নাটোরের গুরুদাসপুর ও সিংড়ার সীমান্তবর্তী দুই এলাকাবাসী আওয়ামী লীগ কর্মীর চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। শনিবার দুপুর ১২টায় সিংড়া উপজেলার সোনাপুর আঞ্চলিক সড়কে সোনাপুর গ্রামের আওয়ামী লীগ কর্মী মো. জিয়াউল হক জিয়ার (৪০) বিরুদ্ধে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
জিয়া ওই এলাকার মৃত মোবারক হোসেনের ছেলে।
ব্যবসায়ী আব্দুল হান্নান, আবু হানিফ, সেকেন্দার আলী জানান, আওয়ামী সরকারের শাসনামলে সোনাপুর ও কুমারখালী গ্রামের সাধারণ মানুষের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালিয়েছে জিয়াউল হক জিয়া। সরকার পতনের পরও চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তার নামে বিভিন্ন অপরাধমূলক অসংখ্য মামলা থাকার পরেও জামিনে মুক্তি পেয়ে এলাকায় ফিরে তাণ্ডব চালায়। তার ভয়ে গ্রামের কেউ সুখ-শান্তিতে বসবাস করতে পারে না।
অসহায়-নিরীহ পরিবারের কাছ থেকে এখনো বিভিন্ন সময় চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দেওয়া হলে মারপিট ও ভাঙচুর করে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। নারীদের প্রতিও হিংস্র আচরণ করার কারণে কোনো নারী বাড়ি থেকে নিরাপদে বাইরে বের হতে ভয় পায়। এসকল ঘটনার জন্যই তার বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করা হয়েছে।
মানববন্ধনে অংশ নিয়ে নাজিরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শামসুল হক বলেন, জিয়াউল হকের জুলুম-নির্যাতনে সাধারণ জনগণ অতিষ্ঠ। অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী জিয়া। তার ভয়ে এলাকার মানুষ বাড়ি থেকে বের হতেও ভয় পায়। বিভিন্ন মামলায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা গ্রেফতার করলেও জামিনে মুক্তি পেয়ে আবারও তাণ্ডব চালায়।
এ বিষয়ে জিয়াউল হক জিয়ার সাথে যোগাযোগ করার জন্য তার মোবাইল ফোনে কল দেওয়া হলে বন্ধ পাওয়া যায়।
সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসমাউল হক বলেন, নির্দিষ্টভাবে চাঁদাবাজি বা সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অভিযোগ এলাকাবাসী দিলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিডি প্রতিদিন/এমআই