কক্সবাজারের কুতুবদিয়ার বাজারে উঠেছে বাহারি সবজি। এ মৌসুমে সবজির ব্যাপক ফলন হওয়ায় বাজারে একেবারেই দাম কমেছে। এতে ক্রেতারা খুশি হলেও প্রকৃত কৃষক হতাশ। এদের উৎপাদিত সবজি হিমাগারের অভাবে সংরক্ষণ করাও যাচ্ছে না। ফলে উৎপাদন খরচ তুলতে না পারায় ক্ষতির মুখে পড়েছে কুতুবদিয়ার কৃষকেরা।
উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, কুতুবদিয়ার ৬টি ইউনিয়নে আবাদি জমির পরিমাণ প্রায় ৪ হাজার ৪শ ২৫ হেক্টর। এরমধ্যে বোরো ধান ১ হাজার ৭শ ৬৫ হেক্টর, আমন ধান ৩ হাজার ৮শ ৫০ হেক্টর ও আউশ ধান ১ হাজার ৭শ ৮০ হেক্টর জমি চাষ করা হয়। এছাড়াও শীতকালীন সবজি ১শ ৬৪ হেক্টর ও গ্রীস্মকালীন সবজি ১শ ৬ হেক্টর চাষ করা হয়। তারমধ্যে সবজি চাষী ৯শ ৪০ জনকে সরকারি অনুদান এবং ২ হাজার ৬শ জন চাষীকে সার ও ধান দেয়া হয়েছে।
এ দ্বীপে চাষকৃত সবজিগুলো হল বেগুন, ঢেড়স, মুলা, টমেটো, বাঁধাকপি, সীম, গাজর, আলু, করলা, মিষ্টিকুমড়া, লালশাক, পালংশাক, লাউ, ফুলকপি, বরববটি ইত্যাদি। এসব সবজির উৎপাদন ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় সকল ফসল বাজারে তুলতে হচ্ছে। ফলে কৃষকরা পাচ্ছে না ফসলের কাঙ্খিত দাম।
উপজেলার আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের কৃষক ফারুক উদ্দিন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, মুলা চাষ করে দাম না পাওয়ার কারণে ফেলে দিয়েছি। এ সময় মুলার দাম কেজিতে ২ টাকায় বিক্রি হয়। এতে তার ক্ষতি হয় প্রায় ৫০ হাজার টাকা।
বড়ঘোপ ইউনিয়নে কৃষক গিয়াস উদ্দিন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, তিনি টমেটো চাষ করেছিলেন। বীজ থেকে শুরু করে ফসল ঘরে তোলা পর্যন্ত যা খরচ হয়ে ছিলো, তার খরচও তুলতে পারেননি। মৌসুম শুরুতে সবজির দাম পেলেও পরে বিশাল ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এবার তিনি ঢেড়স ও তিতা করলা চাষ করেছেন। এতে ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা খরচ হলেও ফসল তোলার সময়ে দাম বেশি পাওয়ার আশা নেই।
তাদের দাবি, সংরক্ষণ করার ব্যবস্থা না থাকায় ফসল নিয়ে দুশ্চিন্তার শেষ নেই তাদের। এই উপজেলার মধ্যে একটি সরকারি বা বেসরকারি হিমাগার থাকলে এ সমস্যা পোহাতে হতো না।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, এ বছর অনেক বেশি সবজির চাষ হয়েছে। একসাথে অনেক সবজি বাজারে ওঠায় দাম কমেছে। যদি সবজিগুলো সংরক্ষণ করা যেত তাহলে কৃষক সবজির কাঙ্খিত দাম পেতে পারতো। যেহেতু দেশে সবজি সংরক্ষণের জন্য হিমাগার নেই। তাই এখানে হিমাগার করাও কঠিন। তবে, কৃষি নিয়ে কেউ নতুন কিছু করতে চাইলে উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর থেকে সহযোগিতা করা হবে।
বিডি প্রতিদিন/হিমেল