মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় তিন দশকের বেশি সময় ধরে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা জলদস্যু জিতু রাঢ়ীকে ধরতে তৎপর হয়েছে পুলিশ। নারায়ণগঞ্জ থেকে ভাড়াটে সন্ত্রাসী এনে আবারও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে সে। রাতে অস্ত্রসহ নৌপথে মহড়া দিয়ে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে তার বাহিনী।
গজারিয়া, নারায়ণগঞ্জ, চাঁদপুর ও কুমিল্লার নদীপথে ডাকাতি, খুন, চাঁদাবাজি, ভোটকেন্দ্র দখলসহ একাধিক অপরাধে সক্রিয় জিতুর দল। তার বাহিনীতে রয়েছে ছেলে মেহেদী, শাহাবুদ্দিন, চাচাতো ভাই মুরাদসহ একদল দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী, যারা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের জিম্মি করে রেখেছে।
২০১৫ সালে তৎকালীন এমপি মৃণাল কান্তি দাসের হাত ধরে আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ার পর আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে জিতু। নির্বাচনের সময় মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ভোটকেন্দ্র দখল, ব্যালট বাক্স ছিনতাই, প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালানো তার বাহিনীর নিয়মিত কাজ। গেল ইউপি নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোজাম্মেল হক খোকনের বাড়িতে একাধিকবার হামলা চালানো হয়। এছাড়া, উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে বিশাল শোডাউন ও ত্রাস সৃষ্টি করেছিল তারা।
জিতুর বিরুদ্ধে রয়েছে ২৯টি মামলা। যুবদল নেতা হারুন সরকারের পা কেটে নেওয়া, গৃহবধূ মমতাজ বেগম হত্যা, আলোচিত হালিম হত্যা, কিশোর সাগর হত্যা, চাঁদাবাজি, ধর্ষণচেষ্টা ও র্যাবের সঙ্গে গোলাগুলির মতো গুরুতর অপরাধের আসামি সে। প্রকাশ্যে কিশোরী অপহরণের চেষ্টা ও বাধা দেওয়ায় পরিবারের সদস্যদের কুপিয়ে জখম করার মতো ঘটনাও ঘটিয়েছে তার বাহিনী। মেঘনা ও গোমতী নদীসংলগ্ন মুন্সিগঞ্জ, চাঁদপুর, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জের সীমান্তবর্তী এলাকায় অপরাধ চালিয়ে এলেও কোনো থানাই সরাসরি দায় নিতে চায় না। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে জিতুর দল।
গজারিয়া থানায় ওসি আনোয়ার আলম আজাদ বলেন, নৌ ডাকাত ও জলদস্যুদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে পুলিশ। বাহিনীর প্রধান জিতু রাঢ়ী ও তার সহযোগীদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে। দ্রুতই জিতুকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে জানান থানার ভারপ্রাপ্ত এই কর্মকর্তা।
বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