দেশে স্বাস্থ্যসেবার দৈন্য এবং চিকিৎসার ওপর রোগীর আস্থাহীনতা কাটছে না। সরকারি হাসপাতালে অব্যবস্থাপনা তো আছেই, সেই সঙ্গে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা প্রকট। বেসরকারিতে উচ্চ ব্যয়, অপচিকিৎসার ভয় এবং প্রতারণার ফাঁদ। রাজধানীর বাইরে গড়ে ওঠেনি পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবাব্যবস্থা। অথচ স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের নামে সরকারি বরাদ্দ এবং দাতা সংস্থার আর্থিক সহায়তায় বড় বড় প্রকল্প নেওয়া হলেও সেসবের হরিলুট ও নয়ছয়ে পরিবর্তন আসেনি এ খাতে। জেলা-উপজেলা শহর থেকে হৃদরোগ বা স্ট্রোকের রোগী নিয়ে ছুটতে হয় ঢাকায়। হাতে গোনা সরকারি হাসপাতালের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও জায়গা পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। অগত্যা শরণাপন্ন হতে হয় বেসরকারি হাসপাতালের। সেখানে চিকিৎসা, পরীক্ষা- সবকিছুর জন্যই দিতে হয় চড়া দাম। এরা অধিকাংশই যেন রোগীর অসহায়তার সুযোগে সর্বস্বান্ত করার দোকান খুলে বসেছে। সেখানে আবার ফাঁদ পেতে থাকে দালাল চক্র। গবেষণায় দেখা গেছে, চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে দেশে ৬১ লাখ মানুষ প্রতি বছর দরিদ্রসীমার নিচে নেমে যাচ্ছে। এর মধ্যে বেশি খরচ হয় ওষুধে। ক্যান্সার, হৃদরোগ, লিভার ও কিডনির চিকিৎসায় নিঃস্ব হচ্ছে রোগী। যত দিন যাচ্ছে রোগের প্রকোপ ততই বাড়ছে। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে চিকিৎসা ব্যয়ও। বিশেষজ্ঞের মতে, স্বাস্থ্যবিমা ছাড়া চিকিৎসা ব্যয় মোকাবিলা কঠিন। আন্তর্জাতিক গবেষণা সূত্র জানায়, বাংলাদেশে ব্যক্তির চিকিৎসায় যে ব্যয় হয়, তার ৭৩ শতাংশ ব্যক্তিকেই বহন করতে হয়। সরকার বহন করে মাত্র ২৭ শতাংশ। এটা দুর্ভাগ্যজনক। এ পরিপ্রেক্ষিতে, সরকারি হাসপাতালে কার্যকর সেবা নিশ্চিত করা এবং ডায়াগনস্টিক সেবা নির্ভরযোগ্য করা অত্যাবশ্যক। বেসরকারি হাসপাতালে সেবার দাম ও মান নির্ধারণ করে টাঙিয়ে রাখা বাধ্যতামূলক করতে হবে। হাসপাতাল থেকে দালাল চক্র এবং দেশিবিদেশি ওষুধ কোম্পানির এজেন্টদের উচ্ছেদ করা অত্যন্ত জরুরি। এদের প্রলোভনে অনেক চিকিৎসক সেবাকে গলা কাটা ব্যবসায় পরিণত করতে প্রলুব্ধ হন। যার চরম মূল্য দিতে হয় রোগী ও তার স্বজনদের। এসব বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। জবাবদিহির সম্মুখীন করা হোক শীর্ষ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ থেকে শুরু করে চিকিৎসক ও সব স্বাস্থ্যকর্মীকে। দেশে চিকিৎসার ওপর রোগীর সংগত আস্থা তৈরি হোক।