুত্থানের সময় গ্রেফতার, সৌদিতে জেল খেটে দেশে ফিরলেন ১০ প্রবাসী

১১ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

ইউনূস-মোদি বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে: প্রেস সচিব
ইউনূস-মোদি বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে: প্রেস সচিব

১২ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

৫ মিলিয়ন ডলারের ‘গোল্ড কার্ড’ ভিসা উন্মোচন করলেন ট্রাম্প
৫ মিলিয়ন ডলারের ‘গোল্ড কার্ড’ ভিসা উন্মোচন করলেন ট্রাম্প

৬ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

ট্রাম্পের শুল্ক বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার পোশাকশিল্পে বড় ধাক্কা: নিউইয়র্ক টাইমস
ট্রাম্পের শুল্ক বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার পোশাকশিল্পে বড় ধাক্কা: নিউইয়র্ক টাইমস

১৭ ঘণ্টা আগে | বাণিজ্য

৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত এনসিপি: সারজিস
৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত এনসিপি: সারজিস

১০ ঘণ্টা আগে | নগর জীবন

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ

১১ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

দীর্ঘ ১৫ বছর পর বঞ্চিত কমিউনিটি নেতারা দাওয়াত পেলেন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে
দীর্ঘ ১৫ বছর পর বঞ্চিত কমিউনিটি নেতারা দাওয়াত পেলেন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে

১১ ঘণ্টা আগে | পরবাস

দুই দিন ধরে তুর্কি বিমানবন্দরে আটকা ২৫০ যাত্রী
দুই দিন ধরে তুর্কি বিমানবন্দরে আটকা ২৫০ যাত্রী

১০ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

একনজরে আজকের বাংলাদেশ প্রতিদিন (৪ এপ্রিল)
একনজরে আজকের বাংলাদেশ প্রতিদিন (৪ এপ্রিল)

১৯ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

আসিয়ান সদস্যপদের জন্য থাইল্যান্ডের সমর্থন চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা
আসিয়ান সদস্যপদের জন্য থাইল্যান্ডের সমর্থন চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা

১৪ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

শনিবার পর্যন্ত গরমের দাপট চলতে পারে
শনিবার পর্যন্ত গরমের দাপট চলতে পারে

২৩ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

‘যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন আয়োজন করা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার’
‘যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন আয়োজন করা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার’

১৬ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

নিষেধাজ্ঞায় পড়লেন মেসির দেহরক্ষী
নিষেধাজ্ঞায় পড়লেন মেসির দেহরক্ষী

১৮ ঘণ্টা আগে | মাঠে ময়দানে

শনিবার ঢাকায় আসছে আইএমএফের প্রতিনিধি দল
শনিবার ঢাকায় আসছে আইএমএফের প্রতিনিধি দল

১৪ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

ইউনূসের সঙ্গে মোদির বৈঠক প্রয়োজন ছিল: মির্জা আব্বাস
ইউনূসের সঙ্গে মোদির বৈঠক প্রয়োজন ছিল: মির্জা আব্বাস

৯ ঘণ্টা আগে | রাজনীতি

মিঠামইনে কৃষকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রহস্য
মিঠামইনে কৃষকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রহস্য

১৬ ঘণ্টা আগে | দেশগ্রাম

ঐশ্বরিয়া আমার মেয়ে নয়, কেবল ছেলের বউ : জয়া বচ্চন
ঐশ্বরিয়া আমার মেয়ে নয়, কেবল ছেলের বউ : জয়া বচ্চন

৬ ঘণ্টা আগে | শোবিজ

গ্রিনল্যান্ডকে এভাবে সংযুক্ত করা যায় না : যুক্তরাষ্ট্রকে ডেনমার্ক
গ্রিনল্যান্ডকে এভাবে সংযুক্ত করা যায় না : যুক্তরাষ্ট্রকে ডেনমার্ক

১১ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

প্রিন্ট সর্বাধিক
সুবিধাবাদী হাইব্রিডে অতিষ্ঠ বিএনপি
সুবিধাবাদী হাইব্রিডে অতিষ্ঠ বিএনপি

প্রথম পৃষ্ঠা

মুজিব ছিলেন বেপরোয়া
মুজিব ছিলেন বেপরোয়া

প্রথম পৃষ্ঠা

চলতি বছর টাইগারদের ৬ টেস্ট
চলতি বছর টাইগারদের ৬ টেস্ট

মাঠে ময়দানে

দেশের প্রযুক্তি খাতে বিপ্লব ঘটাবে স্টারলিংক
দেশের প্রযুক্তি খাতে বিপ্লব ঘটাবে স্টারলিংক

