জীবনাচরণ জানতে পিঠে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার বসিয়ে সুন্দরবনের খালে আরও একটি লোনা পানি প্রজাতীর স্ত্রী কুমির অবমুক্ত করা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় বাগেরহাটের সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চরাপুটিয়া খালে ১২ বছর বয়সের ২০ কেজি ওজনের ৭ ফুট লম্বা এই কুমির অবমুক্ত করেন আইইউসিএন (আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ) সংঘের প্রকল্পের সমন্বয়কারী সারোয়ার আলম দীপু ও সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার মো. আজাদ কবির।
এ নিয়ে মাত্র ১১ মাসের মধ্যে সুন্দরবনের জলভাগে পাঁচটি কুমিরের পিঠে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার বসিয়ে অবমুক্ত করা হলো।
এর আগে, ২০২৪ সালের ১৩ মার্চ ও ১৬ মার্চে দুটি পুরুষ ও দুটি স্ত্রী প্রজাতির লোনা পানির কুমিরের শরীরে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার বসিয়ে সুন্দরবনের জলভাগের চারটি স্থানে অবমুক্ত করা হয়। ওই চারটি কুমিরের মধ্যে একটি অবমুক্ত করার পরপরই সুন্দরবন ছেড়ে ১৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ওই বছরের ১২ এপ্রিল বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার শৈলদাহ গ্রামের একটি মৎস্য ঘেরে আশ্রয় নিলে আটক করে আবারো সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হয়। স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার বসিয়ে সুন্দরবনের জলভাগে ছেড়ে দেওয়া ওই চারটি কুমির এখন বন অভ্যন্তরে রয়েছে।
বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) কাজী মোহম্মদ নূরুল করিম জানান, সুন্দরবনে এখন আর মিঠা পানি প্রজাতির কোনো কুমির নেই। লোনা পানির প্রজাতির কুমিরের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। কুমিরের প্রজন ক্ষমতাও কমে যাওয়ায় এই সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। এই অবস্থায় সুন্দরবনে লোনা পানির কুমিরের সংখ্যা বাড়াতে বন বিভাগ আইইউসিএনের সহয়তায় কুমির নিয়ে গবেষণা করা হচ্ছে।
কুমিরের জীবনাচরণ ও খাদ্যাভাস জানতে ২০২৪ সালের ১৩ মার্চ ও ১৬ মার্চ চারটি ও সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় আরও একটি কুমিরের পিঠে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার বসিয়ে সুন্দরবনের জলভাগে অবমুক্ত করা হয়েছে। স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার থেকে প্রাপ্ততথ্য কুমিরের জীবনাচরণ, খাদ্যাভাস ও প্রজনন সম্পর্কে আরও বেশি জানা যাবে। এর মধ্য দিয়ে কুমিরের প্রজনন বৃদ্ধি ও সুন্দরবনে কুমিরের সংখ্যা বাড়ানো সহজতর হবে বলে জানান তিনি।
বিডি প্রতিদিন/এমআই