প্রথম পৃষ্ঠা

ধুঁকছেন পেট্রাপোলের ব্যবসায়ীরাও
ধুঁকছেন পেট্রাপোলের ব্যবসায়ীরাও

পেছনের পৃষ্ঠা

আজকের ভাগ্যচক্র
আজকের ভাগ্যচক্র

আজকের রাশি

দীর্ঘদিন ক্ষমতা আঁকড়ে রাখার চিন্তা করলে জনগণ মেনে নেবে না
দীর্ঘদিন ক্ষমতা আঁকড়ে রাখার চিন্তা করলে জনগণ মেনে নেবে না

নগর জীবন

রাজশাহী বিএনপিতে ত্রিধারা
রাজশাহী বিএনপিতে ত্রিধারা

নগর জীবন

হাসিনাকে চাইল বাংলাদেশ
হাসিনাকে চাইল বাংলাদেশ

প্রথম পৃষ্ঠা

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কে শঙ্কা
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কে শঙ্কা

পেছনের পৃষ্ঠা

কবির-মুসার বিরুদ্ধে এবার জালিয়াতির অভিযোগ
কবির-মুসার বিরুদ্ধে এবার জালিয়াতির অভিযোগ

নগর জীবন

ইলিশের দামে আগুন
ইলিশের দামে আগুন

পেছনের পৃষ্ঠা

আত্রাই নদীর চরে কুমড়াবাড়ি!
আত্রাই নদীর চরে কুমড়াবাড়ি!

পেছনের পৃষ্ঠা

মুখোমুখি সরকার-আইএমএফ
মুখোমুখি সরকার-আইএমএফ

প্রথম পৃষ্ঠা

‘মিনি জাফলংয়ে’ স্বাস্থ্যঝুঁকি
‘মিনি জাফলংয়ে’ স্বাস্থ্যঝুঁকি

নগর জীবন

নিশোর মুখে শাকিববন্দনা
নিশোর মুখে শাকিববন্দনা

শোবিজ

চলে যাচ্ছেন ম্যানসিটির ডি ব্রুইন
চলে যাচ্ছেন ম্যানসিটির ডি ব্রুইন

মাঠে ময়দানে

কলকাতার জার্সিতে ২০০ উইকেট
কলকাতার জার্সিতে ২০০ উইকেট

মাঠে ময়দানে

নতুন জীবনের খোঁজে মাহি
নতুন জীবনের খোঁজে মাহি

শোবিজ

বাছাইপর্ব টপকাতে প্রস্তুত নিগাররা
বাছাইপর্ব টপকাতে প্রস্তুত নিগাররা

মাঠে ময়দানে

মেয়েদের ২০৩১ বিশ্বকাপ যুক্তরাষ্ট্রে
মেয়েদের ২০৩১ বিশ্বকাপ যুক্তরাষ্ট্রে

মাঠে ময়দানে

অভিযোগে মোশাররফ করিমের জবাব
অভিযোগে মোশাররফ করিমের জবাব

শোবিজ

হচ্ছে বাম দলের বৃহত্তর জোট!
হচ্ছে বাম দলের বৃহত্তর জোট!

প্রথম পৃষ্ঠা

আমাদের সম্পর্কটা বড় ভাই-ছোট ভাইয়ের মতো
আমাদের সম্পর্কটা বড় ভাই-ছোট ভাইয়ের মতো

শোবিজ

চেলসির শীর্ষ চারের লড়াই
চেলসির শীর্ষ চারের লড়াই

মাঠে ময়দানে

১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গা ফেরত নেবে মিয়ানমার
১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গা ফেরত নেবে মিয়ানমার

প্রথম পৃষ্ঠা

জমজমাট বিনোদন কেন্দ্রগুলো
জমজমাট বিনোদন কেন্দ্রগুলো

পেছনের পৃষ্ঠা

নির্বাচনে অনিশ্চয়তা বাড়াবে জটিলতা
নির্বাচনে অনিশ্চয়তা বাড়াবে জটিলতা

প্রথম পৃষ্ঠা

প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে দ্রুত নির্বাচন
প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে দ্রুত নির্বাচন

প্রথম পৃষ্ঠা

এবার জনগণ ভোটাধিকার ফিরে পাবে
এবার জনগণ ভোটাধিকার ফিরে পাবে

প্রথম পৃষ্ঠা